ব্ল্যাক ফাঙ্গাস আক্রান্তের খোঁজ বীরভূমে, চোখের অসুখে ভুগছেন বৃদ্ধা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার মধ্যেই কালো ছত্রাকের সংক্রমণ ছড়িয়েছে রাজ্যে। নানা জেলা থেকে সংক্রমিতের খোঁজ মিলছে। বৃহস্পতিবার বর্ধমানে একজনের শরীরে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। শুক্রবার বীরভূমে এক বৃদ্ধার শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ল। রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে তাঁর।

রামপুরহাট ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জামনাথুরা বিবি কালো ছত্রাকের সংক্রমণ মিউকরমাইকোসিসে আক্রান্ত। বুধবার রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে বৃদ্ধার শরীর থেকে নেওয়া নমুনা পরীক্ষা করে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের স্পোর বা রেণু পাওয়া যায়। ডাক্তাররা জানান, বৃদ্ধার ডায়াবেটিস ছিল। তাঁর চোখে সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

রামপুর হাসপাতালের সিএমওএইচ রবীন্দ্রনাথ প্রধান বলেছেন, ডায়াবেটিসের রোগীদের চট করে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ ধরে যাচ্ছে। মূলত করোনা চিকিৎসা চলছে বা কোভিড সারিয়ে উঠেছেন এমন রোগীরা সংক্রমিত হচ্ছেন বেশি। তাছাড়া ডায়াবেটিসের রোগী, করোনার কারণে রক্তে শর্করা বেড়ে গেলে বা অন্য কোনও রোগের চিকিৎসা হলে যেমন অঙ্গ প্রতিস্থাপন, ক্যানসার ইত্যাদিতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় বলে মিউকরমাইকোসিসের ঝুঁকি এইসব রোগীদের বেশি থাকে। স্টেরয়েডের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার থেকেও ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে। তাছাড়া দীর্ঘ সময় একটানা অক্সিজেন থেরাপিতে থাকলে ফাঙ্গাল ইনফেকশনের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

রবীন্দ্রনাথবাবু বলছেন, রাজ্যে যত জনের মিউকরমাইকোসিস ধরা পড়ছে তাঁরা বেশিরভাগই কোভিড সারিয়ে ওঠা রোগী বা ডায়াবেটিসের রোগী। আর রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকলে কালো ছত্রাকের সংক্রমণে চোখের অসুখ হতে দেখা যাচ্ছে। ফুসফুস, সাইনাস, মস্তিষ্কেও সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। কালো ছত্রাকের রেণু বা স্পোর যদি মস্তিষ্কে চলে গিয়ে সংক্রমণ ছড়ায় তাহলে তা প্রাণঘাতী হতে পারে। সে জন্য রোগের সামান্য লক্ষণ দেখলেই দ্রুত ডাক্তারের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া ভাল।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More