দোষী নেতা, মন্ত্রীর ভোটে দাঁড়ানো আটকাতে চান? কেন্দ্রকে অবস্থান জানাতে বলল সুপ্রিম কোর্ট

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দোষী ঘোষিত আইনপ্রণেতাদের ভোটে লড়ায় আজীবন নিষেধাজ্ঞা জারি করার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের অভিমত জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট। বিজেপি নেতা অশ্বিনী উপাধ্যায়ের ২০১৬ সালের দায়ের করা একটি পিটিশনের ব্যাপারে প্রধান বিচারপতি এনভি রামানার নেতৃত্বাধীন সর্বোচ্চ আদালতের বেঞ্চ গত ৫ বছর ধরে বিষয়টি ঝুলে রয়েছে বলে জানিয়েছে।

তিন বিচারপতির বেঞ্চ বলেছে, সরকার কি দোষী সাব্যস্ত রাজনীতিকদের ওপর ভোটে দাঁড়ৃানোয় আজীবন নিষেধাজ্ঞা জারি করতে তৈরি? একটা অবস্থান নিতে হবে আপনাদের। আপনারা কোনও মত না জানালে এমন লোকজনের নির্বাচনে লড়া নিষিদ্ধ করতে আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলতে পারছি না।

কেন্দ্রের তরফে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু এ ব্যাপারে সরকারের অভিমত জানতে হবে বলে জানান।

সমাজবাদী পার্টি নেতা ও বিধায়ক মহম্মদ আজম খানের একটি পিটিশনও বেঞ্চের বিচারাধীন রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এইসব প্রক্রিয়ার মধ্যে আদালতের নির্দেশের ফলে যে মামলাগুলি ম্যাজিস্ট্রেটের বিচার করার কথা, সেগুলি বদলি করা হয়েছে দায়রা আদালতে। এগুলি সাংসদ, বিধায়কদের বিরুদ্ধে মামলা বিচারের জন্য নির্ধারিত বিশেষ আদালত। ফলে তিনি সঠিক জায়গায় আবেদন পেশ করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

যদিও গত বছরের ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রকের পেশ করা হলফনামায় সরকার দোষী ঘোষিত রাজনীতিকদের ভোটে দাঁড়ানো বা কোনও রাজনৈতিক দলের পদাধিকারী হওয়ার ওপর আজীবন নিষেধাজ্ঞা জারির পক্ষপাতী নয় বলে জানিয়েছিল।

মন্ত্রক জানিয়েছিল, সাংসদ, বিধায়করা নির্দিষ্ট কোনও সার্ভিস শর্তে বাঁধা নন। তাঁরা দেশ ও দেশবাসীর সেবা করার শপথের প্রতি দায়বদ্ধ। দেশের স্বার্থ, সত্ বিবেক ও সঙ্গতি রক্ষায় দায়বদ্ধ তাঁরা। কেন্দ্র গত বছর নিজের অবস্থান জানাতে গিয়ে ২০১৯ সালের একটি জনস্বার্থ মামলায় সংবিধান বেঞ্চের রায়ের উল্লেখ করে। সেই রায়ে বেঞ্চ বলেছিল, রাজনীতির অপরাধকরণ একটি তিক্ত বাস্তব সত্য বটে, যা গণতন্ত্রের ভিতকে উইপোকার মতো কুরে কুরে খায়, কিন্তু আদালত এ ব্যাপারে আইন বানাতে পারে না।

পৃথক এক মামলায় শীর্ষ আদালত বলেছে, রাজ্যগুলিতে প্রাক্তন ও বর্তমান বিধায়কদের বিরুদ্ধে বড় সংখ্যায় ফৌজদারি মামলা বকেয়া রয়েছে। সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সম্ভবত উত্তরপ্রদেশে।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.