শুভেন্দু ফের শাহের দরবারে, ভোটের পর আড়াই মাসে তিনবার, একবারও যাননি দিলীপ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের ফল ঘোষণার পর এখনও তিন মাস হয়নি। এর মধ্যে তিনবার দিল্লি সফর সেরে ফেললেন বাংলার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার শুভেন্দু দেখা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে।

এদিন শাহের সঙ্গে দেখা করার পর শুভেন্দু বলেছেন, ‘বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা এখনও চলছে। বিরোধী দলনেতা হিসেবে আমি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেছি এবং তাঁকে গোটা পরিস্থিতির কথা জানিয়েছি।’

দিন দুয়েকের মধ্যেই দিল্লি যাবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করার সময় পেয়েছেন মমতা। দেখা করতে চান রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এবং বিরোধী নেতাদের সঙ্গেও। মমতা যখন দিল্লি যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছেন তখন এদিন হঠাৎই দিল্লিতে হাজির হলেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক।

যদিও এই সময়ের মধ্যে একাধিক বার দিল্লি গেলেও অমিত শাহ বা নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করেননি বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে পরিস্থিতি তুলে ধরা এবং সমন্বয় করার কাজটা শুভেন্দু কার্যত হাইজ্যাক করে নিয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকে। যা বাংলার বিজেপির অভ্যন্তরীণ সমীকরণে নতুন একটি দিক বলেই মত পর্যবেক্ষকদের অনেকের।

বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠিত কমিটি যে রিপোর্ট দিয়েছে তাতে রাজ্যের উপর চাপ বেড়েছে বলেই মত অনেকের। একাধিক থানার আইসি, জেলার পুলিশ সুপার, কমিশনারদের নাম রয়েছে কমিটির তালিকায়। বলা হয়েছে, আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি পুলিশ। কার্যত কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে পুলিশ কর্তাদের।

শুধু তাই নয়, তৃণমূলের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, নৈহাটির বিধায়ক পার্থ ভৌমিক, দিনহাটার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক উদয়ন গুহকে ‘নটোরিয়াস ক্রিমিনাল’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

যদিও গতকালই নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ভোট পরবর্তী হিংসা বলে বাংলায় কিচ্ছু হয়নি। যা হয়েছে সব ভোটের সময়ে আর তিনি শপথ নেওয়ার আগে। এই সময়ে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব ছিল নির্বাচন কমিশনের অধীনে। তাই তাঁর সরকারের কোনও দায়িত্ব নেই।

যদিও অনেকের মতে, সরকার তখন না-ই গঠন হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু পুলিশ কী করছিল? যে পুলিশ তখন ছিল তাঁরাই তো এখন রয়েছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ব্যাপারে প্রশাসনের কর্তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করতেই দিল্লি গিয়েছেন শুভেন্দু।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More