রাহুল বা আর কোনও নেতার জন্য কংগ্রেস ছাড়িনি, মন্তব্য, জিতিন প্রসাদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বহুদিন ধরেই কংগ্রেসের মধ্যে নানা বিষয়ে অসন্তোষের কথা জানাচ্ছিলেন উত্তরপ্রদেশ থেকে নির্বাচিত প্রাক্তন সাংসদ জিতিন প্রসাদ। বুধবার তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। আগামী বছর ভোট হবে উত্তরপ্রদেশে। তার আগে জিতিন প্রসাদের দলত্যাগে কংগ্রেস বড় ধাক্কা খেল বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা। বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারে জিতিন প্রসাদ বলেন, রাহুল গান্ধী বা আর কোনও নেতার ওপরে অভিমান করে তিনি দল ছাড়েননি। কংগ্রেসে নেতৃত্বের সংকটের সঙ্গে তাঁর দল ছাড়ার সম্পর্ক নেই।

এক প্রশ্নের জবাবে সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতা বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অথবা বিজেপির সভাপতি জে পি নড্ডার সঙ্গে তাঁর কোনও ডিল হয়নি। ২০ বছর ধরে তিনি কংগ্রেসকর্মী ছিলেন। কিন্তু ওই দলে থেকে কাজ করা অসম্ভব হয়ে উঠছিল। মানুষের সেবা করতে চান বলেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।

তাঁর কথায়, “রাহুল গান্ধী বা অপর কোনও নেতার জন্য দল ছাড়িনি। আমি কখনই বলিনি যে, কংগ্রেস আমার জন্য কিছু করেনি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য হিসাবে আমি দেশের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। তিনটি প্রজন্ম ধরে আমরা দেশের সেবা করছি। কিন্তু কংগ্রেসে থেকে কাজ করা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছিল।”

৪৭ বছর বয়সী জিতিন প্রসাদ সম্পর্কে অনেকদিন ধরেই নানা গুজব শোনা যাচ্ছিল। ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটের আগে শোনা গিয়েছিল, তিনি বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। তিনি বিজেপিতে যাওয়ার পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় জল্পনা শুরু হয়, এবার রাজস্থানের কংগ্রেস নেতা শচীন পাইলট কি যোগ দিচ্ছেন বিজেপিতে?

কংগ্রেস গত বছর অভিযোগ করে, বিজেপি রাজস্থানে অশোক গহলৌতের সরকার ফেলার জন্য শচীনকে টোপ দিয়েছে। শচীনও কংগ্রেস ত্যাগের জন্য প্রায় প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকের পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। রাহুল পরে সংবাদ মাধ্যমে বলেন, শচীনকে বলা হয়েছে, রাজস্থান প্রদেশ কংগ্রেসে কিছু রদবদল করা হবে। সোমবার শচীন সংবাদ মাধ্যমে বলেন, এই প্রতিশ্রুতি এখনও পালিত হয়নি।

বৃহস্পতিবার প্রশ্ন উঠেছিল, প্রবীণ কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বলও কি বিজেপির দিকে পা বাড়াবেন? কারণ গত বছর কংগ্রেসের যে ২৩ জন নেতা দলের নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষ জানিয়েছিলেন, সিব্বল তাঁদের অন্যতম। কিন্তু সিব্বল এদিন বলেন, আমি মরব, তবু বিজেপিতে যাব না। জিতিন প্রসাদ যেভাবে দলত্যাগ করেছেন, তাকে তিনি বলেন ‘প্রসাদ রাম পলিটিক্স’। এর পিছনে কোনও আদর্শ নেই। কেবলই ব্যক্তিস্বার্থ আছে।

তাঁর কথায়, “আমাদের পার্টি নেতৃত্ব কী করেছেন বা করেননি, তা নিয়ে আমি কোনও কথা বলব না। এখন অনেক সিদ্ধান্তই আদর্শের ভিত্তিতে নেওয়া হচ্ছে না। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে প্রসাদ রাম পলিটিক্সের ভিত্তিতে।” পরে তিনি বলেন, “একসময় ছিল আয়ারাম গয়ারাম পলিটিক্স। পশ্চিমবঙ্গে কী হয়েছিল আমরা সবাই দেখেছি। অনেকে ভাবল, বিজেপি জিতবে। তাই তারা দলত্যাগ করল। এক্ষেত্রে কেউ আদর্শের ভিত্তিতে ভোটে লড়ছে না। তারা ভাবছে, ভোটে জিতলে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হবে।” সিব্বলের মতে, কেবল পশ্চিমবঙ্গ নয়, মধ্যপ্রদেশ, কর্নাটক ও মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতেও একই প্রবণতা দেখা গিয়েছে।

Leave a comment

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More