মারমুখী স্বামীর চোখে খুন্তির ছ্যাঁকা, দৃষ্টি হারানোর আশঙ্কা যুবকের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুখোমুখি হলেই চিৎকার মারামারি, বাড়িতে “কাক-চিল বসতে পারে না।” অভিযোগ, শনিবারও টোটো চালিয়ে বাড়িতে ফিরেই অশান্তি শুরু করেন উত্তর ২৪ পরগনার টাকি পুরসভার দু’নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দপুরের জয়দেব মণ্ডল। তাতেই চোখে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দিয়ে দেন তাঁর স্ত্রী শিখা মণ্ডল।  ডান চোখে ছ্যাঁকা লাগায় চোখটি নষ্ট হয়ে যাওয়া আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। জয়দেব এখন বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁকে কলকাতায় রেফার করা হতে পারে।

জয়দেব মণ্ডলের স্ত্রী শিখা বলেছেন, “ও বাড়িতে ফিরে এসেই অশান্তি শুরু করে। আমি তখন রান্না করছিলাম। রান্নাঘরে ঢুকে আমাকে মারতে আসে। তখন আমার হাতে খুন্তি ছিল, সেটি লেগে যায়। আমি ইচ্ছাকৃত ভাবে কিছু করিনি। তখন আমার ছেলেও ওখানেই ছিল। আপনারা ওকে জিজ্ঞেস করতে পারেন।” জয়দেব-শিখার ছেলে অবশ্য এব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র। শিখা মণ্ডলের অভিযোগ, “গতকাল ছেলেকে এমন মারধর করেছে যে সে পালিয়ে যাচ্ছিল, ও পিছন পিছন দৌড়ে গিয়ে ধরে নিয়ে আসে। পাড়ার সব লোক সেকথা জানে।” মণ্ডলদের পারিবারিক অশান্তি নিয়ে পাড়ার লোকজন এতটাই তিতিবিরক্ত যে তাঁরা এব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে চাইছেন না।

জয়দেব এখন পেশায় টোটোচালক। তাঁদের বাড়িতে একটি মুদিখানার দোকান আছে। দোকানটি থেকে যা আয় হয় তার সবটাই পান শিখা। তাই জয়দেব টোটো চালানো শুরু করেন। রোজগারের জন্য টোটোই এখন একমাত্র ভরসা জয়দেবের। এই টোটোয় করেই দোকানের  মালপত্রও তিনিই নিয়ে আসেব। তাঁদের সংসারে নিত্য অশান্তি। এজন্য এলাকার লোকজন তাঁদের নিয়ে বেশ কয়েকবার সালিশি করেছেন। কিন্তু সালিশি হলেই জয়দেব ও শিখা পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন, এক জন অন্য জনের কথাই শোনেননি। তাই সালিশি করাই বন্ধ করে দিয়েছেন পাড়ার লোকজন। এখন তাঁরা এই পরিবারটিকে এড়িয়ে চলেন বলেই দোকানে তেমন বিক্রিবাটা নেই।

চোখে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা লাগার পরে প্রথমে টাকি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় জয়দেবকে। সেখান থেকে তাঁকে পাঠানো হয় বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে। শোনা যাচ্ছে তাঁকে কলকাতায় পাঠানো হতে পারে চিকিৎসার জন্য। তাঁর চোখে যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে তাতে ডানচোখে তিনি আর দেখতে পাবেন না বলেই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More