আল কায়দা যোগ সন্দেহে ফের ধৃত মুর্শিদাবাদের যুবক! মাদ্রাসার শিক্ষক সে, বলছে এনআইএ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আল কায়দা জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে মুর্শিদাবাদ থেকে আরও এক যুবককে গ্রেফতার করল জাতীয় তদন্ত সংস্থা তথা এনআইএ। জানা গেছে, আব্দুল মোমিন মণ্ডল নামের ওই যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে দলের রিক্রুটার হিসেবে কাজ করত।

এনআইএ সূত্রের খবর, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আব্দুল মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর দিনাজপুর থেকে বেশ কিছু ছেলেকে নিয়োগ করেছিল জঙ্গি সংগঠনে। জিজ্ঞাসাবাদে এনআইএ জানতে পেরেছে, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে এদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত আব্দুল। আব্দুল কতজনকে রিক্রুট করেছিল তাও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা। ইতিমধ্যে ফেসবুকে একটি প্রোফাইল উদ্ধার করা হয়েছে আব্দুল মোমিনের।

কয়েক দিন আগেই আল কায়দায় জড়িত সন্দেহে মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করে এনআইএ। তাদের মধ্যে তিন জন ধরা পড়ে কেরালা থেকে, আট জন বাংলার মুর্শিদাবাদ থেকে। এর পরে ফের আগাম খবর পেয়ে গতকাল, ১ তারিখে মুর্শিদাবাদের রানিনগর এলাকার নজরানা গ্রামে হানা দেন এনআইএ-র তদন্তকারীরা। সেখানেই রেজাউল মণ্ডলের ছেলে, ৩২ বছরের আব্দুল মোমিন মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়।

মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকায় যে জঙ্গিযোগ বাড়ছে, সে বিষয়ে অভিযোগ জমা পড়েছিল সেপ্টেম্বর মাসের ১১ তারিখে। তার পরেই সতর্ক হন হোয়েন্দারা। জানা যায়, ১০ জনেরও বেশি সদস্যের একটি দল  আল কায়েদার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। খোঁজ খবর নিয়ে তার পরেই শুরু হয় ধরপাকড়।

এনআইএ জানিয়েছে, আব্দুল মোমিন মুর্শিদাবাদের রাইপুর দারুর হুদা ইসলামিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করে। একাধিক ষড়যন্ত্রমূলক বৈঠকে তার অংশগ্রহণের প্রমাণ মিলেছে তদন্তে। জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে আরও লোকজনকে যোগ দেওয়ানোর চেষ্টা করছিল সে। জোগাড় করছিল টাকাপয়সাও। অভিযুক্তের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে মোবাইল, ল্যাপটপ সব বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

আজ, সোমবার আব্দুল মোমিনকে মুর্শিদাবাদ জেলা আদালতে তোলা হলে এনআইএ তাকে নয়াদিল্লি নিয়ে গিয়ে জেরা করার জন্য হেফাজতে নেবে বলে সওয়াল করে। সে আবেদন মঞ্জুর হয়েছে।

সেপ্টেম্বর মাসের ২৮ তারিখে আল কায়দা জঙ্গি সন্দেহে মুর্শিদাবাদ থেকে ৬ জনকে গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএ। একই দিনে কেরল থেকে আরও ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদেরও বাড়ি মুর্শিদাবাদে। তাদেরই জেরা করে এই নতুন নতুন তথ্য পাচ্ছেন গোয়েন্দারা।

এনআইএ সূত্রে খবর, তার আগে ২০১৯ সালের জুন মাসে হাওড়ার উলুবেড়িয়া থেকে চারজনকে গ্রেফতার করেছিল কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স। এই চারজনই বীরভূমের বাসিন্দা। তাদের নাম রবিউল ইসলাম, আল মামুন, আল আমিন ও মহসিন। তাদের জেরা করে জানা যায় তারা জামাতের শাখা সংগঠন নব্য জেএমবির সদস্য। বাংলাদেশ থেকে এই জঙ্গিদের নির্দেশ দেওয়া হত। উলুবেড়িয়াতে একটা ছোটখাটো মডিউল বানিয়ে ফেলেছিল তারা। আইএসের জন্য প্রায় ৩৭ জনকে রিক্রুট করেছিল তারা। আইএস জঙ্গিগোষ্ঠী ভারত ও বাংলাদেশে নাশকতার জন্য এই জামাত গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে বলেই খবর।

জেরায় নাকি জানা গিয়েছে, সেই সময় যে ৩৭ জনকে রিক্রুট করা হয়েছিল তাদের মধ্যে ছিল মোশারফ হোসেন, মুর্শিদ হাসান আবু সুফিয়ান ও আতাউর রহমান নামের কয়েকজন যুবক। তাদের উত্তরপ্রদেশ বা কেরলের কোনও জঙ্গলে ট্রেনিং দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এই নব্য জামাতের মাধ্যমেই আইএসের ভাবধারাকেই এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল জঙ্গিরা, এমনটাই জেরায় জানা যাচ্ছে। সূত্রের খবর, এই নব্য জেএমবি জঙ্গিরা রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। যে ৯ জঙ্গিকে সম্প্রতি ধরা হয়েছে তাদের মোবাইলে এই সংক্রান্ত নানা পিডিএফ ফাইল পাওয়া গিয়েছে। সেখানেই আইএস জঙ্গিগোষ্ঠীর অনেক বই ও ম্যাগাজিন পাওয়া গিয়েছে। তার পরেই এই আইএস যোগের অনেক তথ্য উঠে আসছে এনআইএর সামনে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More