দু’হাজার বছরের পুরানো গুপ্তধন নিখোঁজ, সন্ধান চালাচ্ছে তালিবান

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো : চার দশক আগে প্রত্নতত্ত্ববিদরা আন্দাজ করেছিলেন, আফগানিস্তানের (Afganistan) উত্তরে জাওয়াজোয়ান প্রদেশে বিপুল পরিমাণে ধনরত্ন লুকিয়ে রাখা আছে। ১৯৭৮ সালে শেরবেরগান জেলার তেলা তাপ্পা অঞ্চলে খননকার্য চালিয়ে ওই সম্পদ উদ্ধার করা হয়। পরে সেই ধনরত্ন নিয়ে আসা হয় কাবুলে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে। কিন্তু এর আগের আশরফ গনি সরকারের পতনের পরে সেই সম্পদের আর হদিশ পাওয়া যায়নি। এখন তালিবান সেই ধনরত্ন উদ্ধারের জন্য পূর্ণ শক্তি নিয়োগ করেছে। তালিবানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক জানিয়েছে, গুপ্তধন উদ্ধারের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিটি দফতর।

তালিবানের কালচারাল কমিশনের উপপ্রধান আহমদুল্লা ওয়াসিক বলেন, ঠিক কী পরিমাণে ধনরত্ন আছে, আমরা জানার চেষ্টা করছি। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছ’টি সমাধিক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে কয়েক হাজার সোনার গয়না। ১০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ১০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ওই সম্পদ সমাধিতে রাখা হয়েছিল। তার মধ্যে সোনা বাদে অন্যান্য মণিরত্নও আছে। ওই সম্পদ ব্যাকট্রিয়ান ট্রেজার বলে পরিচিত।

শনিবারই জানা যায়, পেন্টাগন স্বীকার করেছে, গত মাসে কাবুলে মার্কিন ড্রোন হানায় যাঁদের মৃত্যু হয়েছিল, তাঁরা কেউ জঙ্গি নন। তাঁরা হলেন সাধারণ মানুষ। মার্কিন সেন্ট্রাল কম্যান্ডের কম্যান্ডার জেনারেল কেনেথ ম্যাকেঞ্জি বলেন, মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে পাকা খবর ছিল, কাবুল বিমানবন্দর নিশানা করে সন্দেহভাজন আইএস সন্ত্রাসবাদীরা হামলা করবে। তাঁরা নিশ্চিত ছিলেন।  কিন্তু ভয়ঙ্কর ড্রোন হামলায় ঘটে গিয়েছে মারাত্মক ভুল, বলেছেন ম্যাকেঞ্জি। নিহতদের পরিবারবর্গের কাছে ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব লয়েড অস্টিন। বলেছেন, নিহতদের পরিবারের সদস্যদের গভীরতম সমবেদনা, শোক জানাচ্ছি। ক্ষমা চাইছি। এই ভয়াবহ ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করব আমরা। নিহতদের পরিবারগুলিকে কীভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায়, সরকার সেটা খতিয়ে দেখছে বলে জানান ম্যাকেঞ্জি।

তিনি জানান, ২৯ আগস্ট মার্কিন বাহিনী কাবুলের একটি জায়গায় একটি সাদা টয়োটা নজরে আসার পর ৮ ঘন্টা ধরে তার গতিবিধির ওপর নজরদারি চালায়। গোয়েন্দারা একটি লোকেশন চিহ্নিত করেন যেখান থেকে আইসিস সন্ত্রাসবাদীরা কাবুল বিমানবন্দরে হামলা চালাতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছিল। গোয়েন্দাদের দেওয়া তথ্যে ভরসা করেই মার্কিন বাহিনী সাদা টয়োটার দিকে নজর রাখছিল, যেটি সন্ত্রাসবাদী  গোষ্ঠীটি ব্যবহার করছিল বলে অভিযোগ। আমাদের স্বার্থের সঙ্গে  জড়িত একটি টার্গেটের  দিকে  গাড়িটি এগোচ্ছে দেখে আমরা সেটিকে চিহ্নিত করি। স্পষ্ট বুঝতে পারছি, গোয়েন্দা সূত্রের খবর ভুল ছিল।

যদিও আত্মরক্ষার্থে সেই মার্কিন অভিযান সমর্থন  করেছেন ম্যাকেঞ্জি।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.