বিধায়ক কেনাবেচার চেষ্টা, অনুগতদের জয়পুর থেকে জয়সলমিরে সরালেন অশোক গেহলোট

দ্য ওয়াল ব্যুরো : জুলাই মাসের শুরুতে রাজস্থানে বিদ্রোহ করেন কংগ্রেস নেতা শচীন পাইলট। তখন থেকেই নিজের অনুগামী ১০০-র বেশি বিধায়ককে জয়পুরের এক হোটেলে রেখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলোট। বৃহস্পতিবার রাজস্থানে বিধানসভা অধিবেশনের দিনক্ষণ স্থির হয়। অশোক গেহলোটের অভিযোগ, এর পরেই পুরোদমে বিধায়ক কেনাবেচার খেলায় নেমে পড়েছে বিজেপি। বিধায়কদের দলত্যাগের জন্য এখন আরও বেশি দর দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অনুগত বিধায়কদের জয়পুর থেকে সরিয়ে জয়সলমিরে নিয়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিন একটি বিশেষ বিমানে কংগ্রেস বিধায়কদের জয়সলমিরে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৪ অগাস্ট অবধি তাঁরা এক বিলাসবহুল রিসর্টে থাকবেন। ওইদিনই শুরু হবে বিধানসভার অধিবেশন। কংগ্রেস বিধায়কদের জয়সলমিরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। রাজস্থানের বিজেপি প্রধান সতীশ পুনিয়া বলেন, “জয়সলমির থেকে পাকিস্তান বেশি দূরে নয়। জয়সলমির থেকে গুজরাতও বেশি দূরে নয়। বিধায়করা কোনদিকে যেতে চান? অশোক গেহলোটের উচিত বিধায়কদের স্বাধীনতা দেওয়া।”

গত এক সপ্তাহ ধরে মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভা অধিবেশনের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছিলেন। রাজ্যপাল কলরাজ মিশ্র কয়েকবার অনুরোধ নাকচ করে দেন। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার স্থির হয়, অধিবেশন হবে ১৪ অগাস্ট থেকে। এদিনই মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কংগ্রেস বিধায়কদের কেনার চেষ্টা করছে বিজেপি। তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে শচীন পাইলটের বিদ্রোহী শিবির। শুক্রবারও তিনি বলেন, “গত রাতে বিধানসভা অধিবেশনের দিন ঘোষণা হওয়ার পরে বিজেপি বিধায়কদের আরও বেশি টাকা অফার করছে। আগে বলা হচ্ছিল, কেউ দল ভেঙে বিজেপির দিকে গেলে প্রথম দফায় দেওয়া হবে ১০ কোটি টাকা। পরের দফায় দেওয়া হবে ১৫ কোটি টাকা। কিন্তু এখন বলা হচ্ছে, বিধায়করা যত টাকা চাইবেন, তত পাবেন।”

২০০ সদস্যের রাজস্থান বিধানসভায় গরিষ্ঠতা পেতে হলে চাই ১০১ টি আসন। কংগ্রেসের বিধায়কের সংখ্যা এর চেয়ে সামান্য বেশি। বিজেপির বিধায়কের সংখ্যা ৭২। এছাড়া কয়েকটি ছোট দল ও নির্দল বিধায়ক মিলিয়ে বিধানসভায় বিরোধীদের পক্ষে আছেন ৯৭ জন। এর মধ্যে বিএসপি নেত্রী মায়াবতী রাজস্থানে তাঁর দলের ছ’জন বিধায়ককে নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁরা যেন কংগ্রেসের বিপক্ষে ভোট দেন। যদিও সেই ছয় বিধায়ক গত সেপ্টেম্বর মাসে যোগ দিয়েছেন কংগ্রেসে। বিজেপি থেকে আদালতে অভিযোগ করা হয়েছে, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন ছয় বিএসপি বিধায়ক। আদালতে একই অভিযোগ করেছে বিএসপি-ও।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More