অন্তত ৭০টি বাঘ শিকারের অভিযোগ নিয়ে ধরা পড়ল বাংলাদেশের এক কুখ্যাত ‘বাঘ’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ থেকে নয়, সেই দু’দশক আগে থেকে বাঘ মারছে সে। একটা-দুটো নয়, মেরেছে ৭০টি বাঘ! এত দিন ধরে তন্নতন্ন করে তাকে খুঁজেও ধরা যায়নি। অবশেষে সাফল্য পেল পুলিশ। গ্রেফতার হল বাংলাদেশের মোস্ট ওয়ান্টেড চোরা শিকারি হাবিব তালুকদার ওরফে ‘বাঘ হাবিব’।

পুলিশ জানিয়েছে, কয়েক দিন আগে বাংলাদেশের বাগেরহাটের সোনাতলা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাকে। তাকে আদালতে তোলা হলে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারপতি। ৭০টি বাঘ মেরে পাচার করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বণ্যপ্রাণী পাচার-সহ একাধিক ধারায় মোট ন’টি মামলা রুজু হয়েছে।

জানা গেছে, গত এক বছরে হাবিবকে ধরতে অন্তত চারবার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ ও বন দফতর। কিন্তু, প্রতিবারই সে আগে থেকে টের পেয়ে চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে যেত’। সম্প্রতি আরও একবার গোপন সূত্রে বাঘ হাবিবের খবর পান তদন্তকারীরা।

সূত্রের খবর, শুক্রবার গভীর রাতে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামে পৌঁছে যায় পুলিশ। সেখানেই বাড়ি হাবিবের। বাড়ির কাছ থেকেই গ্রেফতার করা হয় তাকে।

বাংলাদেশের অপরাধীদের যে তালিকা, তার ওপরের দিকেই নাম রয়েছে হাবিব তালুকদারের। সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকাতেই বেড়ে ওঠা তার। ছোট থেকে জঙ্গলে যাওয়ার সুবাদে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ অংশ তার হাতের তালুর মতো চেনা। সে একা নয়, তার গোটা পরিবারই বাঘশিকারে অভিযুক্ত। তার এক ছেলে ও জামাইও চোরা শিকারি বলে জানা গিয়েছে। হাবিব নিজে সেকালের বিখ্যাত দস্যু কদম আলী তালুকদারের ছেলে।

এত বছর পরে কুখ্যাত চোরা শিকারির গ্রেফতারিতে খুশি সে দেশের বন্যপ্রাণ কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশ ও বন দফতরের কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিক সহযোগিতা করার জন্যই ‘বাঘ হাবিব’ এতদিন ধরা ছোঁয়ার বাইরে ছিল। এবার কড়া শাস্তি হোক তার, দাবি করেছেন সকলেই।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More