পঞ্জাবে পুলিশ খুন, মাথার দাম ১৫ লাখ! নিউটাউনে গ্যাংস্টার নিকেশ হার মানায় থ্রিলারকেও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওয়েব সিরিজের পর্দায় ‘গ্যাংস অফ ওয়াসিপুর’ কিংবা ‘পাতাললোক’ যাঁরা দেখেছেন, নিউটাউনে পুলিশ বনাম গ্যাংস্টার এনকাউন্টারের ঘটনার সঙ্গে তাঁরা মিল খুঁজে পাবেন। পর্দার গল্পও যে বাস্তবে ঘটতে পারে, আরও চমকপ্রদ, আরও রহস্যময় হয় তার ঘটনাপ্রবাহ, তা হয়তো আজকের আগে অনেকের ধারণার বাইরে ছিল।

১৫ মে থেকে ঘটনার সূত্রপাত। ভর সন্ধেবেলা লুধিয়ানার জাগ্রাওন মার্কেটের কাছে হঠাৎই শোনা যায় গুলির শব্দ। একবার নয়। বারবার। ব্যাপার কী বুঝে ওঠার আগেই এলাকার মানুষ দেখেন দুজন পুলিশের লাশ পড়ে আছে রাস্তায়। গাড়ি করে চম্পট দিচ্ছে দুষ্কৃতীরা।

পঞ্জাব পুলিশের দুজন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইনস্পেক্টর ভগবান সিং এবং দলবিন্দর সিংয়ের মরদেহ তাঁদের পরিবারের কাছে পৌঁছনোর আগেই তদন্তে নেমে পড়ে পুলিশ। কুকুরের মতো খুঁজতে শুরু করে কুখ্যাত গ্যাংস্টার জয়পাল সিং বুল্লার আর তার সাঙ্গপাঙ্গকে। পঞ্জাবের কোণায় কোণায় তল্লাশি করা হয়। কিন্তু দুষ্কৃতীরা ততক্ষণে নাগালের বাইরে চলে গেছে।

জাগ্রাওনের কোঠে বাগ্গু গ্রামে কানাডাবাসী ভদ্রলোকের বাড়ি তখন তালা বন্ধ। যাঁরা সেই বাড়িতে মাস ছয়েক ধরে ভাড়া থাকছে, তাদের পাত্তা নেই। প্রথমে খেয়াল না করলেও পড়ে সন্দেহ হয় গ্রামবাসীদের।

সেই সন্দেহে সিলমোহর পড়ে যখন দেওয়ালে নতুন পোস্টারটা দেখতে পান তাঁরা। অবিকল এক মুখ! এদেরকেই না গত কয়েক মাস ধরে ও বাড়ি থেকে আসা-যাওয়া করতে দেখছেন তাঁরা! এরাই না ‘প্রতিবেশী’। তবে এদের ছবির পাশে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ লেখা কেন? সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন গ্রামের লোকজন। পরিত্যক্ত বাড়িতে তালা ভেঙে তদন্তে আরও কিছুটা এগিয়ে যায় পঞ্জাব পুলিশ।

পুলিশ হত্যার ঘটনায় মোট চার জনের নামে মামলা দায়ের হয়েছিল। জয়পাল সিং বুল্লার, জশপ্রীত সিং, বলবিন্দর সিং এবং দর্শন সিং- এরা প্রত্যেকেই মোস্ট ওয়ান্টেড। বহুদিন ধরেই। একাধিক খুন, জখম, লুঠপাট, এমনকি ২০১৭ সালে বড়সড় এক ব্যাঙ্ক ডাকাতির ঘটনাতেও জড়িত ছিল এই দল। ১৫ মে সন্ধ্যায় মাদক পাচার করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে তাঁরা। পুলিশ গিয়ে আত্মসমর্পণ করতে বললে সঙ্গে সঙ্গেই গুলি চালিয়ে দেয়। মারা যান পঞ্জাব পুলিশের দায়িত্ববান দুই এএসআই।

এরপর আজকের নিউটাউন। সাপুরজি আবাসনে ১৫ মে’র পর থেকেই নাকি এসে ঘাঁটি গেড়েছিলেন জয়পাল। পঞ্জাব পুলিশ যাঁর মাথার দাম ঘোষণা করেছে ১০ লাখ টাকা। সঙ্গে ছিল জশপ্রীতও। তাঁর মাথার দাম ছিল ৫ লাখ।

বুধবার বেলা ১২টা নাগাদ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অপারেশনের প্রস্তুতি শুরু করে স্পেশাল টাস্কফোর্স। সাড়ে তিনটে নাগাদ তারা আবাসনে পৌঁছে যায়। সাপুরজি আবাসনের ২০১ নম্বর ঘরে তারপরেই শুরু হয় গুলির লড়াই। পুলিশ জানিয়েছে, ঘরে ঢুকতেই পর পর গুলি চলতে থাকে তাদের উদ্দেশ্য করে। পাল্টা গুলি চালান তাঁরাও। বেশ কিছুক্ষণ ধরে শ্যুটআউট জারি থাকে।

শেষটা প্রত্যাশিত। যেমনটা হয় গোয়েন্দা গল্পের শেষে। পুলিশের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যান জয়পাল আর জশপ্রীত। ঘরের মেঝে রক্তে ভাসিয়ে পড়ে থাকে তাঁদের নিথর দেহ।

আগামী দিনে নিউটাউনে পঞ্জাবের গ্যাংস্টার নিধনের ঘটনাও যে ওয়েব পর্দায় দেখা যাবে না, তেমন গ্যারান্টি দেওয়া যাচ্ছে না।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More