কাবুলে মহিলা প্রতিবাদীদের ওপরে গুলি চালাল তালিবান

1

দ্য ওয়াল ব্যুরো : সম্প্রতি তালিবান (Taliban) ঘোষণা করেছে, সেকেন্ডারি স্কুলে মেয়েদের পড়ার অধিকার দেওয়া হবে না। তার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার কাবুলে এক সেকেন্ডারি স্কুলের সামনে জড়ো হয়েছিলেন ছ’জন মহিলা। তাঁরা দাবি জানাচ্ছিলেন, মেয়েদেরও স্কুলের উঁচু ক্লাসে পড়ার অধিকার দিতে হবে। গুলি চালিয়ে তাঁদের হটিয়ে দিয়েছে তালিবান রক্ষীরা।

বিক্ষোভের সময় মহিলারা একটি ব্যানার তুলে ধরেন। তাতে লেখা ছিল, ‘আমাদের কলম ভেঙে ফেলবেন না। আমাদের বইগুলো পুড়িয়ে দেবেন না। আমাদের সামনে স্কুলের দরজা বন্ধ করে দেবেন না।’ কিন্তু তালিবান রক্ষীরা ব্যানারটি মহিলাদের হাত থেকে কেড়ে নেয়। তারপর বিক্ষোভকারীদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। এক বিদেশি সাংবাদিক বিক্ষোভের ছবি তুলছিলেন। তাঁকে রাইফেলের বাঁট দিয়ে মারা হয়।

বিক্ষোভকারীরা ছিলেন ‘আফগান মহিলাদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন’ গোষ্ঠীর সদস্য। রক্ষীদের তাড়ায় তাঁরা আশ্রয় নেন স্কুলের ভেতরে। পরে রক্ষীরা বলে, আমাদের দেশেও বিক্ষোভ দেখানোর অধিকার আছে। কিন্তু আগে আমাদের এব্যাপারে জানানো উচিত ছিল।

বুধবার কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশরফ গৈরাট একটি ফরমান জারি করেছেন। তাতে বলা হয়েছে, পড়ুয়া হোক বা শিক্ষিকা বা শিক্ষাকর্মী, কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন থেকে আর কোনও মহিলা পা রাখতে পারবেন না। মহিলাদের সেখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ।

কেন এই ফরমান? উপাচার্য বলেছেন, ইসলাম সবার আগে। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে আগে ইসলামের যথার্থ আবহ তৈরি হতে হবে। তা না হলে মেয়েরা সেখানে ঢুকতে পারবে না। উল্লেখ্য কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উপাচার্য গৈরাট স্নাতক ডিগ্রিধারী। আর অবশ্যই তিনি ঘোর তালিবানপন্থী। তিনিই আফগানিস্তানে মেয়েদের স্কুল সম্বন্ধে বলেছিলেন সেগুলি আদৌ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, যৌনদাসী তৈরির কারখানা।

কাবুলের মসনদ দখল করার পর তালিবান বলেছিল তারা সকলের অধিকার সুরক্ষিত করবে। মেয়েরা নির্ভয়ে সেখানে চলাফেরা করতে পারবে। শরিয়া আইন মেনে দেশ চলবে বলে জানিয়েছিল তালিবান। মেয়েরা স্কুল কলেজ এমনকি চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়েও পড়াশোনা করতে পারবে বলা হয়েছিল। সেই মতো দেখা গিয়েছিল কলেজের ক্লাস শুরু হয়েছে আফগান মুলুকে। ছেলে ও মেয়েদের মাঝে পর্দা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এবার কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের প্রবেশই নিষিদ্ধ হয়ে গেল।

বৃহস্পতিবার জানা যায়, আফগানিস্তান থেকে হাজার হাজার মানুষ এখন পাড়ি জমাচ্ছেন প্রতিবেশী দেশগুলিতে। কারণ আফগানিস্তানে কোনও চাকরি নেই। কিন্তু অনেককে সীমান্ত পেরোতে বাধা দিচ্ছে তালিবান। রীতিমতো মারধর করে সীমান্ত থেকে হটিয়ে দেওয়া হচ্ছে তাঁদের।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.