আমার সেজকাকু (ষোড়শ পর্ব)

সুদেব দে

সেজকাকুর সঙ্গে বিভিন্ন সময় বাড়িতে যে কথাবার্তা হত, গল্পগাছা হত, তার স্মৃতি নিয়েই তো আমার এই লেখা৷ আমার কাকা বলে বলছি না, নিজে এত গুণী ছিলেন, তবু অন্যলোকের প্রশংসা করতে কুণ্ঠাবোধ করতেন না সেজকাকু। লতাজি’র কথা তো আগেই বলেছি। আজ কথা বলব আরেক বাঙালিকে নিয়ে। তিনি আমাদের বাঙালিদের গর্ব সলিল চৌধুরী।

সলিল চৌধুরীকে নিয়ে কাকা বিভিন্ন সময়ে নানান কথা বলেছেন। তার মধ্যে যতটুকু আমার মনে আছে আপনাদের কাছে তুলে ধরব। দেখুন, আমি কোনও স্ট্যাটিসটিকাল লেখা লিখতে বসিনি। আমার সেজকাকুকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে যেটুকু আমার মনের মধ্যে আছে, ঠিক সেটুকুই আপনাদের সামনে তুলে আনব। সলিল চৌধুরীকে নিয়ে কথাপ্রসঙ্গে সেজকাকু বলেছিলেন, ‘যদিও সলিলবাবু বাঙালি, কিন্তু আমার সঙ্গে তাঁর আলাপ হয় বম্বেতেই।’ বিমল রায়ের পরিচালনায় ‘দো বিঘা জমিন’ নামে একটা হিন্দি ছবি হয়েছিল। সেই ছবিতে গান গাওয়ার সূত্রেই সেজকাকুর সঙ্গে মাননীয় সলিল চৌধুরীর আলাপ। সেজকাকুর চেয়ে বয়সে ছোট ছিলেন উনি, তার কাকাকে মান্নাদা বলতেন। সেজকাকু আবার কাউকেই চট করে নাম ধরে ডাকতেন না। উনি তাই ‘সলিল বাবু’ বলে ডাকতেন।
‘দো বিঘা জমিন’ ছবির সূত্রেই প্রথম আলাপ দুজনের। এই মানুষটার মধ্যে যে অসম্ভব প্রতিভা রয়েছে, তা সেজকাকু শুরু থেকেই বুঝেছিলেন। কীরকম প্রতিভা? সেজকাকু বলেছিলেন, “যখন আলাপ হল, তার পর থেকেই যাতায়াত শুরু হল দুজনের বাড়িতে। সেখানে একেকদিন সলিলবাবু একেকটা কবিতা লিখে পড়াতেন আমায়। শোনাতেন। আমি অবাক হয়ে যেতাম এটা দেখে, যে একজন নিখাদ গানের লোক কীকরে এমন কবিতা লেখে! তাছাড়া অন্যান্য ছবিতে কোথায় কী সুর করছেন সেসবও শোনাতেন আমায়। আমাদের সম্পর্কের মধ্যে সেই উদারতা ছিল। সলিল এমনই এক লোক, যে হয়তো মনে করত সাঙ্গীতিক দিকগুলো আমার সঙ্গে আলোচনা করা যায়। তার ঠিক-ভুল আমি দেখিয়ে দিতে পারব, সেই বিশ্বাস হয়তো তাঁর ছিল। আমি অবাক হয়ে যেতাম একটা লোকের এত প্রতিভা!” শৈলেন্দ্রজি’র কথায় সলিল চৌধুরীর একটা গান শুনেছিলেন কাকা ‘আরেহ তাক নাগিন নাগিন’, পরে সেজকাকু বলেছিলেন, “গানটা শুনে আমি অবাক হয়ে গেছিলাম। একজন বাঙালি হিন্দি গানে এইরকম সুর করছে! তখনই বুঝেছিলাম ও বহুদিন আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি শাসন করবে।আমি বাঙালি বলে গর্ববোধ করতাম সলিলের জন্য। এমন লোক খুঁজে পাওয়া ভার, যে একাধারে কবি, গীতিকার, আবার সুরকার।”
সম্ভবত কোনও এক পাহাড়ি অঞ্চলে বড় হয়েছিলেন সলিল চৌধুরী। আমার যেটুকু স্মৃতিতে আছে, কাকা বলেছিলেন, বিভিন্ন রকমের লোকসংগীত জানা ছিল সলিল বাবুর। লোকগীতি নিয়ে ভালোরকম চর্চাও ছিল। আমাদের দেশে লোকসংগীতের এমনিই বিপুল সম্ভার। কিন্তু তার পাশাপাশি ওয়েস্টার্ন ক্ল্যাসিকালেরও গভীর শ্রোতা ছিলেন সলিল চৌধুরী। শিখেওছিলেন। আমার গুরু সেজকাকু বলতেন, ‘বিভিন্ন সময় ওঁর গান শুনতে গিয়ে আমি অবাক হয়ে যেতাম। কী আশ্চর্য প্রতিভা সলিলের, সে ওই ফোক মিউজিকের সঙ্গে ওয়েস্টার্ন মিউজিক পাঞ্চ করে, পারমুটেশন-কম্বিনেশন করে এমন নোটস তৈরি করতেন, যা অভিনব এক সৃষ্টি হয়ে দাঁড়াত। বম্বে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিটাই যেন সলিলের সম্পর্শে আরও উন্নত রূপ পেল।’

