বীরভূমের নেতৃত্বে নগেন্দ্র, সঙ্গে আরও ৬ দুঁদে পুলিশ অফিসার ভোটের দায়িত্বে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পঞ্চায়েত ভোটে বড় গর্ব ছিল বীরভূমের অনেকের। সেবার উন্নয়ন রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল, তাই বিরোধীরা অনেকেই মনোনয়ন পেশ করতে যেতেই পারেননি। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফল ঘোষণা হয়েছে সিংহভাগ আসনে।

সেই বীরভূমে বিধানসভা ভোটে রাস্তায় কী পরিস্থিতি থাকে তা হয়তো দেখতে আগ্রহী নির্বাচন কমিশনও। আগেই বীরভূমের জেলা পুলিশ সুপার হিসাবে পাঠানো হয়েছে সিনিয়র আইপিএস অফিসার নগেন্দ্র ত্রিপাঠিকে। নন্দীগ্রামের বয়ালের বুথে মুখ্যমন্ত্রীর তোলা অভিযোগের মুখে পড়েও যিনি বিন্দুমাত্র টলে যাননি। সেই সঙ্গে ভোটের দায়িত্বে আরও ৬ জন অফিসারকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। এই ৬ জন অফিসার হলেন– তন্ময় মুখোপাধ্যায় সুমন কান্তি ঘোষ, নির্মলকুমার দাস, বিশ্বজিৎ নস্কর, মহম্মদ কুদরুৎ খোদা এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মহিষাদলের সিআই শীর্ষেন্দু দাস। এই ছ’জন পুলিশ অফিসারকে সুনিশ্চিত করতে হবে যে পঞ্চায়েত ভোটের মতো পরিস্থিতি যেন না হয়। সব ভোটার যেন শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট দিতে পারেন। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে কেউ যেন কোনও ভোটারকেই বাধা দিতে না পারেন।

শুধু এ বার নয়, ষোলো সালের ভোটের সময় থেকেই তৃণমূল বিরোধী সমস্ত রাজনৈতিক দল কমিশনের কাছে একটাই দাবি রেখেছে। তা হল, মানুষ যেন নিজের ভোট নিজে দিতে পারেন। তার পরেও ষোলো সালের বিধানসভা ভোটে বা উনিশের ভোটে ভোট লুঠ ও ছাপ্পার বিস্তর অভিযোগ উঠেছিল। এ ব্যাপারে বীরভূম কোনও সময়েই বিরোধীদের গুড বুকে থাকেনি। একদিকে তাঁরা অভিযোগ তুলে গিয়েছেন, অন্যদিকে প্রবল বিক্রমে জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল প্রবল বিক্রমে গুড় বাতাসা, চড়াম-চড়াম, পাচনের বারি, নকুলদানা গোছের নানা কেমিস্ট্রির কথা শুনিয়েছেন। তা আবার অনেকের হাসির খোরাক হয়েছে। কিন্তু সাংবিধানিক গণতন্ত্রের সব থেকে বড় এই প্রক্রিয়া সেখানে কতটা সুষ্ঠু ভাবে হয়েছে সেই প্রশ্ন থেকেই গিয়েছে।

এমন নয় যে তৃণমূল জমানাতেই বীরভূমের ভোট নিয়ে এতো অখ্যাতি। সেই ধারা শুরু হয়েছিল বাম জমানা থেকে। ২০০১ সাল, ২০০৬ সালের ভোটে বীরভূমে বল্গাহীন ছাপ্পার অভিযোগ উঠেছিল। এও অভিযোগ ছিল যে বিরোধী এজেন্টদের বহু বুথে বসতে দেওয়া হয়নি, বা তাঁরা সাহস করে বুথে বসেননি। সেই ধারা নব রূপে ফিরে আসে পরবর্তী জমানায়। সেই এক অভিযোগ এখন বামেদের মুখে।

তবে এবার একে তো বীরভূমে বুথের সংখ্যা বেড়েছে, তার উপর পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর মোতায়েন অতীতের সব রেকর্ডকে ছাপিয়ে গিয়েছে। তাঁদেরই পরিচালনার জন্য কমিশন এবার দুঁদে অফিসারদের পাঠালেন। তা ছাড়া অনুব্রত মণ্ডলকে মঙ্গলবার থেকে ভোটের পরের দিন সকাল পর্যন্ত নজরবন্দি রাখার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। অনুব্রত অবশ্য অবিচল। তিনি বলেছেন, এর পরেও খেলা হবে। তিনি মানুষকে কেমন গুড় বাতাসা, নকুলদানা খাওয়াচ্ছেন তা ওই চারজনও দেখবেন। ক্যামেরায় তুলে রাখবেন নিশ্চয়ই।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More