অ্যাম্বুলেন্স, ভেন্টিলেটরের জন্য চরম হয়রানি, কোভিডে প্রাণ গেল এনএসজি কমান্ডারের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী কিংবা বলিউড তারকা, করোনা ভাইরাসের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না কেউই। এমনকি মারণ ভাইরাস প্রাণ কেড়েছে বহু চিকিৎসকেরও। এবার ভাইরাসের থাবায় প্রাণ হারালেন ন্যাশানাল সিকিউরিটি গার্ডের এক সিনিয়র কমান্ডো।

এনএসজির গ্রুপ কমান্ডার কো-অর্ডিনেটর বিকে ঝা গত ১৯ এপ্রিল নাগাদ করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হতে শুরু করলে ৫৪ বছরের ওই অফিসারকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গ্রেটার নয়ডায় সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্স হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতিও হচ্ছিল। কিন্তু অবশেষে ভেন্টিলেটর, অ্যাম্বুলেন্সের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরতে হয় তাঁর পরিবারের লোকজনকেও। হয় না শেষ রক্ষা।

সূত্রের খবর, মঙ্গলবার রাতে আচমকাই ফের সংকটজনক হয়ে পড়েন বিকে ঝা। চিকিৎসকরা জানান তাঁকে ভেন্টিলেশন সার্পোটে রাখা দরকার। ওই হাসপাতালে ওই মুহূর্তে ভেন্টিলেটর ছিল না। ফলে শুরু হয় পাগলের মতো খোঁজাখুঁজি। এমনকি দিল্লি এইমস হাসপাতালেও খোঁজ করলে জানিয়ে দেওয়া হয় তারা এত কম সময়ের মধ্যে ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করতে পারবে না।

অবশেষে এনএসজির তরফে নয়ডার ফর্টিস হাসপাতালে যোগাযোগ করলে ভেন্টিলেটর মেশিন জোগাড় হয়। কিন্তু এরপরের কাজটা ছিল আরও কঠিন। কারণ সিএপিএফের ওই বিশেষ হাসপাতালে একটা উপযুক্ত অ্যাম্বুলেন্সেরও ব্যবস্থা ছিল না। এই ছোটাছুটিতেই চলে যায় মূল্যবান সময়।

অনেক কষ্টে যখন অ্যাম্বুলেন্স জোগাড় হয়, ততক্ষণে সময় শেষ হয়ে এসেছে। গাড়িতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন বিকে ঝা। হাসপাতালে পৌঁছনোর কিছুক্ষণ পরেই মারা যান তিনি। উচ্চপদস্থ এই অফিসারের ভেন্টিলেটর ও অ্যাম্বুলেন্সের জন্য হয়রানি সিএপিএফ হাসপাতালের পরিকাঠামো নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছে।

তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন এনএসজির ডিজি থেকে শুরু করে সমস্ত পদস্থ অফিসাররাই। এনএসজির তরফে প্রয়াত অফিসারের ছবি পোস্ট করে টুইটে লেখা হয়, “তাঁর মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। দেশের প্রতি তাঁর আত্মনিবেদন আমরা সবসময় মনে রাখব। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More