মান্না দে-সলিল চৌধুরী রেকর্ডিং স্টুডিওতে

সলিলবাবুর সঙ্গে আমার কাকাবাবুর ঘনিষ্ঠতা যখন বাড়ল, সেসময় সলিল চৌধুরীর নেতৃত্বে গড়ে উঠল বম্বে ইউথ কয়্যার। কে না গান গাইতেন সেখানে! আসলে স্বাধীনতা পরবর্তী সেসময়ে সংগীতের মাধ্যমে সারা ভারতবর্ষকে এক করার, সংঘবদ্ধ করার প্রেরণা ছিল। কাকাদের বয়সও তখন কম, ব্যস্ততাও তুলনামূলকভাবে কম। সেসময় বম্বে ইউথ কয়্যারের জন্য একের পর এক অসাধারণ গান তৈরি হয়েছিল। সেজকাকু বলেছিলেন, ‘এত ভালো ভালো গান বানিয়েছিল সলিল, আমরা সবাই সমবেত হয়ে গাইতাম সেসব।’ তবে আস্তে আস্তে যা হয়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সবার ব্যস্ততাও বেড়ে যায়। তারপর সময়ের সাথেসাথে বম্বে ইউথ কয়্যারও ভেঙে যায়। সম্ভবত সেই ইউথ কয়্যারেরই সদস্য ছিলেন আমাদের শ্রদ্ধেয়া রুমা গুহ ঠাকুরতা। ওই গানের দল ভেঙে যাওয়ার পর উনি পরে সেটাকেই ক্যালকাটা ইউথ কয়্যার নামে রিফর্ম করেন, এবং দীর্ঘদিন ধরে চালিয়েছিলেন সেই দল। ওই সময় ‘ও ভাই রে ভাই মোর মতো আর দেশপ্রেমিক নাই’ কী অপূর্ব গান! সেই গানের কম্পোজিশন শুনলেই বোঝা যায়, একমাত্র সলিল চৌধুরীর পক্ষেই এমন জিনিস তৈরি করা সম্ভব।
সলিল চৌধুরীর সুরে বাংলাছবিতে সেজকাকুর গাওয়া অসংখ্য গানের মধ্যে যে গানগুলো উল্লেখ না করলেই নয়, তার অন্যতম ‘একদিন রাত্রে’ ছবির গান। ১৯৫৬ সালে ‘একদিন রাত্রে’ সিনেমায় সেজকাকু গাইলেন সেই অসাধারণ গান- ‘এই দুনিয়ায় ভাই সবই হয়/ভাই সবই হয়/ সব সত্যি’! এই গানে লিপ দিয়েছিলেন সর্বজনশ্রদ্ধেয় অভিনেতা ছবি বিশ্বাস। ছবি বিশ্বাস আবার আমার দাদুর বন্ধু ছিলেন। সেজকাকু বলেছিলেন, হঠাৎ করে একদিন স্টুডিওতে দেখা হয়ে গেছে ছবি বিশ্বাসের সঙ্গে। ছবি বিশ্বাস সেজকাকুকে ডেকে বলছেন, “মানা তুমি ওই গানটা কী দুষ্টুমি করে, কী বেলেল্লাপনা করে গেয়েছ বল তো! কী করে গাইলে অমন গান? আরেহ আমি তো লিপ দিতেই পারছি না।’ সেজকাকু বলছেন, “আমি তো লজ্জায় কুঁকড়ে গেছি। ছবি বিশ্বাসের মতো লোক, যারা আমাকে জন্মাতে দেখেছে প্রায়, তিনি বলছেন ‘এমন গানের মধ্যে তুমি অ্যাকটিং করেছ মাতলামির, আমি লিপ দিতে পারছি না।’ এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
‘কারণ অকারণের বেড়া’ একটা অপ্রকাশিত ছায়াছবির গান। এছাড়া ‘কবিতা’ সিনেমার ‘আমি তো কুমীর ধরে আনিনি’- এই দুটো গান বিশেষত যাঁরা শোনেননি তাঁরা বুঝতে পারবেন না কী ক্ষমতাধর, অপ্রতিদ্বন্দ্বী শিল্পী মান্না দে। আর কী অসাধারণ সুরকার গীতিকার সলিল চৌধুরী। বাংলা গানে এরকম কম্পোজিশন এই দুজনের যুগলবন্দি ছাড়া অসম্ভব।

