দানিশ সিদ্দিকির পরিচয় জেনেই তাকে খুন করে তালিবান, রিপোর্ট মার্কিন পত্রিকায়

দ্য ওয়াল ব্যুরো : যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের ছবি তুলতে গিয়ে নিহত হন পুলিৎজার পুরস্কার বিজয়ী চিত্রসাংবাদিক দানিশ সিদ্দিকি। একসময় শোনা গিয়েছিল, ছবি তুলতে গিতে দু’পক্ষের গুলিবিনিময়ের মধ্যে পড়ে যান দানিশ। তখনই তাঁর মৃত্যু হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার একটি মার্কিন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, তিনি তালিবানের হাতে ধরা পড়েছিলেন। তাঁর পরিচয় সম্পর্কে নিঃসন্দেহ হওয়ার পরে জঙ্গিরা তাঁকে নৃশংসভাবে খুন করে।

৩৮ বছর বয়সী দানিশ গত ১৬ জুলাই কান্দাহার জেলার স্পিন বোলডাক অঞ্চলে নিহত হন। ‘ওয়াশিংটন এক্সামিনার’ পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী আফগান ন্যাশনাল আর্মির সঙ্গে স্পিন বোলডাক অঞ্চলে গিয়েছিলেন দানিশ। ওই অঞ্চলের অদূরেই রয়েছে পাকিস্তান সীমান্ত। রণকৌশলের দিক থেকে স্পিন বোলডাক অঞ্চলটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্য সেখানে তালিবান ও আফগান ন্যাশনাল আর্মির মধ্যে তীব্র যুদ্ধ চলছিল।

ন্যাশনাল আর্মির যে ইউনিটের সঙ্গে দানিশ ছিলেন, তারা কাস্টমস পোস্টের কাছে এসে তালিবানের প্রবল আক্রমণের মুখে পড়ে। ইউনিটটি দু’ভাগে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দানিশের সঙ্গে ছিলেন ইউনিটের কম্যান্ডার ও অল্প কয়েকজন সৈনিক। যুদ্ধের মধ্যে দানিশ একটি শার্পনেলের আঘাতে আহত হন। স্থানীয় একটি মসজিদের মধ্যে নিয়ে গিয়ে তাঁকে ফার্স্ট এইড দেওয়া হয়। মসজিদের মধ্যে একজন সাংবাদিক আছেন শুনে তালিবান জঙ্গিরা সেখানে ঢুকে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তালিবান যখন দানিশের সন্ধান পায়, তখনও তিনি জীবিত ছিলেন। তাঁর পরিচয় জেনে তালিবান তাঁকে খুন করে। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে ন্যাশনাল আর্মির কম্যান্ডার ও অপর সৈনিকরা খুন হন।

আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সিনিয়ার ফেলো মাইকেল রুবিন লিখেছেন, দানিশের যে ছবিটি সবচেয়ে বেশি প্রচারিত হয়েছে, তাতে দেখা যায়, তাঁর মুখটি অক্ষত রয়েছে। কিন্তু তিনি ভারত সরকারের সূত্রে পাওয়া আর একটি ফটোগ্রাফ দেখেছেন। সেই ছবি দেখে মনে হচ্ছে, তালিবান দানিশের মাথায় আঘাত করেছিল। এছাড়া তাঁর সারা শরীরে ছিল বুলেটের ক্ষত।

মার্কিন পত্রিকায় বলা হয়েছে, তালিবান দানিশকে মারতেই চেয়েছিল। মারার পরে তাঁর দেহ যেভাবে বিকৃত করা হয়েছে, তাতে বোঝা যায়, তারা যুদ্ধের আন্তর্জাতিক রীতিনীতি মানে না।

রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের ছবি তোলার জন্য ২০১৮ সালে পুলিৎজার পান দানিশ। এছাড়া তিনি আফগানিস্তানের যুদ্ধ, হংকং-এর আন্দোলন এবং পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপের আরও কয়েকটি বড় ঘটনার ছবি তুলেছেন।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More