এনআরএসে অক্সিজেনের নল ছিঁড়ে কাতরাচ্ছেন বৃদ্ধ, বাড়িতে ফোন করে বললেন ‘আমি মারা যাচ্ছি’, হল না শেষরক্ষা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বছরের আতঙ্কের স্মৃতি এবার কলকাতাতেও ফিরছে! কোভিড পর্বের চরম সময়ে গত বছর দেখা গেছিল, বহু করোনা রোগী চিকিৎসার জন্য দোরে দোরে ঘুরছেন, চিকিৎসা না পেয়ে কাতরে মৃত্যুও দেখেছিল শহর। এবার ফের একই ধরনের অভিযোগ উঠল সরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে। এনআরএস হাসপাতালের কোভিড ওয়ার্ডে অক্সিজেনের নল ছিঁড়ে কাতরে মৃত্যু হল এক বৃদ্ধের। এমনটাই দাবি করেছেন তাঁর ছেলে।

জানা গেছে, কয়েক দিন আগে করোনায় আক্রান্ত হন এন্টালির বাসিন্দা স্বপন দাস। প্রবল শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন ৬৮ বছরের বৃদ্ধ, তাঁকে এনআরএস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অভিযোগ, বুধবার দুপুরে স্বপনবাবুর অক্সিজেনের নলটি কোনও ভাবে ছিঁড়ে যায়। তিনি ওই অবস্থায় ডাকাজাকি করেও কাউকে পাননি বলে দাবি করেছেন তাঁর ছেলে সোহম দাস।

বৃদ্ধ সে সময়ে বাড়িতে ফোন করে জানান, অক্সিজেনের নল ছিঁড়ে গেছে। সে সময়ে বাড়ি থেকে ফোন করা হয় হাসপাতালে। সোহমের দাবি, সে সময়ে কর্তৃপক্ষের তরফে তাঁদের কেবল বলা হয় ‘দেখছি’। সোহমের কথায়, “বাবা বলছিলেন, ‘আমার অক্সিজেনের নল ছিঁড়ে গিয়েছে, এখানে দেখাশোনার কেউ নেই।’ বাবা বললেন, ‘আমি এখন মারা যাচ্ছি। আমি আর বাঁচব না।’…”

ফোনে এমনটা শোনার পরে স্বপনবাবুর পরিবার হাসপাতালে এসে হাজির হলে ভিডিও কলে কথা বলানোর ব্যবস্থা করা হয় বাবার সঙ্গে। সোহম জানিয়েছেন, স্বপনবাবু তখন প্রায় অচৈতন্য। কথা বলতে পারেননি। নার্স জানতে চান স্বপনবাবুর কাছে, কোনও অভিযোগ আছে কিনা। স্বপনবাবু জানান তাঁর কোনও অভিযোগ নেই।

বুধবারের এই ঘটনার পরে গতকাল, বৃহস্পতিবার পয়লা বৈশাখের দুপুরে মারা যান স্বপনবাবু। সোহমের অভিযোগ, ওয়ার্ডের খবর বাইরে কীভাবে গেল, তা নিয়ে হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে তাঁদের। রোগীকে কেন ফোন রাখতে দেওয়া হয়েছিল তা নিয়ে ধমকও শুনতে হয়। তাঁর দাবি, সরকারি হাসপাতালের গাফিলতির জন্য‌ই মৃত্যু হল বাবার।

এন‌আর‌এস কর্তৃপক্ষ জানান, ওয়ার্ডে রোগীর কাছে মোবাইল থাকার কথা নয়। কিন্তু অক্সিজেনের নল খুলে রোগীর ছটফট করার অভিযোগ প্রসঙ্গে কোন‌ও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More