জলবন্দি কলকাতা-জেলা, আজও হাওড়া শাখার ট্রেন পরিষেবায় বিঘ্ন, দুর্ভোগে লক্ষ মানুষ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাইকপাড়া থেকে পাশকুড়া, বেহালা থেকে ব্যান্ডেল, সালকিয়া থেকে শ্যামনগর—কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলার বস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। কোথাও ভেসে গিয়েছে বাড়ির একতলা, কোথাও রাস্তায় এক কোমর জল। কয়েক লক্ষ মানুষ জলবন্দি হয়ে চূড়ান্ত দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। এদিন ব্যহত হাওড়া ডিভিশনের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব শাখা।

কারশেডের জল না নামায় হাওড়ায় ট্রেন ঢুকছে না। হাওড়া-বর্ধমান মেইন লাইনে ট্রেন যাচ্ছে বালি পর্যন্ত। তাও অনিয়মিত। দেড়ঘণ্টা-পৌনে দু’ঘণ্টা অন্তর একটি করে ট্রেন আসছে। তাতে যা ভিড় তা দেখলে কেউ বলবেই না কোভিড পরিস্থিতি চলছে।

দশকের সেরা বৃষ্টিতে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হয়েছে কলকাতা-সহ সংলগ্ন জেলায়। একই পরিস্থিতি দুই মেদিনীপুর, বর্ধমানেও। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত ভাসছে। নিচু এলাকাগুলির অবস্থা শোচনীয়। উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব কলকাতা, হাওড়া কর্পোরেশনের বিস্তীর্ণ অংশ কার্যত জলের তলায়। বিভিন্ন এলাকায় তীব্র হচ্ছে পানীয় জলের সঙ্কট।

হাওড়া কর্পোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে জলের তলায়ু গোটা ওয়ার্ড অথচ পুরসভার দেখা নেই। জল নিকাশি ব্যবস্থা ঠিক করে জল নামানোর ক্ষেত্রে কোনও প্রশাসনিক উদ্যোগই দেখা যাচ্ছে না।

হাওড়া শহরের বহু এলাকায় বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছেন মানুষ। সর্বত্রই প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন স্থানীয়রা। পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা, পাঁশকুড়ার বিভিন্ন এলাকার অবতশাও তথৈবচ। পাঁশকুড়া পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডে একটি মাটির বাড়ি শুক্রবার রাতে ভেঙে পড়ে। ওই বাড়িতে বসবাস করতেন এক বৃদ্ধা, তাঁর বৌমা ও নাতি। মূলত জলনিকাশি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে জল জমে যায় এবং ওই মাটির বাড়িটি ভেঙে পড়ে। বাড়িটি ভেঙে পড়ার সময় বৃদ্ধা মহিলা বেরিয়ে এলেও তাঁর ১২ বছরের নাতি ওই ঘরের মধ্যে চাপা পড়ে যায়।স্থানীয়দের সহায়তায় ১২ বছরের নাতিকে উদ্ধার করা হয় তবে হালকা চোট পেলেএই মুহূর্তে সুস্থ আছে সে।

এদিন রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, “কলকাতা লন্ডনের বদলে ভেনিস হয়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী দিল্লি গেলেন আর এখানে সব ভেসে গেল। কলকাতার প্রাক্তন মেয়র জেলে না থাকলেও কলকাতাকে বাঁচাতে পারলেন না। অন্যকে দোষ না দিয়ে কিছু করে দেখানো দরকা।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More