ধর্মান্তরের অভিযোগে উত্তরপ্রদেশে হেনস্থা দুই নান-কে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস অমিত শাহের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত শুক্রবার উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসি রেল স্টেশনে দুই নান ও তাঁদের সঙ্গীদের হেনস্থা করে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সদস্যরা। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের ওই ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের ধারণা হয়, দুই নান ধর্মান্তরের চেষ্টা করছেন। সেজন্য তাঁদের জোর করে ট্রেন থেকে নামানো হয়। পরে রেল স্টেশনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাঁরা কাউকে ধর্মান্তর করেননি। ওই ঘটনার কথা জানাজানি হতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বুধবার আশ্বাস দিয়েছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ওই ঘটনা নিয়ে অমিত শাহকে চিঠি লিখেছিলেন। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আর্জি জানান, যারা ওই ঘটনায় যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে যেন কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

পিনারাই বিজয়ন বলেন, “এই ধরনের ঘটনায় দেশের ভাবমূর্তির ক্ষতি হয়। ধর্মীয় সহিষ্ণুতা আমাদের দেশের প্রাচীন ঐতিহ্য।”

দুই নান ও তাঁদের সঙ্গীরা ১৯ মার্চ হরিদ্বার-পুরী উৎকল এক্সপ্রেসে ভ্রমণ করছিলেন। রেল কম্পার্টমেনেটে তোলা ২৫ সেকেন্ডের এক ভিডিওতে দেখা যায়, দুই নানকে কয়েকজন ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন পুলিশকর্মীকেও দেখা যায়। একজনকে বলতে শোনা যায়, “আপনাদের মালপত্র নিয়ে চলুন। আপনারা যা বলছেন, তা যদি সত্য হয়, তাহলে আপনাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হবে।” আর এক ব্যক্তি বলছেন, “নেতাগিরি করছেন কেন?” তৃতীয় এক ব্যক্তি বলেন, “চলিয়ে ম্যাডাম। জলদি উঠাও সামান।”

ইতিমধ্যেই জোর করে ধর্মান্তরিত করার বিরুদ্ধে আইন নিয়ে এসেছে উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশ সরকার। দুটিই বিজেপি শাসিত রাজ্য। বিজেপি শাসিত আরও একাধিক রাজ্য যেমন হরিয়ানা, অসম, কর্নাটকও এই আইন আনার কথা ভাবছে।

উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশে যে আইন নিয়ে আসা হয়েছে তাতে স্পষ্ট বলা রয়েছে, কোনও মহিলা যদি স্বেচ্ছায় ধর্ম পরিবর্তন করতে চান তাহলে তাঁকে অন্তত দু’মাস আগে আবেদন করতে হবে। একবার আবেদন মঞ্জুর হয়ে গেলে তিনি ধর্ম পরিবর্তন করতেই পারেন। কিন্তু জোর করে কাউকে ধর্মান্তরিত করা যাবে না। সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেল কিংবা সর্বাধিক ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা হতে পারে। বিজেপি শাসিত একাধিক রাজ্য এই আইন পাশ করলেও অবশ্য কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের এই ধরনের কোনও পরিকল্পনা নেই বলেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More