মুকুলের বিধায়ক পদ খারিজ চেয়ে কালই স্পিকারকে চিঠি শুভেন্দুর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার রাজভবনের গেটে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, বুধবার বিধানসভার অধ্যক্ষকে চিঠি দেবে বিজেপি পরিষদীয় দল। মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া মেনেই সেই চিঠি দেওয়া হবে। গতকাল তা হয়নি। কিন্তু বিধানসভার রিসিভ সেকশন বন্ধ থাকায় বৃহস্পতিবারও সেই কাজ করতে পারলেন না শুভেন্দু।

এদিন বিরোধী দলনেতা জানিয়েছেন, ‘মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ করার আবেদনের সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আজকে বিধানসভার রিসিভ সেকশন বন্ধ ছিল। শুক্রবার সকাল ১১টায় ফের বিধানসভায় যাওয়া হবে। যদি দেখা যায় কালও বন্ধ রয়েছে তাহলে অধ্যক্ষকে ই-মেল মারফত চিঠি পাঠানো হবে।’

গত শনিবারই শুভেন্দু বলেছিলেন, বাংলায় এবার দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রয়োগ করেই ছাড়ব। এ ব্যাপারে তিনি কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন, জানিয়েছিলেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক।

তারপর একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বিরোধী দলনেতা বলেছিলেন, ‘গণতন্ত্রে শিষ্টাচার বলে একটা ব্যাপার থাকে। আমিও বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলাম। উনি (পড়ুন মুকুল রায়) আমায় অনুসরণ করতে পারতেন। দেখতে ভাল লাগত।’

তৃণমূল জমানায় এমন অনেক বিধায়কই দল বদল করেছেন অতীতে। কখনও গাজলের সিপিএম বিধায়ক দীপালি বিশ্বাস তো কখনও বাঁকুড়ার কংগ্রেস বিধায়ক উন্নয়নের শরিক হতে তৃণমূলে সামিল হয়েছিলেন। এই প্রশ্নে গত সোমবার শুভেন্দু বলেছিলেন, ‘গত ১০ বছরে কোনও রাজনৈতিক দল প্রক্রিয়া মেনে আবেদন করেছিল কি না জানা নেই। কিন্তু বিজেপি নিয়ম মেনেই সবটা করবে।’ সেইসঙ্গে বিরোধী দল হিসেবে বাম-কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপির পার্থক্য বোঝাতে বলেছিলেন, “গত ১০ বছরের অন্য বিরোধী দলগুলির সঙ্গে বিজেপিকে গুলিয়ে ফেলবেন না।’

এদিকে শুভেন্দু যখন মুকুলের বিধায়ক পদ খারিজের জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন ওদিকে তৃণমূলও বসে নেই। গেরুয়া শিবিরের উপর পাল্টা চাপ তৈরি করতে লোকসভায় তৃণমূল দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লাকে তাগাদা দিচ্ছেন শিশির অধিকারী ও সুনীল মণ্ডলের সাংসদ পদ খারিজের ব্যাপারটা কত দূর এগোল?

তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ আবার বলেছেন, “শুভেন্দুর আগে উচিত তাঁর বাবা শিশির অধিকারীকে দলত্যাগ বিরোধী আইনের পাঠ দেওয়া।”

এখন দেখার কাল কখন বিধানসভার রিসিভ সেকশনে মুকুলের বিধায়ক পদ খারিজের আবেদন পত্র জমা দিতে পারেন শুভেন্দুরা। নাকি শেষ পর্যন্ত ই-মেলই করতে হয়!

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More