নাগরিকের জীবন বাজি রেখে ভোট কেন

0

২০২১ সালের (2021) শেষদিক থেকেই চোখ রাঙাচ্ছিল কোভিডের থার্ড ওয়েভ (Third Wave)। বছরের শুরুতেই একেবারে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে লাগল সংক্রমণ (Infection)। অনেকের মনে সংশয় দেখা দিয়েছিল, এই অবস্থায় কি রাজ্যে পুরভোট করা উচিত হবে?

কিন্তু সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বছরের প্রথমেই নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করল, বিধাননগর, আসানসোল, চন্দননগর ও শিলিগুড়ি, এই চার শহরে ভোট হবে ২২ জানুয়ারি।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জানুয়ারির শেষেই কোভিডের তৃতীয় ঢেউ উঠবে তুঙ্গে। সেই সময়েই মানুষ লাইন দিয়ে ভোট দেবে। ভোটের আগে প্রচারও হবে। এতে কি সংক্রমণ আরও বাড়বে না?

গত বছরেও কোভিডের দ্বিতীয় ওয়েভের মাঝে পশ্চিমবঙ্গ সহ কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা ভোট হয়েছিল। তাতে অসন্তুষ্ট হয়ে মাদ্রাজ হাইকোর্ট মন্তব্য করে, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে হয়তো খুনের অভিযোগ আনা যেতে পারে।

এবছরও করোনার আর একটি ওয়েভের মধ্যেই উত্তরপ্রদেশ সহ কয়েকটি রাজ্যে ভোট করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। এলাহাবাদ হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছিল, ভোট পিছনো যায় কিনা ভেবে দেখা হোক। কিন্তু তাতে ভোট পিছোয়নি। পুরভোট পিছিয়ে দেওয়ার জন্য মামলা হয়েছিল এই রাজ্যেও। কিন্তু মঙ্গলবার কমিশন কলকাতা হাইকোর্টে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা ভোট পিছোতে চায় না।

তার মানে ব্যাপারটা এইরকম দাঁড়াচ্ছে যে, অতিমহামারী হোক আর যাই হোক, ভোট ঠিক সময়ে হতেই হবে। এই জেদের কোনও মানে হয়? কোনটা আগে, মানুষের জীবন, না ভোট?

কোভিডের তৃতীয় ওয়েভ এসেছে মূলত ওমিক্রন ভ্যারিয়ান্টের মাধ্যমে। তার উপসর্গ তেমন তীব্র নয়। তাই অনেকে ভাবছেন, এই অবস্থায় ভোট হলে তেমন বিপদ হবে না।

এই ভাবনা পুরোপুরি ঠিক নয়। ওমিক্রনের উপসর্গ মৃদু বটে কিন্তু তা অত্যন্ত সংক্রামক। যাঁদের নানারকম কো-মর্বিডিটি আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ওমিক্রন বিপদ ঘটাতে পারে।

নির্বাচন কমিশন কোভিড বিধি মেনে ভোট প্রচারের কথা বলেছে। প্রচারের সময় কী কী করা যাবে না, তার লম্বা তালিকাও দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, রোড শো, পদযাত্রা নিষিদ্ধ। সাইকেল, বাইক বা গাড়ির মিছিল নিষিদ্ধ। বাড়ি বাড়ি প্রচারের সময় প্রার্থীর সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষী বাদে সর্বাধিক চারজন থাকতে পারবেন। খোলা মাঠে সভা হলে সর্বাধিক ৫০০ জন উপস্থিত থাকতে পারবেন।

এরকম আরও কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কিন্তু অতশত সত্যিই মেনে চলা হবে তো?

এখনও রাস্তাঘাটে বেরোলে দেখা যাচ্ছে, কেউ কেউ মাস্ক পরেননি। অনেকের মাস্ক আবার থুতনিতে নেমে এসেছে। অর্থাৎ আমাদের দেশের সাধারণ মানুষই কোভিড বিধি মেনে চলার ব্যাপারে খুব একটা উৎসাহী নয়। সেক্ষেত্রে ভোটের প্রচারের সময় সবাই ঠিকঠাক বিধি মেনে চলবে, এমনটা কি আশা করা যায়?

একথা ঠিক যে, কয়েকটি পুরসভায় দীর্ঘদিন ধরে ভোট হওয়া বাকি আছে। কিন্তু আরও কিছুদিন পরে সেখানে ভোট হলে এমন কি অসুবিধা হত? ভোট ছাড়াই যখন এতদিন চলল, আরও কিছুদিন কি চালানো যেত না? এই কোভিড পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের আরও বাস্তববাদী হওয়া উচিত ছিল।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.