কেন্দ্রীয় সরকারকেও কি দেশদ্রোহী বলা হবে? ইনফোসিস বিতর্কে প্রশ্ন রঘুরাম রাজনের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : আয়কর দফতরের একটি পোর্টালে গত কয়েকমাস ধরে বড় ধরনের সমস্যা দেখা গিয়েছে। ওই পোর্টালের সফটওয়ার কেনা হয়েছিল ইনফোসিসের (INFOSYS) থেকে। পোর্টালে সমস্যা হওয়ায় ইনফোসিসকে দেশদ্রোহীর তকমা দিয়েছে আরএসএসের সাপ্তাহিক মুখপত্র। এই প্রেক্ষিতে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন প্রশ্ন তুললেন, তা হলে কি কেন্দ্রীয় সরকারকেও দেশদ্রোহী বলা হবে? কারণ কোভিড টিকাকরণের শুরুর দিকে কেন্দ্রীয় সরকারও ভাল কাজ করতে পারেনি।

গত কয়েক মাস ধরে অনেকগুলি বেসরকারি সংস্থা সংঘ পরিবার বা তার ঘনিষ্ঠ সংগঠনগুলির সমালোচনার শিকার হয়েছে। রঘুরাম রাজন বলেন, “আমার মনে হয়, এই ধরনের সমালোচনা করে কোনও লাভ নেই। সরকারও প্রথমদিকে বেশি লোককে টিকা দিতে পারেনি। সেই অভিযোগে সরকারকেই কি দেশবিরোধী বলা হবে?”

দেশে পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) চালুর সময়েও কিছু সমস্যা হয়েছিল। সেকথা উল্লেখ করে রঘুরাম রাজন বলেন, “আমার মনে হয় না প্রথম যখন জিএসটি চালু হয়েছিল, তখন সবাই খুশি হয়েছিলেন। আমাদের সকলেরই ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। কেউ ভুল করলেই নিজের ইচ্ছামতো তার সমালোচনা করা উচিত নয়।”

অন্য প্রসঙ্গে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর বলেন, ভারতে কারখানাগুলিতে উৎপাদন বাড়ছে বটে, কিন্তু তা নিয়ে বেশি আশাবাদী হওয়ার কারণ নেই। সব সেক্টরে সমানভাবে উৎপাদন বাড়ছে না। তবে তিনি স্বীকার করেন, কোভিডের ধাক্কা সামলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখা গিয়েছে। চলতি আর্থিক বছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ভারতে শিল্পের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ২০.১ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি উন্নতি করেছে ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর। সেই সঙ্গে বাজারে চাহিদাও বেড়েছে।

শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষক রঘুরাম রাজন বলেন, “আসল কথাটা হল, পুরো অর্থনীতিই কি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, নাকি তার একটা অংশের পুনরুজ্জীবনের লক্ষণ দেখা দিয়েছে? শিল্পোৎপাদনের ক্ষেত্রে বলা যায়, সমাজের ধনী, উচ্চ মধ্যবিত্ত অংশ যে পণ্যগুলি ব্যবহার করে সেগুলি উৎপাদনের ক্ষেত্রে যে পুনরুজ্জীবন দেখা দিয়েছে। দরিদ্রের প্রয়োজনীয় পণ্যগুলি উৎপাদনের ক্ষেত্রে তা দেখা যায়নি।”

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, টু হুইলারের বিক্রি কমেছে। কিন্তু বেড়েছে ফোর হুইলারের বিক্রি। বড় কোম্পানিগুলি লাভ করছে। কিন্তু ছোট কোম্পানিগুলি লাভ করছে না। বড় কোম্পানিগুলির মুনাফা বৃদ্ধি পাওয়ায় শেয়ার সূচক উঠেছে। বৃদ্ধি পেয়েছে কর আদায়। গত অগাস্টে জিএসটি আদায় বেড়েছে ৩০ শতাংশ।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More