সলিল চৌধুরী নিজেই একজন প্রতিষ্ঠান। তাঁর সুরে সেসময় হিন্দি ছবিতে পরপর অনেক গানই গেয়েছেন সেজকাকু। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১৯৫৩ সালে ‘দো বিঘা জমিন’ ছবিতে ‘ধরতি কাহে পুকার’, ১৯৬১ এ ‘কাবুলিওয়ালা’ ছবির ‘এয় মেরে প্যারে বতন’, ৬২ সালে ‘ঝুলা’ ছবির ‘এক সময় পর দো বরসাতে’-এটাও একটা অসাধারণ গান। তবে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়েছিল ১৯৭০ সালে ‘আনন্দ’ ছবির ‘জিন্দেগি ক্যায়সি হ্যায় পহেলি’। তাঁর বেশ কিছু বছর পর ১৯৭৭ সালে ‘মিনু’ ছবিতে ‘তেরি গলিওঁমে হাম আয়ে’, এটা সলিল চৌধুরীর কন্যা অন্তরা চৌধুরীর সঙ্গে ডুয়েট গান।
‘কাবুলিওয়ালা’ ছবিতে সেজকাকুর গাওয়া সেই গান ‘এয় মেরে প্যারে বতন’ আজও কী ভীষণ জনপ্রিয়, এত বছর আগের গাওয়া গান। কোনও গান গাওয়ার সময় কাকা সবসময় চেষ্টা করতেন সুরকারের কাছ থেকে, বা পরিচালক থাকলে, তাঁর কাছ থেকে গানের সিচুয়েশনটা বুঝে নিতে। কারণ প্লেব্যাকের অন্যতম বড় একটা দিক হল, তার সিচুয়েশন বুঝে সেইমতো গলাটাকে মডিউলেট করে গাইতে হয়। ‘কাবুলিওয়ালা’ ছবির ওই গানের চিত্রায়ণ তো বিখ্যাত। যাতে দেখানো হয়েছে এক আফগানি লোক, যে সারাদিন হিং বিক্রি করে দিনের শেষে ক্লান্ত হয়ে ওই গানটা গাইছে। যাতে কেউ বিরক্ত না হয়, তাই একটা নির্জন যায়গায় বসে নিজের দেশের কথা, ফেলে আসা মেয়ের কথা ভেবে রবাব বাজিয়ে গানটা গাইছে। গানটার মধ্যে একটা আফগানি ফিলিং ছিল, সেই অনুভবটা ধরে নিয়ে যখন স্টুডিওতে গানটা রেকর্ড করছেন সেজকাকু, তখন যিনি রেকর্ডিস্ট ছিলেন তিনি ঘাবড়ে গিয়ে সেজকাকুকে জিজ্ঞেস করেছিলেন “মান্নাদা আপনার গলা কি বসে আছে আজ!” এই রেকর্ডিস্ট সেজকাকার সঙ্গে আগেও অনেক কাজ করেছেন। কিন্তু তিনিও অবাক হয়ে গেছিলেন সেজকাকুর গলার ভয়েসের পরিবর্তন দেখে। আসলে ওই সিচ্যুয়েশনটাকে শুনে নিয়ে সেইভাবেই গানটা গেয়েছিলেন সেজকাকু৷ পরে সেই রেকর্ডিস্ট কাকাকে বলেছিল, “আপনি যে কত বড় ভার্সেটাইল সিঙ্গার তা আমি আগে বুঝতে পারিনি।”

