পথে মহিলার দোপাট্টা ধরে টান, একবছর সশ্রম কারাদণ্ড যুবকের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২০১৬ সালে মুম্বইয়ের (Mumbai) চেম্বুরে রাস্তায় এক মহিলার দোপাট্টা ধরে টান দিয়েছিল এক যুবক। সেজন্য মুম্বইয়ের এক ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট যুবকটিকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে। বিচারক বলেন, অপরাধী এক মহিলার শ্লীলতাহানি করেছে। সে ভবিষ্যতে ভাল আচরণ করবে বলে বন্ড দিলেই তাকে ছেড়ে দেওয়া যায় না। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শরদ এস পরদেশি বলেন, অভিযোগকারিণীর কোনও দোষ ছিল না। যুবকটি আগামী দিনে ভদ্র আচরণ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও তার ছাড়া পাওয়া উচিত নয়। কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিচারক অপরাধীর থেকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করারও নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযোগকারিণী বলেন, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ হোলির আগে তিনি ঠাকুমার সঙ্গে পথে বেরিয়েছিলেন। অপরাধী বাইকে চড়ে তাঁদের অনুসরণ করতে থাকে। ঘন ঘন হর্ন দেয়। তারপরে তাঁর দোপাট্টা ধরে টানে। তিনি প্রতিবাদ করলে কুৎসিত ভাষায় গালি দেয়। মহিলার স্বামীর এক বন্ধু অপরাধীকে চিনতে পারেন। তিনি ছিলেন অপরাধীর প্রতিবেশী। ছেলেটির নামও তিনি জানতেন। ওই বন্ধুর সহায়তায় মহিলা ও তাঁর স্বামী পুলিশে অভিযোগ করেন।

মহিলার স্বামীর বন্ধু ও আরও এক প্রত্যক্ষদর্শী আদালতে সাক্ষ্য দেন। তাঁরা অবশ্য বলেন, ছেলেটি জোরে হর্ন বাজানোয় মহিলা আপত্তি করেছিলেন। তা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। কিন্তু অভিযুক্ত মহিলার দোপাট্টা ধরে টান দেয়নি। আদালত কিন্তু মহিলার বক্তব্যই বিশ্বাস করেছে। বিচারক বলেন, অভিযোগকারিণীর সঙ্গে ওই যুবকের কোনও শত্রুতা ছিল না। সুতরাং মহিলার মিথ্যা অভিযোগ করার কোনও কারণ নেই।

গত ১১ সেপ্টেম্বর মুম্বইয়ের সাকিনাকা এলাকায় নির্ভয়া কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটে। ওইদিন গভীর রাতে মুম্বই পুলিশ জানতে পারে, আন্ধেরি ইস্টে সড়কের ওপর একটি টেম্পোতে এক মহিলা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেখে, গোটা টেম্পোয় পড়ে রয়েছে চাপ চাপ রক্ত। তার মধ্যেই অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে আছেন এক মহিলা। রক্তে ভেসে যাচ্ছে শরীর।

ডেপুটি কমিশনার (জ়োন ১০) মহেশ্বর রেড্ডি বলেছেন, রাত ৩টে নাগাদ পুলিশের কন্ট্রোলরুমে ফোন করে খবর দেওয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। দেখা যায়, টেম্পোতে ওই মহিলা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। কাছেই একটি গাড়িতে আহত অবস্থায় এক ব্যক্তিকেও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মহিলার বয়স ৩২-৩৩ বছর হবে। ঘাটকোপারের রাজাওয়াড়ি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে। মেডিক্যাল টেস্টে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ঘটনায় মোহিত চৌহান নামে ৪৫ বছরের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতকে জেরা করে জানার চেষ্টা চলছে এই ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করছেন তদন্তকারীরা।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More