বিহারে সরকার গঠনের দু’দিনের মধ্যেই বিতর্কে নীতীশ, শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বিহারে নীতীশ কুমারের সরকারে এবার শিক্ষামন্ত্রী হয়েছেন জনতা দল ইউনাইটেডের বিধায়ক মেওয়ালাল চৌধুরি। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল আরজেডি প্রশ্ন তুলেছে, দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত এক নেতাকে রাজ্যের মন্ত্রী করা হল কেন। অভিযোগ, একটি আবাসন প্রকল্পে দুর্নীতিতে জড়িয়েছিলেন মেওয়ালাল। এছাড়া ভাগলপুর এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ও জুনিয়ার সায়েন্টিস্ট নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল।

এর মধ্যে শোনা যায়, ভোটে প্রার্থী হওয়ার সময় মেওয়ালাল যে হলফনামা জমা দিয়েছিলেন, তাতে নাকি নিজেই তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছেন। এসম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমি কখনই দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে কিছু লিখিনি। কোর্টে একটা মামলা আছে। কিন্তু তার চার্জশিট পর্যন্ত হয়নি। তদন্ত চলছে।”

মেওয়ালালের বক্তব্য, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা মানে এই নয় যে, সে অপরাধী। আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের সমালোচনা করে মেওয়ালাল বলেন, তিনি নিজেই দুর্নীতিগ্রস্ত। অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা তাঁকে শোভা পায় না। অনেক বিধায়কের নামেই মামলা আছে। একটি সূত্রে শোনা যায়, ২০১৭ সালে তাঁর ভাইপো গ্রেফতার হয়েছিলেন। একথা উড়িয়ে দেন মেওয়ালাল।

তেজস্বী যাদব বেশ কয়েকটি টুইট করে অভিযোগ তুলেছেন, চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী হয়ে নীতীশ কুমার কয়েকজন অপরাধীকে মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “সরকার ক্রিমিনালদের রক্ষা করছে। মেওয়ালাল চৌধুরি ডাকাতিতে অভিযুক্ত। গদি বাঁচানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রী অপরাধ, দুর্নীতি ও সাম্প্রদায়িকতায় মদত দিয়ে চলেছেন।” আরজেডি নেতার অভিযোগ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কেউ এবার মন্ত্রী হননি।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদবও বিজেপি ও জেডি ইউ-এর সমালোচনা করে বলেছেন, একসময় যাঁরা মেওয়ালাল চৌধুরির শাস্তি দাবি করছিলেন, তাঁরা এখন চুপ করে আছেন। তেজস্বী বলেছিলেন, ক্ষমতায় এলে ১০ লক্ষ চাকরি দেবেন। কিন্তু নতুন সরকার মেওয়ালালের মতো লোককে মন্ত্রী করে বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা কীসের ওপরে জোর দিতে চায়।

মেওয়ালাল চৌধুরি তারাপুর কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৭ সালে তিনি জেডি ইউ থেকে বহিষ্কৃত হন। পরে অবশ্য দলে ফিরে এসেছেন। একসময় আরজেডি-র সমর্থনে সরকার গড়েছিলেন নীতীশ। বিজেপি তখন ছিল বিরোধী দল। তখন তারা মেওয়ালালকে গ্রেফতার করার দাবি তুলেছিল।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More