ভোটের আগেই ছত্রধরকে হেফাজতে নেওয়ার তোড়জোড় এনআইএ-র, নথি চাইল হাইকোর্ট

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বছর ২৩ জুলাই যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের সাংগঠনিক রদবদল করেছিলেন তখনই দেখা গিয়েছিল জ্বলজ্বল করছে ছত্রধর মাহাতোর নাম। বোঝা গিয়েছিল, জঙ্গলমহলের হারানো মাটি ফিরে পেতে দিদি ভরসা রাখছেন একদা জনসাধারণের কমিটির নেতার উপর। কিন্তু সেই তাঁকে বিধানসভা ভোটের আগে হেফাজতে নিতে মরিয়া চেষ্টা শুরু করল জাতীয় তদন্ত সংস্থা তথা এনআইএ।

ছত্রধর মাহাতোর বিরুদ্ধে এনআইএ-এর করা মামলায় নিম্ন আদালতের কাছে সমস্ত নথি চেয়ে পাঠাল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। আগামীকাল, শুক্রবার ছত্রধর মাহাতোর বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতের যাবতীয় নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

প্রসঙ্গত, ২০২০সালের ২২ অক্টোবর এনআই আধিকারিকরা বিশেষ আদালতে জানান, ছত্রধর মাহাতো- সহ ৫ জনকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। বিশেষ আদালত বলে, যেহেতু ঝাড়গ্রাম নিম্ন আদালত ছত্রধরদের জামিন মঞ্জুর করেছিল তাই পাঁচ অভিযুক্তের জামিন খারিজের জন্য জাতীয় তদন্ত সংস্থাকে সেখানেই আবেদন করতে হবে। হাইকোর্টের বেশ কয়েকটি এজলাস ঘুরে শেষে মামলা দায়ের হয় প্রধান বিচারপতি টিভি রাধাকৃষ্ণন ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে।

জোড়া মামলায় ছত্রধরের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে এনআইএ। তার মধ্যে একটি রাজধানী এক্সপ্রেসকে পণবন্দি করা এবং অন্যটি ঝাড়গ্রামের সিপিএম নেতা প্রবীর মাহাতো খুনের মামলা। কোভিড পরিস্থিতির মধ্যে সেই তদন্তে তৎপরতা দেখিয়েছিল এনআইএ। ছত্রধরের আইনজীবী আদালতে জানিয়েছিলেন, কোভিডের মধ্যে তাঁর মক্কেলের কলকাতায় এসে হাজিরা দেওয়া সম্ভব নয়। তখন এনআইএ আদালতকে জানায়, প্রয়োজনে তাঁরা গিয়ে জঙ্গলমহলে ক্যাম্প করে ছত্রধরকে জেরা করবেন। তাতে অনুমতি দিয়েছিল আদালত। শিলদার সিআরপি ক্যাম্পে বেশ কয়েকবার জেরা করা হয় ছত্রধরকে।

ছত্রধর ইতিমধ্যেই বলেছেন, রাজনৈতিক ভাবে এনআইএ-কে ব্যবহার করছে কেন্দ্রীয় সরকার তথা বিজেপি। নাহলে কেন তৃণমূলের রাজ্য কমিটিতে জায়গা পাওয়ার পরেই দৌত্য শুরু করল জাতীয় তদন্ত সংস্থা? অন্যদিকে কয়েক মাস আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “ছত্রধর মাওবাদী নন। ও অরিজিনাল তৃণমূল। ছত্রধর আমাদের ব্লক সভাপতি ছিল। ওকে ফাঁসানো হয়েছিল।”

ইদানিং জঙ্গলমহলে কার্যত চষে বেড়াচ্ছেন এই আদিবাসী নেতা। মনে করা হছে পশ্চিমাঞ্চলের কোনও একটি আসনে তাঁকে প্রার্থীওম করতে পারেন দিদি। কিন্তু তাঁর আগেই এনআইএ-এর এই হেফাজতে নেওয়ার তৎপরতায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন তৃণমূলের অনেকে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More