সন্ত্রাসের কথা জানাতে লাইন পড়ল সল্টলেকে, শুনছে মানবাধিকার কমিশন

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা সরেজমিনে দেখতে এসেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দল। তাঁরা একাধিক দলে ভাগ হয়ে রাজ্যের জেলায় জেলায় গত কয়েক দিন ধরে ঘুরেছেন, সন্ত্রস্ত এলাকায় গিয়ে মানুষজনের সঙ্গে কথাও বলেছেন। কিন্তু তারপরেও বোধহয় তাঁরা মনে করেছেন, সবটা এভাবে হবে না। বরং কোথাও একটা শিবির করে বসে মানুষকে আসতে বললে অনেক বেশি অভিযোগ সম্পর্কে জানা যাবে।

গতকালই কমিশন জানিয়েছিল, সোমবার সকাল আটটা থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভের সিআরপিএফ ক্যাম্পে তাঁরা বসবেন। দেখা গেল কমিশন যেমনটা ভেবেছিল, তেমনটাই হল। ভোট পরবর্তী হিংসার কথা জানাতে বহু মানুষের লাইন পড়ে গেল সল্টলেকের সিআরপিএফ দফতরে।

বৃদ্ধ থেকে তরুণী, কারও কোলে দুধের শিশু—সকলেই ছুটে এলেন কমিশনের কাছে তাঁদের নিদারুণ অবস্থার কথা জানাতে। বিজেপি-সহ বিরোধীরা বারবার অভিযোগ করছিল, জেলায় তো বটেই কলকাতার উপকণ্ঠেও ২ মে-র পর থেকে নির্মম সন্ত্রাস চালাচ্ছে শাসকদল। এদিন নিউটাউনের গৌরাঙ্গপুর থেকে সল্টলেকে এসেছিলেন বৃদ্ধ স্বপন সমাদ্দার।

তিনি নিজের কথা বলতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে কেঁদে ফেলেন। বলেন, তাঁর ছেলে বিজেপি করত। ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকেই তিনি ঘরছাড়া। চার বছরের সন্তান রয়েছে। কিন্তু ফিরতে পারছে না। তিনি এও বলেন, তাঁর বাড়িতে হামলা হয়েছে। রাস্তায় মুদিখানার জিনিস নিতে বের হলেও তাঁকে হেনস্থা করা হচ্ছে।

যাদবপুরের বাসিন্দা স্বপন নাইয়া বলেন, খাস কলকাতার বুকে বাড়ি-ঘর ভেঙে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাড়িতে থাকতে পারছি না। মানবাধিকার কমিশনের কাছে এসেছি পরিস্থিতির ভয়াবহতার কথা জানাতে।

অনেকের মতে, সন্ত্রস্ত এলাকায় কমিশনের প্রতিনিধিদের কাছে সবটা অনেকে খুলে বলতে পারছেন না। সে কারণেই কলকাতায় শিবির করে অভিযোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মানবাধিকার কমিশন। এখানে বলে রাখা ভাল, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এসেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দল।

বিজেপি বারবারই অভিযোগ করছে বাংলায় ৩৫৬ ধারা প্রয়োগের জন্য যে পরিস্থিতির দরকার হয় তার চেয়েও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি। যদিও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি দল বাংলায় আসুক আদালতে তার বিরোধিতা করেছিল রাজ্য। কিন্তু হাইকোর্ট রাজ্যের আপত্তিকে কার্যত খারিজ করে দেয়।

রাজীব জৈনের নেতৃত্বে এই দলগুলি বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেরিয়েছে কয়েকদিন ধরে। আক্রান্তদের সঙ্গে কথা বলা, তথ্য সংগ্রহের কাজ করার পর দুটি ফোন নম্বর (৮৮২৬৭০৫৯০৬, ৮৭৯৯৭১২২৫৯) ও একটি ইমেল আইডি ([email protected]) দিয়ে মানবাধিকার দল জানিয়েছে এখানেও অভিযোগ জানানো যাবে।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.