সলিল চৌধুরী প্রসঙ্গে একটা কথা না বললে বিষয়টা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। সলিলবাবুর সুরে মালয়ালাম ‘চেম্মেন’ ছবিতে একটা গান ছিল ‘মানস মৈনিবড়ু মথুরম মুল্লিতরু।’ এই গানটা কিন্তু খুব হিট করেছিল। সারা কেরালায় অসম্ভব জনপ্রিয় ছিল, আর এমনভাবে গাওয়া হত যেন কোনও জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হচ্ছে। বহু পরে সেই একই সুরে সলিল চৌধুরী জেসুদাসকে দিয়ে একটা বাংলা গান গাইয়েছিলেন ‘নাম শকুন্তলা তার’। অরিজিনাল মালয়ালাম গানটা কিন্তু সেজকাকুর গাওয়া।

সলিল চৌধুরী সেজকাকুকে প্রায়ই বলতেন, ‘মান্নাদা, পরীক্ষানিরীক্ষা আমি যখন করি সুরের মধ্যে তখন পুরুষকণ্ঠ হিসাবে আপনাকে ছাড়া কাউকে ভাবতে পারি না। কারণ যাই করি, যত শক্ত কারুকাজই থাকুক না কেন আপনি ঠিক গেয়ে দেবেন আমি জানি।’ এটা আমার কথা নয়। স্বয়ং সলিল চৌধুরী বারবার বলেছেন একথা। উনি যখন এবাড়িতে এসেছেন বা আমার সঙ্গে যখন ওঁর আলাপ করিয়ে দিয়েছেন সেজকাকু, তখনও উনি বারবার বলেছেন, গায়ক হবে তো মান্না দে’র মতো হবে৷ বলতেন, “আমরা যতই সুরের মারপ্যাঁচ তৈরি করি না কেন, একমাত্র সিংগার যাকে কাবু করা যায় না, তিনি মান্নাদা।” এটাই একজন গায়কের বিরাট প্রাপ্তি- তাই না!

বাঁ দিক থেকে- লতা মঙ্গেশকর, সলিল চৌধুরী আর সেজকাকু মান্না দে

১৯৬০ সালে ‘গঙ্গা’ ছবিতে ‘উথালিপাতালি আমার বুক’ এই গানটা একটা ফোক ভাটিয়ালি স্টাইলের গান। এটা আমার সেজকাকু মান্না দে যে কী দক্ষতায় পরিবেশন করেছেন তা শ্রোতামাত্রেই জানেন। অনেকেই ভুল করেন এটা নির্মলেন্দু চৌধুরীর গাওয়া ভেবে। কিন্তু সলিল বাবু এটা সেজকাকুকে দিতে গাইয়েছিলেন। এছাড়া ১৯৭৩ সালে সলিলবাবুর সুরে ‘মর্জিনা আবদুল্লা’র ‘বাজে গো বীণা’ আর ‘ও ভাইরে ভাই’ এ তো খুবই বিখ্যাত গান।

