টাকা নেই টাকা নেই, রোজ কেন বলছেন মুখ্যমন্ত্রী

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রোজ বলছেন। একই কথা। আলাদা বাক্যে। আলাদা প্রেক্ষিতে। কিন্তু বলছেন। গত কয়েকদিন ধরেই সরকারের আর্থিক অবস্থা নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা শোনা যাচ্ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। গতকাল মালদহের প্রশাসনিক বৈঠকে মমতা জানিয়েছিলেন, টাকা কী ভাবে আসবে তা নিয়ে প্রতি মুহূর্তে তাঁকে চিন্তা করতে হয়। বৃহস্পতিবার নদিয়ার প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সোজাসুজিই বলে দিলেন সরকারের টাকা নেই।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এখন তো সব কাজই চলছে। পাবলিক, ইন্ডিভিজুয়াল ঘরে ঘরে পাচ্ছে। আর টাকা এখন সরকারের নেই। পরিকাঠামোয় আমরা অনেক বেশি টাকা খরচ করেছি। অন গোয়িং প্রোজেক্টগুলো চলছে। এত সামাজিক বিপ্লব, এত সামাজিক কর্মসূচি…জন্ম-মৃত্যু সবটাই চলছে। এতে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। দু’বছর ধরে কোভিড চলার পরে অর্থনীতিতে একটা ধাক্কা এসেছে। সেটা সবাইকেই সামলাতে হচ্ছে। আমরা কোনও টাকা পাই না। এই টাকা দিয়েই কোভিড, বন্যা, আমফান, সুনামি, ইয়াস—সব করতে হচ্ছে আবার অন্য কাজও করতে হচ্ছে।”

কিন্তু এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এমন উদ্বেগের কথা কেন রোজ একবার করে বলছেন মুখ্যমন্ত্রী?
মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট কথা, নতুন কিছু এখন করা যাবে না। যা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে তা বাস্তিবায়িত করতেই সরকারের প্রাণ ওষ্ঠাগত। গতকালও প্রায় একই কথা বলেছিলেন মমতা। রতুয়ায় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন সেখানকার বিধায়ক। জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এখন নতুন কিছু চাইবেন না। পারব না। কোথা থেকে টাকা জোগাড় করব ঠিক নেই। প্রতিদিন চিন্তা করতে হয়…জোগাড় করব কোথা থেকে। কী ভাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা আসবে, স্মার্ট কার্ডের টাকা আসবে ঠিক নেই!”

রাজনৈতিক মহলের অনেকের মতে, অক্ষমতা, অপারগতাকে কেউ যদি নিজেই বলে দেন, এবং তা ধারাবাহিক হয় তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে সমালোচনা অনেক সময় ভোঁতা হয়ে যায়। পর্যবেক্ষকদের মতে, এটাও একটা কৌশল। মুখ্যমন্ত্রী হয়তো সেই কৌশলেই আগে থেকে একথা বলে রাখছেন। কারণ পরিস্থিতি কখন কোন দিকে মোড় নেবে বলা যায় না। ফলে বিরোধীরা কিছু বলার আগে নিজেই নবান্নের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে টানাটানির কথা বলে রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এ ব্যাপারে সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, “বিধানসভায় এখন যারা বিরোধী তাদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বোঝাপড়া রয়েছে। আসলে মুখ্যমন্ত্রী ভয় পাচ্ছেন নিজের দলের বিধায়কদের। তাঁরা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জিতেছেন। মানুষ তাঁদের কাছে চাইছেন। কিন্তু তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এসে চাইলেই তিনি ধমকে বসিয়ে দিচ্ছেন। চোখ পাকাচ্ছেন!” সুজনবাবুর আরও বক্তব্য, সরকারি শূন্যপদে লোক নিয়োগ লাটে উঠে গেছে, সরকারি কর্মচারীরা প্রাপ্য ডিএ পাচ্ছে না। মদ বিক্রি করে বিপুল অঙ্ক ঘরে তুলছে সরকার। সরকারের তো এসব ক্ষেত্রে সঞ্চয়ই হচ্ছে। তাহলে মুখ্যমন্ত্রী রোজ এমন কাঁদুনি গাইছেন কেন? লুঠ হচ্ছে নাকি টাকা?

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.