বেতন পাচ্ছিনা, বিহিত করুন, নাহলে মরার অধিকার দিন – চিঠি মুখ্যমন্ত্রীকে

পাঁচ মাস বেতন পাননি তারা। টেনেটুনেও আর চলছে না সংসার। একরাশ অভিমান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানালেন শ্রমদপ্তরের এসএলও কর্মীরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো:  দিনের পর দিন বেতন হচ্ছেনা তাঁদের। দারিদ্রে, অনিশ্চয়তায় দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে তাদের। সংসারের জোয়াল কাঁধে নিয়ে বাবা-মা স্ত্রী-সন্তানদের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ এবং অন্নসংস্থান না করতে পেরে একরকম অনাহারেই দিন কাটছে তাদের। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তারা আবেদন জানান – হয় বেতন দিন, নাহলে স্বেচ্ছামৃত্যুর অধিকার দিন।

করোনা আবহে বনগাঁর বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতের একাধিক শ্রমদপ্তরের এসএলও কর্মীরা গত পাঁচ মাস ধরে উপার্জনহীন। বেতনসহ কর্ম-নিশ্চয়তা প্রদানের আবেদন জানিয়েছেন তারা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। অন্যথায় তাদের স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতিটুকু যেন দেওয়া হয়, এ কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আছে লিখিত আবেদনপত্র পাঠান তারা। শুক্রবার দুপুরে প্লাকার্ড হাতে মিছিল করে বনগাঁর পোষ্ট অফিসে গিয়ে সেই আবেদন পত্র জমা দিয়ে এসেছেন ওই এসএলও কর্মীরা। একই আবেদন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন দুর্গাপুরের ৯০ জন এসএলও কর্মীও।

সারা রাজ্যে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার এইরকম কর্মী রয়েছেন। বনগাঁ মহকুমা অঞ্চলে রয়েছেন ৩৮ জন।দুর্গাপুরে সংখ্যাটা প্রায় ৯০। রাজ্য সরকারের সামাজিক সুরক্ষা যোজনা প্রকল্পে কাজ করতেন এরা। বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত অঞ্চলে স্থায়ীভাবে অসংগঠিত শ্রমিকদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে নির্মাণ, পরিবহন সহ ৬১ ধরনের পেশায় কর্মরত শ্রমিকদের নাম নথিভুক্তকরণের দায়িত্ব ছিল এই কর্মীদের । এর পাশাপাশি নিজস্ব অঞ্চলে সামাজিক সচেতনতা প্রচার প্রক্রিয়ার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন এই সব কর্মীরা।

কিন্তু সাম্প্রতিককালে অসংগঠিত শ্রমিকদের বিনামূল্যে সামাজিক সুরক্ষা দানের কথা ঘোষণা করে শ্রমদপ্তর। সেই ঘোষণার পর অসংগঠিত শ্রমিকেরা টাকা জমা বন্ধ করে দেন। এর ফলে উপার্জনও বন্ধ হয়ে যায় ওই এসএলও কর্মীদের। দীর্ঘ পাঁচ মাস বেতন না হওয়ার কারণে পরিবার নিয়ে সমস্যায় ভুগছিলেন তারা। তার উপর দেশের করোনা পরিস্থিতির ক্রম-অবনতি আর টানা লকডাউনে সংকট আরও বেড়েছে।

জেলাশাসক, মহকুমা শাসক, লেবার কমিশন, সব জায়গায় আবেদন করেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় নিরুপায় হয়েই আজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বেতন এবং কর্ম নিশ্চয়তা চেয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আবেদন করেছেন তারা। ভালোভাবে বাঁচার সেই শেষ চেষ্টাও যদি ফলপ্রসূ না হয়, তাহলে অন্ততপক্ষে স্বেচ্ছামৃত্যু বরণ করবার অধিকারটুকু যেম তাদের দেওয়া হয়, আবেদনপত্রে এমনটাই দাবি জানিয়েছেন ওই দুঃস্থ কর্মীরা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More