অক্সিজেন নেই, ধুঁকে মৃত ১০ কোভিড রোগী! মধ্যপ্রদেশের ঘটনায় অভিযোগ অস্বীকার মন্ত্রীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশ জুড়ে সুনামির মতো আছড়ে পড়েছে করোনা অতিমারীর দ্বিতীয় ঢেউ। ভাইরাসের ধাক্কায় নগ্ন হয়ে পড়েছে দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোও। আর করোনার জেরে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সম্ভবত সবচেয়ে নিদারুণ রূপটি আজ দেখল মধ্যপ্রদেশ। হাসপাতালের বেডে শুয়ে স্রেফ অক্সিজেনের অভাবে ধুঁকতে ধুঁকতে মারা গেলেন অন্তত ১০ জন।

এদিন ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের শাহদোল জেলার সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তরল অক্সিজেন ট্যাঙ্কে কম চাপের কারণেই বিপর্যয় ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও হাসপাতালের তরফে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

অক্সিজেনের অভাবে রোগী মৃত্যুর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের স্বাস্থ্যশিক্ষা মন্ত্রী বিশ্বাস কৈলাশ সারাঙ্গও। সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি বলেছেন, মধ্যপ্রদেশের সমস্ত হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন ট্যাঙ্কার সরবরাহ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “এটা একটা মহামারী। এখানে চ্যালেঞ্জ তো থাকবেই। সমস্যা মেটাতে যা দরকার আমরা একসাথে মিলে তা করার চেষ্টা করছি।”

সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের তরফে বলা হয়েছে, “গতকাল রাতে আমাদের আইসিইউতে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। অক্সিজেনের অভাব এইসব মৃত্যুর কারণ নয়। আইসিইউতে ৬২ জন রোগী রয়েছে যাঁদের অবস্থা সংকটজনক।” গোটা কোভিড হাসপাতালে মোট ২৫৫ জন রোগী রয়েছে এবং ১৫৫ জনকে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়েছে, জানিয়েছেন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ডঃ মিলিন্দ শিরালকার। জেলা প্রশাসনের তরফেও অক্সিজেনের ঘাটতিতে মৃত্যুর অভিযোগ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

কিন্তু রোগীদের আত্মীয়-পরিজনদের ক্ষোভ এখানেই থামছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন তাঁরা। জনৈক রোগীর আত্মীয়ের কথায়, “অক্সিজেন লেভেল ৯১ শতাংশের উপরেই ছিল। সকালে শুনলাম অক্সিজেন কমে গেছে। আমাদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না। কোনওরকমে ঢুকে দেখলাম বডিগুলো ঠান্ডা হয়ে গেছে।” একটা-দুটো নয়, অনেকগুলি এমন বডির কথা বলেছেন তিনি। ঘটনার সমস্ত দায় তিনি চাপিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপর।

আরও এক রোগীর আত্মীয় বলেছেন, “আমরা রাত ১২টায় খাবার দিয়ে বেরিয়েছিলাম। সকাল ৬টায় শুনছি মারা গেছে। হাসপাতালের গার্ড আমাদের বলেছে অক্সিজেন সিলিন্ডার শেষ হয়ে গিয়েছিল।”

করোনা পরিস্থিতি যে দিন দিন হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে আজকের ঘটনা থেকে তা পরিষ্কার হয়েছে আরও একবার। মধ্যপ্রদেশ হোক বা দিল্লি, সব জায়গাতেই অবস্থাটা একইরকম। কোথাও হাসপাতালের বেডের অভাব, কোথাও নেই যথেষ্ট অক্সিজেনের ব্যবস্থা, মানুষের সচেতনতা না বাড়লে আগামী দিনে মৃত্যু মিছিল দেখতে হবে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More