ফ্রান্স থেকে ভারতে এল আরও তিনটি রাফায়েল বিমান

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ‘কিছুক্ষণ আগেই ফ্রান্স থেকে তিনটি রাফায়েল বিমান এসে পৌঁছেছে। ফ্রান্সের ইসত্রেস বিমানঘাঁটি থেকে বিমানগুলি যাত্রা শুরু করে। মাঝা আকাশেই তাতে জ্বালানি ভরে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। আমরা সেজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ বুধবার সন্ধ্যায় এমনই টুইট করে ভারতীয় বায়ুসেনা। একটি সূত্রে জানা যায়, বায়ুসেনার রাফায়েল জেটের দ্বিতীয় স্কোয়াড্রনের অন্তর্ভুক্ত হবে নতুন তিনটি বিমান। জুলাইয়ের শেষে পশ্চিমবঙ্গের হাসিমারায় বায়ুসেনার ঘাঁটি থেকে সেগুলি কাজ শুরু করবে।

এর আগে যে রাফায়েল বিমানগুলি এসেছিল, সেগুলি আম্বালায় বায়ুসেনার ঘাঁটি থেকে কাজ করছে। আপাতত পূর্ব লাদাখে ও অন্যত্র চিন সীমান্তে নজরদারি চালানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে তাদের। ২০১৬ সালে ৩৬ টি রাফায়েল জেট বিমান কেনার জন্য ফ্রান্স সরকারের সঙ্গে চুক্তি করে ভারত। বিমানগুলির দাম ৫৯ হাজার কোটি টাকা।

সম্প্রতি ফরাসি তদন্তমূলক সাংবাদিকতার ওয়েবসাইট ‘মিডিয়াপার্ট’-এ প্রকাশিত হয়ে, ফ্রান্সে রাফায়েল নিয়ে তদন্ত করার জন্য নিযুক্ত হয়েছেন একজন বিচারক। অভিযোগ, ভারতের সঙ্গে রাফায়েল চুক্তিতে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণ হয়েছিল। অভিযোগের গুরুত্ব বিচার করে এসম্পর্কে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ফ্রান্সে। একথা জানাজানি হওয়ার পরে ভারতেও তদন্তের দাবি তোলে কংগ্রেস। তাদের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরই তদন্তের ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া উচিত। সরকার যৌথ সংসদীয় কমিটি তৈরি করুক। সেই কমিটি তদন্ত করে দেখুক, রাফায়েল চুক্তিতে কোথাও অনিয়ম হয়েছে কিনা।

কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, “রাফায়েল চুক্তিতে যে দুর্নীতি হয়েছিল, তা এখন পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। ফরাসি সরকার এসম্পর্কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। এতদিনে বোঝা গেল কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীর অবস্থান সঠিক ছিল।”

সুরজেওয়ালা বলেন, রাফায়েল চুক্তির সঙ্গে দেশের সম্মান ও নিরাপত্তার প্রশ্নটি জড়িত। তাই যৌথ সংসদীয় কমিটির তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

গত এপ্রিলে ফরাসি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়, রাফায়েল ডিলে অর্থ পেয়েছে এক সন্দেহভাজন মধ্যস্থতাকারীর কোম্পানি। তাঁকে ২০১৯ সালেই গ্রেফতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেট।

ফরাসি সংবাদমাধ্যমে স্পষ্ট বলা হয়েছে, রাফায়েল যুদ্ধবিমানের নির্মাতা সংস্থা দাসো এভিয়েশান একসময় দেফসিস সলিউশনস নামে এক সংস্থাকে ১০ লক্ষ ইউরো অর্থাৎ প্রায় ৮৬২ কোটি টাকা দিয়েছিল। দেফসিস এভিয়েশানের মালিক হলেন এক মিডলম্যান। এই ধরনের বেহিসেবি অর্থ লেনদেনের বিরুদ্ধে কঠোর আইন আছে ফ্রান্সে। এখন দাসো এভিয়েশয়ানকে ব্যাখ্যা করতে হবে, কেন তারা দেফসিস সলিউশানকে ওই অর্থ দিয়েছিল।

ফরাসি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দাসো এভিয়েশনের হিসাবপত্র অডিট করে জানা যায়, ২০১৬ সালে ভারতের সঙ্গে রাফায়েল চুক্তি সই হওয়ার পরেই দাসো ওই মিডলম্যানকে ১০ লক্ষ ইউরো দিতে সম্মত হয়। ওই মিডলম্যানের বিরুদ্ধে অপর একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে টাকা তছরুপের অভিযোগ আছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More