জলেই ভেসে বেড়াবে আস্ত শহর, টলাতে পারবে না সুনামিও! প্রশান্ত মহাসাগরে মহাবিস্ময়

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ে দিনের পর দিন গলে যাচ্ছে মেরুদেশের বরফ। জলস্তর বাড়ছে সমুদ্রের। আগামীদিনে সমুদ্র লাগোয়া শহরগুলি যে অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়তে চলেছে তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করছেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু প্রকৃতির এই তাণ্ডবের বিপরীতে এক অভিনব সমাধান সামনে আনল দক্ষিণ কোরিয়া। সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়ে পৃথিবীর প্রথম ভাসমান শহর তৈরি করছে তারা।

প্রশান্ত মহাসাগরের উপর এই বিস্ময়কর শহর তৈরির কাজ শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই। শুধু তাই নয়, আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে সেই নতুন শহর ভাসতে শুরু করবে, শুরু হবে জলপথে তার গন্তব্যহীন যাত্রা। ‘ওসানিক্স’ নামের একটি কোম্পানিকে এই শহর তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাকে সহায়তা করছে রাষ্ট্রপুঞ্জের হিউম্যান সেটেলমেন্ট প্রোগ্রাম এবং ইউএন-হ্যাবিট্যাট।

কোরিয়া সরকার, রাষ্ট্রপুঞ্জ এবং ওসানিক্সের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বুসানের ধার ঘেঁষে গড়ে উঠবে ভাসমান শহর। নির্মাতারা দাবি করেছেন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এই ভাসমান শহর গড়ে তোলা হচ্ছে। যাবতীয় প্রাকৃতিক বিপর্যয়, যেমন বিধ্বংসী সুনামি কিংবা লেভেল ৫ হ্যারিকেন, কোনও কিছুতেই এই শহরের বড় কোনও ক্ষতি হবে না। বন্যাতেও টিকে থাকবে তা।

বলা হয়েছে, এই ভাসমান শহরে ১০ হাজার মানুষের থাকার মতো পরিষেবা পাওয়া যাবে। একে ভাগ করা হবে ৩০০টি এলাকায়। যত বাড়িঘর সেখানে থাকবে, কোনোটার উচ্চতা ৭ তলার বেশি করা যাবে না।

সমুদ্রের জলস্তর বাড়লে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়েই উঁচুতে উঠবে এই শহরও। এখানে কখনও বন্যা হবে না। খাবার বা জলের সমস্যাও এখানে হবে না বলে দাবি করেছেন নির্মাতারা। স্থানীয় উপকরণ দিয়েই এই শহর গড়ে তোলা হবে, ব্যবহার করা হবে বাঁশও।

সমুদ্রের উত্তাল জলরাশির উপর একটা আস্ত শহর ভেসে বেড়াবে, কয়েকবছর আগেও এমন দৃশ্য কাল্পনিক বইয়ের পাতায় আটকে ছিল। কিন্তু প্রযুক্তি আর বিজ্ঞানের কাঠামো কল্পনাকে বাস্তব করে তুলছে। নির্মাতারা জানাচ্ছেন, জোরকদমে এই অত্যাধুনিক ভাসমান শহর তৈরির প্রস্তুতি চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৫ সালের মধ্যে তার একটি প্রোটোটাইপ তৈরি হয়ে যাওয়ার কথা।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.