‘মেয়র করা হবে কিনা, দল জানে আর ঈশ্বর জানেন’, বললেন মালা

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা পুরসভায় দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদ সামলাচ্ছেন এরপরের ‘পদোন্নতি’ কী মেয়র? প্রশ্ন শুনে কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে মালা রায় বললেন, ‘দল যা দায়িত্ব দেবে সেটাই পালন করব। আলাদা করে কোনও পদ নিয়ে ভাবিনি।’

চোখে-মুখে একটু অপ্রস্তুতভাব ফুটে উঠল তাঁর। এরপর ঘরের সিলিংয়ের দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে বললেন, ‘আমায় কোন পদের দায়িত্ব দেওয়া হবে, সেটা আমি বলতে পারব না। সেটা দল জানে, আর ঈশ্বর জানে।’

সকাল-বিকেল দুবেলা প্রচার করছেন। সাড়ে পাঁচটায় বসছেন প্রতাপাদিত্য রোডের অফিসে। সাক্ষাৎকারের জন্য ফোন করায় বললেন, ‘সাড়ে পাঁচটায় এমপি অফিসে আসুন। তাঁর আগে ওয়ার্ডটা একটু ঘুরে দেখে নিন।’ সাড়ে পাঁচটার কিছু আগে নিজেই ফোনে জানালেন, তিনি অফিসে পৌঁছে গেছেন।

সেখানে বসেই কথা হচ্ছিল মালা রায়ের সঙ্গে। সাদামাঠা অফিসের দেওয়ালে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বড় পোস্টার। টেবিলে ঘাসফুলের সিম্বল। অন্য কর্মীদের মতোই প্লাস্টিকের চেয়ারে বসেছিলেন। বললেন, ‘প্রচারে গিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। এলাকার লোকজন বলছেন, আপনি কষ্ট করে কেন এলেন। বাড়ি চলে যান। ভোট আপনাকেই দেব।’

প্রয়াত সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের আমল থেকেই পুরসভার গুরুত্বপূর্ন পদে ছিলেন মালা। এখন কলকাতা পুরসভার চেয়ারপার্সন। ১৯৯৫ থেকে তিনি কাউন্সিলর। একাধিকবার দল বদলালেও, তাঁর জয় আটকায়নি। রাজ্যসভার সাংসদ শান্তনু সেনকে টিকিট দেওয়া হয়নি। অথচ লোকসভার সাংসদের ব্যস্ততা তুলনায় বেশি হলেও তাঁকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এবারের কলকাতা পুরভোটে তৃণমূলের মহিলা প্রার্থী ৪৫ শতাংশ। মহিলা মেয়র নিয়ে জল্পনায় তিনিই যোগ্যতম প্রার্থী, এমনটাও বলছেন অনেকে। কিন্তু মালা বিষয়টিতে কার্যত মুখে কুলুপ এঁটেছেন। প্রশ্নের জবাবও এড়িয়ে যাচ্ছেন কৌশলে।

৮৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ষষ্ঠবার লড়াইয়ে তৃণমূলের এই প্রার্থী। চেতলা থেকে চারু মার্কেট, রাসবিহারী মোড় থেকে প্রতাপাদিত্য রোড, ঝুপড়ি থেকে বহুতল, টানা ২৫ বছর কাউন্সিলর হওয়ার সুবাদে, সবটাই হাতের তালুর মতো চেনা। তাঁর ওয়ার্ড বেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। রয়েছে বেশ কয়েকটি পার্ক। কেওড়াতলা মহাশ্মশানও সুন্দর করে সাজানো। মালা বললেন, ওই চত্বর দুষ্কৃতীমুক্ত করাই ছিল সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি শ্মশানকেও ঢেলে সাজানো হয়েছে। ঘুরে দেখুন, এলাকার বস্তিতে কোথাও আলোর খামতি নেই।’

আর কী কাজ বাকি আছে, উত্তরে বললেন, ‘কতটা উন্নয়ন করতে পেরেছি, সেটা এলাকায় ঘুরে দেখলেই বোঝা যাবে।’ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানালেন, পানীয় জলের সমস্যা, নিকাশি, আলো-সব সমস্যাই মিটেছে। তবে, উন্নত পুর পরিষেবা ধারাবাহিকভাবে দিয়ে যেতে হবে। আরও একটা স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং কমিউনিটি সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

পুরভোটে তাঁর ওয়ার্ডের বিরোধী প্রার্থীদের প্রসঙ্গ উঠতে মালার সহাস্য মন্তব্য, ‘ওয়ার্ডের সবাই আমায় ভালোবাসে। দু’একজন নিন্দে করার লোকও তো দরকার।’

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.