‘ধর্মীয় রীতি পালনের চেয়েও জরুরি নাগরিক সুরক্ষা’,কোভিড বাড়ছে,মুম্বইয়ের মসজিদে নমাজে অনুমতি নয় বম্বে হাইকোর্টের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে কোভিড-১৯ এর বেলাগাম সংক্রমণ বৃদ্ধির কথা বিবেচনা করে রমজানের সময় দক্ষিণ মুম্বইয়ের মসজিদে নমাজ পাঠের অনুমতি দিতে রাজি হল না বম্বে হাইকোর্ট। রাজ্যে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি মারাত্মক, ভয়াবহ আখ্যা দিয়ে নাগরিকদের সুরক্ষা অনেক বেশি জরুরি বলে অভিমত আদালতের। জামা মসজিদ ট্রাস্ট দিনে ৫ বার ভক্তদের নমাজ পাঠের অনুমতি চেয়েছিল পবিত্র রমজান মাসে, বলেছিল, একসঙ্গে প্রার্থনায় সামিল হবেন ৫০ জন। ধর্মাচরণের অধিকারের আওতায় পিটিশন পেশ করে ট্রাস্ট এক মাসের জন্য মসজিদ খোলা রাখার অনুমতিও চায়। আচমকা মহারাষ্ট্রে কোভিড-১৯ সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় মসজিদ চালু রাখায় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। ট্রাস্টের পিটিশনের শুনানিতে বিচারপতি আর ডি ধানুকা ও বিচারপতি ভি জি বিস্তের ডিভিশন বেঞ্চের অবকাশকালীন আদালত বলেছে, ধর্মীয় রীতি, উত্সব পালন বা অনুসরণ গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার চেয়েও বেশি জরুরি জনজীবনে শৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিকদের সুরক্ষা।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে ১৪ এপ্রিল রাত ৮টা থেকে ১ মে পর্যন্ত রাজ্যব্যাপী কার্ফু জারির পরদিনই বম্বে হাইকোর্ট এই অভিমত জানাল।
নমাজ পাঠের অনুমতি চেয়ে আবেদনকারীদের তরফে বলা হয়, মসজিদ এক একর জমির ওপর, প্রায় ৭ হাজার লোক একসঙ্গে সেখানে জড়ো হতে পারে। কিন্তু কোভিড-১৯ সংক্রমণজনিত পরিস্থিতিতে রমজানের সময় একবারের প্রার্থনায় ৫০ জনকে জড়ো হওয়ার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। তাছাড়া যাবতীয় সুরক্ষা বিধিও মানা হবে। কিন্তু হাইকোর্ট বলেছে, আমাদের মতে, রাজ্য সরকার কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিবেচনা করেই বিধিনিষেধ জারি করেছে। চলতি পরিস্থিতি ও মহারাষ্ট্রের বাস্তব সত্যিটা খতিয়ে দেখে আমরা মসজিদে নমাজ পাঠের অনুমতি দিতে পারি না।
জনস্বার্থে এবং রাজ্যের সব বাসিন্দার সুরক্ষার জন্যই মহারাষ্ট্র সরকার বিধিনিষেধ জারি করেছে বলেও আদালত অভিমত জানিয়েছে।
নমাজ পাঠ, প্রার্থনার অনুমতির আবেদন খারিজ করে বেঞ্চ আরও বলেছে, করোনাভাইরাস অতিমারীর প্রেক্ষিতে বম্বে হাইকোর্ট, ভারতের অন্যান্য আদালতও অন্য অনেক ধর্মীয় জমায়েতেও অনুমতি দেয়নি।

 

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More