‘আল্লাকে খুশি করা’র জন্য কাশ্মীরিদের পাশে থাকার ‘জেহাদ’ ঘোষণা করলেন ইমরান

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্যাতিত কাশ্মীরিদের পাশে থাকাটা আমাদের ‘জেহাদ’। — আমেরিকা থেকে ফিরে এসে এমনটাই বললেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তাঁর কথায়, “বিশ্বের কেউ কাশ্মীরের পাশে থাকুক বা না থাকুক, আমরা কাশ্মীরিদের পাশে থাকব।”

রবিবার রাষ্ট্রপুঞ্জের ৭৪তম সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষ করে দেশে ফেরেন ইমরান। ফেরার পরেই এ কথা বলেন তিনি। ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমরান খান নামার পরেই তাঁকে স্বাগত জানান নেতা-মন্ত্রীরা। বিমানবন্দরের বাইরেও হাজার হাজার সাধারণ মানুষ তাঁকে স্বাগত জানাতে আসেন।

বিমানবন্দরে আসা নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়েই সাংবাদিক বৈঠক করে ইমরান খান জানান, কাশ্মীরিদের ওপর অত্যাচার চলছে। ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না। সারা দেশ থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন কর রাখা হয়েছে। স্বাভাবিক কর্মজীবন ব্যাহত। “তাই এই মুহূর্তে কাশ্মীরিদের পাশে দাঁড়ানোটা আমাদের জেহাদ। আমরা কাশ্মীরিদের পাশে রয়েছি, কারণ আমরা আল্লাকে সন্তুষ্ট করতে চাই। যত ক্ষণ পর্যন্ত আপনারা (সাধারণ মানুষেরা) পাশে থাকবেন, আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাব।”– বলেন ইমরান।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের সামাজিক ও মানবিক সঙ্কট ও সেখানকার নাগরিকদের বিচ্ছিন্ন জীবনযাপনের বিষয়টি রাষ্ট্রসঙ্ঘে উপস্থাপন করে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তাঁর ৫০ মিনিটের বক্তৃতার পরে প্রশংসার ঝড় বয়েছে অধিবেশনে। তাঁর ‘যুদ্ধবিরোধী’ অবস্থান মুগ্ধ করেছে অনেককেই। 

সেখানে ইমরান বলেন, ইসলামিক সন্ত্রাস বলতে কিছু হয় না। সামাজিক অবিচার উগ্রপন্থার জন্ম দেয়। গোটা বিশ্বকে হুঁশিয়ার করে বললেন, ভারতের অ্যাজেন্ডা পরিষ্কার। কাশ্মীরে ওরা যে ভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে, তাতে উপত্যকার কোনও যুবক ফের পুলওয়ামার মতো ঘটনা ঘটাতে পারে। তখন ভারত ফের দায়ী করতে পারে পাকিস্তানকে। উপ মহাদেশের দু’টি প্রতিবেশী দেশের মধ্যে শুরু হয়ে যেতে পারে যুদ্ধ।

এ সব কথা বলার পরে রাষ্ট্রপুঞ্জের সভাপতির উদ্দেশে পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সমস্ত কারণেই ইসলামাবাদের আবেদন, এই সংঘাত আপনারাই ঠেকাতে পারেন। নইলে রাষ্ট্রপুঞ্জের অস্তিত্বই তো অর্থহীন হয়ে পড়বে।

পাক প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তৃতা শেষ হতেই ভারতীয় কূটনীতিকরা বলেন, যুদ্ধ করার মুরোদ যে ইসলামাবাদের নেই ইমরানের কথাতেই তা পরিষ্কার। তাই রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি কান্নাকাটি করেছেন যাতে কাশ্মীর প্রশ্নে রাষ্ট্রপুঞ্জ হস্তক্ষেপ করে। কিন্তু নয়াদিল্লি তা হতে দেবে না। কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ ব্যাপারে কারও নাক গলানোর অধিকার নেই।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More