কলকাতায় কোভিড বাড়ছে, তবু ভবানীপুরে ভোটের আগে সেফ হোম না খোলার পরামর্শ পুরসভার

রফিকুল জামাদার

কলকাতায় যে কোভিড (covid) বাড়ছে তা গত কয়েকদিনের স্বাস্থ্য বুলেটিনেই স্পষ্ট। কিন্তু এর মধ্যেই কলকাতা কর্পোরেশন শহরের কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে একটি রিপোর্ট তৈরি করেছে। পুরসভার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুব্রত রায়চৌধুরী সেই রিপোর্ট জমা দিয়েছেন প্রশাসকমণ্ডলীর প্রধান ফিরহাদ হাকিমের কাছে। তাতে বলা হয়েছে, পুজোর সময়ে বা তার পরে কোভিড সংক্রমণ রুখতে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন বা সেফ হোম খুলতে হতে পারে। তবে তা করতে হবে ৩০ সেপ্টেম্বর ভবানীপুর উপনির্বাচনের পরে।

পুরসভার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক যে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিমকে তার ১২ নম্বর পয়েন্টে এই কথা লেখা হয়েছে। অর্থাৎ ভবানীপুর উপনির্বাচনের আগে সেফ হোম বা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন খোলা যাবে না।
কলকাতা পুরসভার ৯টি বরোর ৪৭টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে গত ১৪ দিনে ১০ জনের বেশি করোনা আক্রান্ত হয়েছে। আর এই ৯টির মধ্যে ৮টি বরো দক্ষিণ কলকাতা এবং দক্ষিণ শহরতলির অন্তর্ভুক্ত। গত ২২ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। যে রিপোর্টের পরিসংখ্যান নিয়ে পুর প্রশাসনেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে খবর। এমনকি যে ওয়ার্ডগুলিতে এভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে সেখানে কনটেইনমেন্ট জোন করা যায় কিনা তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে।

এই রিপোর্টের ব্যাপারে কলকাতা পুরসভার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুব্রত রায়চৌধুরীর সঙ্গে দ্য ওয়ালের তরফে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে এই প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে। ফিরহাদ হাকিমও ফোন ধরেননি। তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তাও পরে আপডেট করা হবে এই প্রতিবেদনে।

ভবানীপুর বিধানসভায় কলকাতা কর্পোরেশনের আটটি ওয়ার্ড পরে। সেগুলি হল, ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪, ৭৭ এবং ৮২। রিপোর্ট অনুযায়ী ৭ নম্বর বরোর অন্তর্গত কেবল ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডেই কোভিড বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ভবানীপুর বিধানসভার বাকি সাতটি ওয়ার্ডে তেমন সংক্রমণের ঘটনা রয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ নেই। তাও ওই রিপোর্টে লেখা হয়েছে, সেফ হোম বা কোয়ারেন্টাইন সেন্টার খুলতে হলে উপনির্বাচনের পরেই খুলতে হবে।

এ ব্যাপারে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “নির্বাচন কমিশনও ভবানীপুর স্পেশাল নির্বাচন করাচ্ছে আর কলকাতা কর্পোরেশনও স্বাস্থ্যবিধি জারি করছে ভবানীপুর স্পেশাল। অনুপ্রেরণার ঠেলায় মানুষের জীবনই বিপন্ন হতে বসেছে। কোয়ারেন্টাইন কিংবা সেফ হোম তো মানুষের জরুরি প্রয়োজন এই মহামারী পরিস্থিতিতে। সেটাকে পিছনে রেখে ভোটকে প্রাধান্য দিচ্ছে প্রশাসন। এর চেয়ে অমানবিক আর কী হতে পারে”।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More