হাতির হানায় বনকর্মীর মৃত্যু ঝাড়গ্রামে, ভেষজ বাগানে ঢুকে পড়েছিল দাঁতালের দল

দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম: হাতির হানায় ঝাড়গ্রামে এবার মৃত্যু হল এক বনকর্মীর। মৃত বনকর্মীর নাম বুদ্ধদেব শবর (৪২)। তিনি ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের লোধাশুলি রেঞ্জের ফরেস্ট গার্ড পদে নিযুক্ত ছিলেন। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা নাগাদ ঝাড়গ্রাম ব্লকের আমলাচটি ভেষজ বাগানে হাতির হানায় জখম হয়েছিলেন তিনি। রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।

বন দফতর সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে চারটে হাতি আমলাচটি ভেষজ উদ্যানের বাগানে ঢুকে পড়ে। চারিদিক ঘেরা থাকায় সন্ধ্যা পর্যন্ত বেরোতে পারেনি তারা। সকাল থেকেই বনকর্মীরা নানানভাবে চেষ্টা করেন হাতিগুলিকে বের করার। সন্ধের সময় বাগানের গেট খুলে দিয়ে হাতিগুলিকে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে গিয়ে বিপদের মুখে পড়েন ওই বনকর্মী। গেটের সামনে গাছের আড়ালে চুপিসারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি হাতি আচমকা শুঁড়ে জড়িয়ে আছাড় মারে তাঁকে। রক্তাক্ত অবস্থায় দূরে ছিটকে পড়েন তিনি।

অন্যান্য বনকর্মীরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঝাড়গ্রাম হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁর ডান পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন বলে হাসপাতালে সূত্রে জানা যায়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালের সিসিইউতে স্থানান্তরিত করা হয় । সেখানেই রাত্রি দশটা নাগাদ মৃত্যু হয় ওই বনকর্মীর ।

রবিবার ভোরে শালবনী গ্রামপঞ্চায়েতের আমলাচটি সংলগ্ন বরিয়া গ্রামের বাসিন্দা পাড়ু মাহাত (৭৫) সাইকেল নিয়ে জঙ্গলে ফল কুড়োতে গিয়ে  হাতির আক্রমণের মুখে পড়েন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। এরপরেই উত্তেজিত গ্রামবাসীরা লোধাশুলি হয়ে ঝাড়গ্রাম ঢোকার পাঁচ নম্বর রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় দেড় ঘন্টা পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ উঠে। মৃত্যুর ১২ ঘন্টার মধ্যেই বরিয়া গ্রামে গিয়ে মৃতের পরিবারের হাতে ৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন রাজ্যের বন প্রতিমন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা।

হাতির হানায় প্রাণহানির পাশাপাশি ফসলের ক্ষতি ও বাড়ি-ঘর ভাঙায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিলেন লোধাশুলি রেঞ্জের বহু গ্রামের বাসিন্দা। সমস্যার সমাধান সূত্র বের করার জন্য সোমবার ১২টি গ্রামের গ্রামবাসীদের নিয়ে বৈঠক করেন ঝাড়গ্রামের এডিএফও।

কিছুদিন আগেই জামবনির আমলিয়া বিটে হাতির হানায় মৃত্যু হয় রুটু বাগাল( ৫০) নামে এক ব্যক্তির। ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের জঙ্গলে দলমার দল হাতি প্রায় সারা বছরেই থাকছে। ঝাড়গ্রাম ব্লকের শালবনি,বেদবহড়া,লোধাশুলি- সহ বেশ কিছু গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দারা হাতির হানায় অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন ।

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More