চার মাসের শিশুকে ২০ বার লোহার শিকের ছ্যাঁকা! জ্বর কমানোর ‘দাওয়াই’-এ মৃত্যু হল তার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একবিংশ শতাব্দীর ডিজিটাল ইন্ডিয়া। তবু আনাচকানাচে গেড়ে বসে আছে অশিক্ষা, কুসংস্কার আর অন্ধবিশ্বাস। এর ফল যে কত মারাত্মক হতে পারে তা ইতিপূর্বে প্রাণ দিয়ে বুঝিয়ে গিয়েছেন অগণিত মানুষ।

এবার শিকার হল এক ছোট্ট শিশু। জানা গেছে, ওড়িশার লোকিগুড়া গ্রামে  ত্রিনাথ নায়কের ছেলে মুনার বয়স হয়েছিল মাত্র চার মাস। কদিন ধরেই তার সর্দি কাশি আর ধুম জ্বর। কিছুতেই কমছে না। অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ঘুরে ঘুরেও কোনও লাভ না হওয়ায় মুষড়ে পড়েছিলেন মুনার বাবা-মা। শেষে এক পড়শির কথায় রাজি হলেন। চেষ্টা তো করতেই হবে। অতএব, নিয়ে গেলেন ‘ঝাড়াতে’!

পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির এরপর যা অবস্থা হল তা অবর্ণনীয়। ওঝা দাবি করে, ‘ভূতে ধরেছে’ মুনাকে। অতএব ভূত তাড়ানোই রোগের একমাত্র উপশম। সাড়ম্বরে জলপোড়ার ব্যবস্থা করা হয়। অত্যাচারের চরমে উঠে এরপর ভূত তাড়ানোর নামে অসুস্থ মুনাকে লোহার শিক গরম করে ২০ বার ছ্যাঁকা দেয় ওই ওঝা।

শোকবিধ্বস্ত বাবা-মার অভিযোগ, অতটুকু তুলতুলে শরীর শিকের ছ্যাঁকায় দাগরা দাগরা হয়ে ফুলে গেছিল। যন্ত্রণা সহ্য করার জন্য আর কোনও শক্তিই অবশিষ্ট ছিল না জ্বর-কাহিল মুনার শরীরে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে ত্রিনাথ এবং তাঁর স্ত্রী সেই অবস্থায় মুনাকে নিয়ে জেলা হাসপাতালে ছোটেন। কিন্তু বড্ড দেরি হয়ে গেছিল।

ডাক্তার শচীকান্ত লেঙ্কা জানিয়েছেন, ‘মুনার অভিভাবক যখন তাকে নিয়ে সদর হাসপাতালে এল তখন আর কিছু করার নেই। পোড়ার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে বাচ্চাটা আগেই মারা গিয়েছে।’ আইপিসি বিভাগের ৩০৪ ধারায় অভিযুক্ত ওঝার বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। আপাতত সেই ভূত-তাড়ানো ওঝা হাজতবাস করছে।

ওড়িশায় এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে। বছর তিনেক আগে কুসংস্কারের বশবর্তী ৯ বছরের এক শিশুকে ‘বলি’ দেওয়া হয়েছিল এই রাজ্যেই! ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরেই চমকে উঠেছিল সারা দেশ। শিশুটির নিখোঁজ হওযার পাঁচ দিন পর তার মুণ্ডহীন দেহ উদ্ধারের পরে প্রথমেই পুলিশের সন্দেহ হয়, কুসংস্কারবশত ওই নাবালককে খুন করা হতে পারে। কথায় অসঙ্গতি থাকায় কাকা এবং দাদার উপর সন্দেহ হয় পুলিশের। গ্রেফতার করে জেরা করতেই তারা খুনের কথা স্বীকার করে নেয়। জানায়, নিজেদের মনোস্কামনা পূরণের জন্যই নাকি মা দুর্গার সামনে তারা ওই নাবালকের ‘বলি’ দিয়েছিল।

এবার বলি না দিয়েও কার্যত ছ্যাঁকা দিয়ে পুড়িয়ে মারা হল একরত্তিকে। কুসংস্কার আর অন্ধবিশ্বাস থেকে কবে মুক্ত হবেন এই মানুষগুলি, প্রশ্ন এখন সেটাই।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More