‘অজন্তা হাওয়াই,’ বলে মমতাকে জড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষ অনিল কন্যাকে, সিপিএম চুপ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূলের মুখপত্র ‘জাগো বাংলা’য় তাঁর কলম ধরাটাই বড় খবর ছিল বাংলার রাজনীতিতে। সিপিএমের প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক প্রয়াত অনিল বিশ্বাসের কন্যা ডঃ অজন্তা বিশ্বাসের ধারাবাহিক নিবন্ধের চতুর্থ তথা শেষ কিস্তি প্রকাশিত হয়েছে আজ শনিবার। অন্দরে তোলপাড় পড়লেও ‘জাগো বাংলা’য় অজন্তার কলম ধরা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে সিপিএম।

সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। সাংগঠনিক কাজে আপাতত তিনি কোচবিহারে রয়েছেন। সেখান থেকেই তিনি জানিয়ে দেন, এ ব্যাপারে কোনও প্রতিক্রিয়া তিনি দিচ্ছেন না।

ঘটনা হল, যবে থেকে অনিল-কন্যার লেখা প্রকাশিত হতে শুরু করেছে তবে থেকেই তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। দুটি নম্বরের একটিতে কোনও শব্দ নেই। অন্যটিতে ফোন করলেই বেজে উঠছে পরিষেবা সীমার বাইরে।

দলের তরফে অজন্তার লেখা নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া না দেওয়া হলেও, সমর্থকরা অনিল বিশ্বাসের মেয়ের তীব্র সমালোচনায় নেমেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। নীল-সাদা অজন্তা হাওয়াই চটির ছবি পোস্ট করে লেখা হয়েছে ‘অজন্তা হাওয়াই চটি (বিনা মন্তব্যে)। বলার অপেক্ষা রাখে না, রাজনীতিকদের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একমাত্র হাওয়াই চটি পরেন।

বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও অজন্তার লেখা নিয়ে চর্চা চলছে বাম সমর্থকদের মধ্যে। ফলে সিপিএম মুখ কুলুপ আঁটলেও জাগো বাংলায় অজন্তার কলম ধরা যে আলিমুদ্দিনকে আন্দোলিত করেছে এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই।

অজন্তার এই ধারাবাহিক লেখাকে ভূয়সী প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়। এদিন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী বলেন, “অন্য দল করলেও ওঁর বাবার সঙ্গে আমার দারুণ বন্ধুত্ব ছিল। ওঁকেও আমি অনেক দিন ধরে চিনি। আমি জানি, অজন্তা যদি কোনও বিষয় নিয়ে লেখেন তাহলে তা যথেষ্ট পড়াশোনা করেই লেখেন। খুবই বুদ্ধিমতী।” এখানেই থামেননি সুব্রতবাবু। তাঁর কথায়, “অজন্তা পড়শুনাতেও ভাল ছিলেন। শুনেছি বিশ্ববিদ্যালয়েও খুব ভাল পড়ান।” প্রসঙ্গত, অনিল-কন্যা পেশায় অধ্যাপিকা। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস পড়ান তিনি।

একটা জল্পনা তৈরি হয়েছিল, জাগো বাংলায় কলম ধরা নিয়ে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপকদের সংগঠন আরবুটার অজন্তার জবাবদিহি চাইতে পারে। যদিও তাতে জল ঢেলে দিয়ে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অল্পইতিহাসের অধ্যাপক তথা বাম ঘনিষ্ঠ সুস্নাত দাশ বলেছেন, “এটা শিক্ষকদের সংগঠন। যে কোনও সদস্য যেখানে খুশি কলম লিখতে পারেন। এটা তাঁর অধিকার। এ নিয়ে জবাব চাওয়ার অধিকার আমাদের নেই।”

ছাত্রজীবনে অজন্তা এসএফআই করতেন। প্রেসিডেন্সির পড়ুয়া ছিলেন তিনি। বহু বছর পর অজন্তাদের সময়েই প্রেসিডেন্সির ছাত্রসংসদ দখল করেছিল এসএফফআই। ভারতের ছাত্র ফেডারেশনের কলকাতা জেলা কমিটির সদস্যও ছিলেন তিনি। সিপিএমের এখন চর্চার বিষয় একটিই—কেন অজন্তা তৃণমূলের মুখপত্রে কলম ধরলেন।

প্রথম পর্ব যেদিন প্রকাশিত হয় সেদিন সিপিএমের অনেক নেতা ঘরোয়া আলোচনায় একটা বিষয় চাউর করে দিওয়েছিলেন। তা হল, অজন্তা নাকি এক সাংবাদিককে লেখা দিয়েছিলেন। একটি নিউজ পোর্টালে ছাপার জন্য তা দিয়েছিলেন তিনি। সেই সাংবাদিক জাগো বাংলাকে লেখাটি দিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু তা যে সত্যি নয় তা গত দু’তিন দিনে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। কারণ অজন্তার কলমে লিখেছেন, মমতা জননেত্রী। ভারতের মহিলা রাজনীতিকদের মধ্যে তিনিই অন্যতম সেরা।

এখন সিপিএম বুঝতে চাইছে, অজন্তার মন বদলের কারণ কী?

সিপিএমের কলকাতা জেলার এক নেতার কথায়, অজন্তার কয়েক মাস আগে কোভিড হয়েছিল। সেই সময়ে দলের তরফে কেউ তাঁর খোঁজ নেননি। অথচ ফোন করে খবর নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময়েই অজন্তার মানসিকতা অন্যদিকে মোড় নেয় বলে দাবি সিপিএমের ওই নেতার।

সব মিলিয়ে অজন্তার কলম নিয়ে যেমন তীব্র অস্বস্তিতে সিপিএম, তেমন তৃণমূলের ঠোঁটের কোণে হাসি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More