সলিল চৌধুরী একদিন সেজকাকুকে ডেকে বললেন একটা শ্যামাসংগীত গাইতে হবে। সেই গান ‘কারণ অকারণের বেড়া’। ছবির নামটা ঠিক মনে পড়ছে না। ছবিটা সম্ভবত রিলিজও করেনি। কিন্তু যাঁরা গানটা শুনবেন অবাক হয়ে যাবেন। একজন সুরকার কত রিচ হলে, কত সংযম থাকলে এমন গান লেখা যায়! আর কত রসিক সুরকার হলে এমন গানে সুর দেওয়া যায়! আগাগোড়া টপ্পাঙ্গের গান আর কাকা যা গেয়েছেন সে তো বলে বোঝানো যায় না৷ তার অনেক পরে একদিন সলিল চৌধুরী সেজকাকুকে ফোন করে বললেন, “মান্না দা বাড়িতে আছেন? একটা গান গাইতে হবে আপনাকে। কিন্তু গানের সুরটা কিছুতেই জমে উঠছে না।” তো কাকা বললেন, চলে আসুন। তারপর কাকার বাড়িতে বসেই সুর দেওয়া হল সে গানে। আমরা গানের ছাত্র হিসাবে বলতে পারি যেভাবে ক্ল্যাসিক্যাল রাগ ভেঙে সুর করা হয়, সেভাবেই সুরটা করা হয়েছিল সেজকাকুর ওই গানে। কী অপূর্ব গান! ‘ব্যাপিকাবিদায়’ ছায়াছবির ‘কুয়াশা আঁচল খোলো ঊষসী ঊষা’… ছবিটা হয়তো তেমন জনপ্রিয় হয়নি, কিন্তু গানটার এককথায় তুলনা হয়না। যাঁরা গানের খোঁজখবর রাখেন তাঁরা জানেন এই গানটা কতটা মেলোডিয়াস, কতটা ক্ল্যাসিক্যাল-অঙ্গের গান এবং কতটা ভালো গান।
সেজকাকু একটা কথা প্রায়ই বলতেন। বলতেন, “সলিল হচ্ছে ট্যালেন্টের ডেফিনেশন। একটা লোক অমন স্ট্রং গান লিখতে পারে, আজেবাজে লেখা নয়, অমন অসাধারণ গান লিখতে পারে, ওমন সুর করতে পারে, অমন অর্কেস্ট্রেশন করতে পারে যে লোক তাঁকে নিয়ে আর কী বলল! তার পাশাপাশি নিজস্ব একটা স্টাইল, একটা সিগনেচার তৈরি করে ফেলেছিলেন সলিল।” তাঁর সুর করা গান যেই গাক না কেন, মন দিয়ে শুনলে ঠিক বোঝা যেত এটা সলিল চৌধুরীর গান। যেমন রবীন্দ্রনাথের গানের একটা নিজস্ব ঘরানা আছে, ঠিক তেমনই সলিল চৌধুরীর গানেরও একটা নিজস্বতা আছে। কাকা বলতেন, সলিল চৌধুরীর মতো কোনও সংগীতপ্রতিভা ভারতবর্ষে আর জন্মেছে কী না সন্দেহ! রবীন্দ্র-নজরুলকে বাদ দিলে সলিল চৌধুরীর মতো প্রতিভা বাঙালিদের মধ্যে আর জন্মাননি। আর একথা বলছেন কে? না, মান্না দে স্বয়ং। একটা জিনিস মেনশন করতেই হবে, সলিল চৌধুরীর কথায় এবং সুরে সেজকাকুর গাওয়া ‘ধন্য আমি জন্মেছি মা তোমার ধুলিতে’ আর ‘ মানব না এ বন্ধনে’ এই দুটি গান এক অনবদ্য সৃষ্টি। এখনও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এ গান গাওয়া হয়। স্কুলের ছেলেমেয়েরা পর্যন্ত এ গান করে। সলিলবাবুর যাদুর পাশাপাশি সেজকাকুর সেই অনবদ্য গায়কী- দুই মিলেমিশে এই গানগুলো আজও অন্তর স্পর্শ করে শ্রোতাদের।

ক্রমশ…

মেল যোগাযোগ – [email protected]

 

আমার সেজকাকু (পঞ্চদশ পর্ব)

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More