সেনাবাহিনীর সঙ্গে ইমরানের বিরোধ মিটল, নতুন আইএসআই প্রধান হলেন আনজুম

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো : নভেম্বরে পাকিস্তানের গোয়েন্দা বাহিনীর (ISI) নতুন প্রধান হচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল নাদিম আনজুম। মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের অফিস থেকে বিবৃতি দিয়ে একথা জানানো হয়েছে। বর্তমানে আইএসআইয়ের শীর্ষ পদে রয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফৈয়াজ হামিদ। তিনি আগামী মাসে অবসর নেবেন।

ইমরান খানের অফিস থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে, ইন্টার সার্ভিস ইনটেলিজেন্সের ডিরেক্টর জেনারেল হিসাবে লেফটেন্যান্ট জেনারেল নাদিম আহমেদ আনজুমের নিয়োগকে প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন করেছেন। আগামী ২০ নভেম্বর তিনি ওই পদে নিযুক্ত হবেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফৈয়াজ আহমেদ আইএসআইয়ের শীর্ষ পদে থাকবেন ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত।

প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে কয়েকটি টুইট করে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার সকালে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান কামার জাভেদ বাজওয়া ইমরানের সঙ্গে দেখা করেন। আইএসআইয়ের শীর্ষ পদে কাকে নিয়োগ করা হবে, তা নিয়ে দু’জনের মধ্যে আলোচনা হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক থেকে গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ পদের প্রার্থী হিসাবে কয়েকজনের নাম পাঠানো হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান তাঁদের মধ্যে থেকে আনজুমকে বেছে নেন।

১৯৮৮ সালে সেনাবাহিনীর চাকরিতে যোগ দেন আনজুম। একসময় তিনি করাচিতে সেনাবাহিনীর ফিফথ কোরের প্রধান ছিলেন। পরে তিনি কুররাম এজেন্সিতে সেনাবাহিনীর একটি ব্রিগেডকে পরিচালনা করেন।

আইএসআইয়ের শীর্ষ পদে নিয়োগ নিয়ে সেনাবাহিনী ও সরকারের মধ্যে তিন সপ্তাহ ধরে বিরোধ চলছিল। গত ৬ অক্টোবর সেনাবাহিনী ঘোষণ করে, আইএসআইয়ের বর্তমান প্রধান ফৈয়াজ হামিদ পেশোয়ার কোরের কম্যান্ডার হবেন। তাঁর জায়গায় গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ পদে নিয়োগ করা হবে আনজুমকে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে আনজুমের নিয়োগ নিয়ে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তখন থেকেই গুজব ছড়িয়ে পড়ে, গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ পদে নিয়োগ নিয়ে সেনাবাহিনী ও অসামরিক প্রশাসনের বিরোধ চলছে।

১২ অক্টোবর তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরি বলেন, আইএসআইয়ের শীর্ষ পদে নিয়োগ করার অধিকার আছে একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ওই পদে নিয়োগ করতে হয়। প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের ঐকমত্যের ভিত্তিতে আইএসআইয়ের নতুন প্রধানকে নিয়োগ করা হবে।

পরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, জেনারেল বাজওয়ার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সম্পর্ক যথেষ্ট বন্ধুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও অসামরিক প্রশাসনের মধ্যে কোনও বিরোধ নেই। আইএসআইয়ের ডিজিকে কীভাবে নিয়োগ করা হবে, তা নিয়ে পাকিস্তানের সংবিধান বা সেনা আইনে কিছু বলা হয়নি। নিয়মমতো সেনাবাহিনী ওই পদে তিনটি নাম প্রস্তাব করে। তার মধ্যে একজনকে বেছে নেন প্রধানমন্ত্রী।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.