প্রতিবাদী জমায়েত ভেবে বিয়ের মণ্ডপ উপড়ে ফেলল পুলিশ! মুহূর্তে তোলপাড় আয়োজন

ভুল বুঝতে পারার পরেও ক্ষতিপূরণ দেওয়া দূরের কথা, ন্যূনতম ক্ষমাও চায়নি পুলিশ।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়েবাড়ি উপলক্ষে বাঁধা হয়েছিল মণ্ডপ। বহু লোকজনও জড়ো হয়েছিলেন স্বাভাবিক ভাবেই। চ্যাঁচামেচিও হচ্ছিল বেশ। আচমকা পুলিশবাহিনী এসে তোলপাড় করে দিল গোটা অনুষ্ঠান। উপড়ে ফেলল মণ্ডপ, এলোপাথাড়ি ধাক্কায় সরিয়ে দিল সকলকে। শনিবার উত্তরপ্রদেশের বিজনৌর এলাকার এই ঘটনায় পুলিশের এমন আচরণের কারণ কী!

সূত্রের খবর, অত বড় জমায়েত দেখে পুলিশ ভেবেছিল নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে নতুন করে কোনও বড় বিক্ষোভ অবস্থান হচ্ছে হয়তো। শাহিনবাগের মতোই কিছু শুরু হতে চলেছে বলে আশঙ্কা করেছিল পুলিশ। আর সেই আশঙ্কা থেকেই তড়িঘড়ি ‘জমায়েত’ ভাঙার সিদ্ধান্ত নেয় তারা।

বাড়ির কর্তা, পাত্রীর বাবা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বিয়ে ছিল মেয়ের। সে জন্যই শনিবার থেকে প্যান্ডেল বাঁধা হয়েছিল বাড়ির পাশেই খালি জায়গায়। নিজেরই জমিতে প্যান্ডেলটি করেছিলেন তিনি। লোকজনও আসতে শুরু করে। অনেকেই ছিলেন প্যান্ডেলে। বহু উপহারও রাখা ছিল। আচমকা পুলিশ এসে দাবি করে, অনুমতি ছাড়া কেন প্যান্ডেল বাঁধা হয়েছে ওখানে।

“আমি কিছু বলার আগেই প্যান্ডেল খুলতে শুরু করে ওরা। বারবার বলছিল, বিনা অনুমতিতে প্রতিবাদ করা যাবে না। কীসের অনুমতি, কীসের প্রতিবাদ, বুঝতেই পারছিলাম না আমরা। অনেক পরে বুঝি, পুলিশ ভেবেছে আমরা সিএএ-র প্রতিবাদে জমায়েত করছি। ততক্ষণে যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে।”– বলেন পাত্রীর বাবা।

তাঁর আরও অভিযোগ, এর পরে নিজেদের ভুল বুঝতে পারে তারা। কিন্তু বুঝতে পারার পরেও ক্ষতিপূরণ দেওয়া দূরের কথা, ন্যূনতম ক্ষমাও চায়নি তারা। এমনকি প্যান্ডেল নতুন করে তৈরি করতে কোনওরকম সাহায্যও করেনি।

পুলিশ জানিয়েছে, তাদের কাছে নির্দেশ ছিল প্রশাসনিক অনুমতি ব্যতীত কোথাও কোনও প্রতিবাদী-জমায়েত করা হলে বাধা দিতে হব। প্যান্ডেল খাটিয়ে লোকজন জড়ো হচ্ছে দেখে তারা ভাবেন, দিল্লির শাহিনবাগের আদলে ধর্নায় বসতে চলেছেন প্রতিবাদীরা। তখনই সিদ্ধান্ত হয় প্যান্ডেল খুলে নেওয়ার।

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.