ত্রিপুরা বিজেপিতে দল ভাঙার আতঙ্ক, অচেনা নম্বরের ফোন এড়ানোর পরামর্শ

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ত্রিপুরায় (tripura) ধারাবাহিক কর্মসূচি শুরু করেছে তৃণমূল (tmc)। বাংলার নেতাদের পাশাপাশি কংগ্রেস থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে যোগ দেওয়া প্রয়াত প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সন্তোষ মোহন দেবের মেয়ে সুস্মিতা দেবও ত্রিপুরার মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছেন। রোজ চলছে যোগদান। এই পরিস্থিতিতে সতর্কতামূলক প্রচারে নামল বিজেপি (bjp)।

লঞ্চেও টোকেন! মেট্রোর ধাঁচে ‘স্মার্ট’ হচ্ছে ফেরিঘাট, শুরু চলতি মাসেই

কী সতর্কতা?

ত্রিপুরা বিজেপির আইটি সেল ধারাবাহিক ক্যাম্পেইন শুরু করেছে। ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে প্রচার। তাতে বলা হচ্ছে, অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসছে? জানতে চাওয়া হচ্ছে রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তর? খুব সাবধান। খবরদার এইরকম ফোন এলে বেশি কথা বলবেন না। ওরা কিন্তু ভয়ঙ্কর!

ওরা কারা?

ত্রিপুরা বিজেপির বক্তব্য, ওরা আইপ্যাক। প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা। ওরা ফোন করে তথ্য জানতে চাইছে।

ত্রিপুরায় তৃণমূল-বিজেপি সংঘাত শুরু এই আইপ্যাক নিয়েই। গত মাসে ২৩ জন আইপ্যাক কর্মীকে হোটেলবন্দি করে রাখা, কোভিড বিধি ভাঙার জন্য মহামারী আইনে মামলা দায়ের করা, তা নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগরতলা ছুটে যাওয়া –এসব নিয়েই ত্রিপুরার মাটিতে পা জমাতে শুরু করে তৃণমূল। বিজেপি মনে করছে, ওই ঘটনার পর থেকে আইপ্যাক অন্য পন্থা নিয়েছে। আর লোক পাঠাচ্ছে না। তবে ফোন নম্বর জোগার করে তারা ‘গ্রাউন্ড সার্ভে’ করতে চাইছে। ত্রিপুরার মন বুঝতে চাইছে।

যদিও ত্রিপুরার তৃণমূলের বক্তব্য, মানুষকে বিভ্রান্ত করতেই এসব কথা বলছে বিজেপি। এমন কোনও ফোন দলের তরফে বা আইপ্যাকের তরফে করা হচ্ছে না। একদা ত্রিপুরা কংগ্রেসের নেতা সুবল ভৌমিক বলেছেন, আসলে বিজেপি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তাই এসব পেট বানানো গল্প ছড়িয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করিতে চাইছে।

যদিও বিজেপির এক নেতার বক্তব্য, তাঁদের হাতে প্রমাণ রয়েছে। সিপাহীজলার এক বিজেপি কর্মীর কাছে ফোন যায়। তাঁকে সরকারি চাকরি, বিপ্লব দেবের সরকারের ভূমিকা, সিপিএম জমানা ও এই জমানার বিভিন্ন তুলনামূলক প্রশ্নের জবাব চাওয়া হয়। জানতে চাওয়া হয় তৃণমূল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে প্রশ্নও। সেই ফোন কলের রেকর্ড দলের কাছে দেন ওই কর্মী। তারপরই এই প্রচারে নেমেছে ত্রিপুরা বিজেপি।

সেইসঙ্গে দলের সাংগঠনিক সভাতেও বুথ স্তরে তৃণমূলের ব্যাপারে ম্যান মার্কিংয়ের পরিকল্পনা নিয়েছে বিজেপি। সূত্রের খবর, ত্রিপুরা বিজেপির পর্যবেক্ষক বিনোদ সোনকর গত মন্থন বৈঠকে নির্দেশ দিয়েছেন, প্রতি বুথে দু’জন কর্মীকে দায়িত্ব দিতে হবে যাঁরা শুধু তৃণমূল ও বিরোধী দল সিপিএমের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে দলকে রিপোর্ট দেবেন। তৃণমূল কী করছে, তাদের প্রচারের কৌশল কী ইত্যাদি প্রভৃতি। তবে আপাতত অজানা ফোন নিয়েই প্রচারকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.