প্রমোশনে কোটার জন্যই কি নিয়োগ বন্ধ সরকারি চাকরিতে? খতিয়ে দেখবে সুপ্রিম কোর্ট

দ্য ওয়াল ব্যুরো : সরকারি চাকরিতে প্রমোশনে (Promotion) তফসিলী জাতি-উপজাতির কর্মীদের প্রমোশনে কোটা থাকার জন্যই কি বিভিন্ন দফতরে নিয়োগ বন্ধ আছে? এসম্পর্কে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে মতভেদ পোষণ করে বিভিন্ন রাজ্য। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখবে।

সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি এল নাগেশ্বর রাও, বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের এক বেঞ্চ কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে, প্রমোশনে সংরক্ষণ নিয়ে তাদের বক্তব্য জানাতে হবে। পাঁচ পাতার মধ্যে এক নোট পাঠিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলি জানাবে, এক্ষেত্রে তারা কী গাইডলাইন মেনে চলে। এই বিষয়ে ফের শুনানি হবে ৫ অক্টোবর।

সংবিধানের ১৬ এবং ১৬ (৪)(এ) ধারায় বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে সরকারি চাকরিতে প্রমোশনের ক্ষেত্রে সংরক্ষণ থাকবে। বিচারপতিদের বেঞ্চের কাছে প্রমোশনে সংরক্ষণ নিয়ে পিটিশন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার, বিভিন্ন রাজ্য, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, ব্যক্তি এবং সংগঠন। সব মিলিয়ে ১৩৩ টি পিটিশন জমা পড়েছে। আবেদনকারীদের বক্তব্য, প্রমোশনে সংরক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন হাইকোর্ট পরস্পরবিরোধী রায় দিয়েছে। সুতরাং সুপ্রিম কোর্ট এ বিষয়ে চূড়ান্ত মতামত জানাক।

কয়েকটি রাজ্য সরকার প্রমোশনে কোটা চালু করলেও হাইকোর্ট তা বাতিল করে দিয়েছে। কয়েকটি রাজ্যে আবার তফসিলী জাতি-উপজাতিদের জন্য প্রমোশনে কোটা রাখার অনুমতি দিয়েছে হাইকোর্ট। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সওয়াল করেন অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার ৪১০০ কর্মীকে অস্থায়ী প্রমোশন দিয়েছে। তাঁরা স্থায়ীভাবে প্রমোশন পাবেন কিনা, নির্ভর করছে এই মামলার রায়ের ওপরে। তবে কেন্দ্রীয় সরকার তফসিলী জাতি-উপজাতিদের জন্য প্রমোশনে সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখেনি।

বেণুগোপাল বলেন, বিভিন্ন হাইকোর্টের পরস্পরবিরোধী রায়ের জন্য কোটার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না। তাই ২৫০০ পদ খালি আছে। অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য, ২০০৬ সালে ভি নাগরাজ মামলায় প্রমোশনে সংরক্ষণ সম্পর্কে বিস্তারিত বলা হয়েছে। তার পরেও এসম্পর্কে বিভ্রান্তি দূর হয়নি।

২০০৬ সালের রায়ে সর্বোচ্চ আদালত বলেছিল, সরকার তফসিলী জাতি-উপজাতির কর্মীদের জন্য প্রমোশনে সংরক্ষণ করতে পারে। কিন্তু তার আগে রাজ্য সরকারকে যথেষ্ট তথ্য দিয়ে প্রমাণ করতে হবে, সরকারের বিভিন্ন উঁচু পদে ওই দুই সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজনীয়। ২০১৮ সালে পাঁচ বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত একটি বেঞ্চও একই রায় দেয়।

বেণুগোপাল বলেন, প্রমোশনে সংরক্ষণ নিয়ে যা বলার সবই সুপ্রিম কোর্ট বলেছে। তার পরেও মনে হচ্ছে, অনেকের বিভ্রান্তি দূর হয়নি। তাঁরা চান, শীর্ষ আদালত ওই রায় ব্যাখ্যা করুক।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More