অসমে ভোটের আগেই বিজেপি-র সঙ্গ ছেড়ে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বিপিএফের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : শনিবার ফেসবুকে বিবৃতি দিয়ে অসমে বিজেপি জোট ছাড়ল বড়োল্যান্ড পিপলস পার্টি। দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা হাগরামা মহিলারি জানিয়েছেন, তাঁরা এবার কংগ্রেস জোটে যোগ দিচ্ছেন। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, “অসমে শান্তি, ঐক্য ও উন্নয়নের জন্য এবং দুর্নীতি দূর করার লক্ষ্যে আমরা কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন মহাজোটে যোগ দিচ্ছি।” পরে তিনি লিখেছেন, বিপিএফ আর বিজেপির বন্ধু নয়। অসমে আগামী বিধানসভা ভোটে আমাদের দল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন মহাজোটের হয়ে লড়াই করবে।

বিপিএফ তৈরি হয় ২০০৫ সালে। কোকরাঝোড় জেলায় ওই দলের অনেক সমর্থক আছেন। গত বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ১২৬ টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে বিপিএফ পেয়েছিল ১২ টি। সর্বানন্দ সোনওয়ালের মন্ত্রিসভায় ওই দলের তিন মন্ত্রী আছেন। কিন্তু গত বছরের শেষের দিকে বড়োল্যান্ড টেরিটোরিয়াল কাউন্সিলের নির্বাচনের সময় বিজেপি বিপিএফের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করেনি। কাউন্সিলে গরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য তারা অপর একটি দলের সঙ্গে জোট করেছিল।

ডিসেম্বরে কাউন্সিলের ভোটে ৪০ টি আসনের মধ্যে ১৭ টি পেয়ে একক বৃহত্তম দল হয় বিপিএফ। কিন্তু বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ইউনাইটেড পিপলস পার্টি লিবারালকে ১২ টি আসন পাওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান। তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাউন্সিলের দখল নেয় বিজেপি। ইউপিপিএলের শীর্ষ নেতা প্রমোদ বরো কাউন্সিলের চিফ এক্সিকিউটিভ মেম্বার হন।

ফেব্রুয়ারির শুরুতে অসমের অর্থমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছিলেন, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি আর বিপিএফ ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করবে না। তাঁর কথায়, “আমাদের বহুবার বলা হয়েছে, বিপিএফের সঙ্গে বিজেপির জোট থাকবে পাঁচ বছর। আমরা উভয়েই পাঁচ বছর জোট বজায় রাখব। বিপিএফ এখনও আমাদের সরকারে রয়েছে।”

অসম বিধানসভায় বিজেপির আসন সংখ্যা ৬০। তারা সেখানে একক বৃহত্তম দল। তার জোটসঙ্গী অসম গণ পরিষদের আছে ১৩ টি আসন। ২৭ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত তিনটি পর্যায়ে ভোট হবে অসমে। ফল প্রকাশিত হবে ২ মে। কংগ্রেস জোট বেঁধেছে তার একসময়কার প্রবল প্রতিপক্ষ এআইইউডিএফের সঙ্গে। এছাড়া আঞ্চলিক গণ মোর্চা এবং তিনটি বামপন্থী দলও তাদের জোটে আছে।

নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর জন্য আরও দু’টি রাজনৈতিক দল তৈরি হয়েছে অসমে। তাদের নাম অসম জাতীয় পরিষদ এবং রাইজোর দল। আসুর প্রাক্তন সদস্যরা অসম জাতীয় পরিষদ তৈরি করেছেন। রাইজোর দল তৈরি করেছেন অখিল গগৈ নামে এক নেতার অনুগামীরা। নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করায় অখিল গগৈকে বন্দি করা হয়েছে। ওই দু’টি দলও এবার বিধানসভা ভোটে লড়বে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More