চুলকানি

পিয়ালী দত্ত চক্রবর্তী

চারিদিকে এতো চুলকানির প্রাদুর্ভাব দেখে একটু চুলকানোর লোভটা সামলাতে পারছি না বলে আগেই সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আসলে চুলকানি খুবই ছোঁয়াচে রোগ বুঝলেন। একটু সামলে-সুমলে থাকতে না পারলেই… ব্যাস্… শুরু হয়ে গেল! কি বিশ্রী পরিস্থিতি যে তৈরি হয় রাস্তাঘাটে… সত্যি! বিশেষ করে যারা বিষয়টা প্রত্যক্ষ করছেন তাঁদের কাছে। আমি চুলকানি নিয়ে লিখব ইচ্ছে প্রকাশ করাতে আমার শ্রদ্ধেয় বর খুবই ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন। বারবার সাবধান করছেন “এই বিতর্কিত বিষয় নিয়ে লিখতে যেও না… যেও না…”। কত করে আমার মাথা খুঁড়ে খুঁড়ে ঢোকানোর চেষ্টা করলেন যে “দেখো, এখন বিষয়ের অভাব নেই। তুমি খেলা কত প্রকার ও কী কী নিয়ে লিখতে পারো… আবার তুমি বিভিন্ন পক্ষের খেলোয়াড়দের তালিকা নিয়েও লিখতে পারো… কিংবা হয়তো টুম্পা সোনা কাকে ক’টা হাম্পি দেবে সেটা নিয়েও।” কিন্তু এতো কিছু বোঝানোর পরেও সেই অদ্ভুত গেড়োয় পড়ে এখনও চুলকানিতেই আটকে আছি।

আসলে বেশ কিছুদিন যাবৎ চারপাশে চুলকানি খুবই বেড়েছে। জানিনা এটাও Global Warming এর সাইড এফেক্ট কি না। যেকারণে কনকনে AC restaurant এ গিয়েও sleeveless top এর ওপরের shrug বা sweater টা খুব অবলীলায় খুলে ফেলতে হয়। “উফ্ বাবা কি গরম.. sooo hot..” বলে ! ব্যাস্.. চুলকানি ছড়িয়ে গেলো তো। কোথায় আবার… চারপাশের টেবিল চেয়ারে। কী মুশকিল… আমি কি তাই বললাম? কে ছড়ালো আর কে কুড়োলো সেটা তো আপনি ভাববেন। আমি progressive এর দলে, এতো কিছু ভাবতে পারব না। এ কি সেই বিংশ শতাব্দীতে পড়ে আছি নাকি মশাই যে দাসখত দিয়ে রেখেছি.. “তুমিই পরম ড্যাশ?” না… না… শূন্যস্থানে লিখবো না… গোমাতার পূজারীদের বেকার রাগানোর কোনো ইচ্ছে আমার নেই।

যাই হোক, চুলকানিতে ফিরে আসি। সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্রেকফাস্ট সেরে ব্যাগে টিফিন ঝুলিয়ে অফিসের পথে… প্রথমেই মেট্রো রেলে লোক দেখানো যুগল প্রেম (যেটা আজকাল ক্রমবর্ধমান, সুমন চাটুজ্জের সেই বিখ্যাত গানের লাইনটাকে বাস্তবায়িত করার কি অদম্য ইচ্ছে তাদের! আরে ওই লাইনটা “ইয়ে তে ইয়ে রেখে ব্যারিকেড করো!” কিংবা বাসে ট্রামে শীতল অথবা উন্মুক্ত কাঁধ… কিংবা conductor এর গেঞ্জি (স্যান্ডো) পরিহিত… উফফফ্! যত নষ্টের গোড়া ওই Global Warming! শহরের temperature এত্তো বেড়ে গেছে যে কদিন পরে হয়তো বারমুডাও ফর্মাল পোশাকের তালিকায় আসতে বাধ্য হবে! যাইহোক, এবারে অফিসে এসেই…ব্যাস্.. পুরোনো রোগটা এতো জ্বালাতন শুরু করে দিলো। সামনে উজ্জ্বল লিপিস্টিক রাঙানো ‘….’।… সামলানো যায় কি? আরে বাবা শরীরটাকে তো রাখতে হবে। তাই এই বিশেষ Health Drink। না.. না.. চুলকানির সাথে Health Drink এর কোনো বিরোধ নেই বরং একটা সখ্যই আছে বলা যায়।

ওদিকে চুলকানির carrier ও কিন্তু সাংঘাতিক সব fungi আর bacteria রা। এরা স্বাধীনচেতা, progressive পরজীবি। এরা চায় যেভাবেই হোক host এর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে। আর host দৃষ্টিপাত না করলে এরা যে ভীষণরকম দুঃখু পায়। সেই কোন ভোরে ঘুম থেকে উঠে এতো সাজুগুজু… সবই কি বিফলে যাবে? আসলে এদের মনটাও তো খুবই কোমল, যতই হোক এককোষী যে। তাই বেশি দুঃখ দিতে নেই। অন্তর্যামী রাগ করবেন। তবে এটা মাথায় রাখতেই হবে.. after all এরা কিন্তু পরজীবি… একবার ধরা দিলেই ব্যাস্, গল্প শেষ! চুলকে চুলকেই জীবন সারা! এরকম সাংঘাতিক bacteria/fungi র জন্য ঘরণী itch guard কোনোই কাজে লাগে না বরং চুলকানির ইচ্ছে আরো বাড়িয়ে দেয়। শ্যালিকালটা একটু কাজে এলেও দীর্ঘস্থায়ী নয়। শেষে না আবার স্টেরয়েড ব্যবহার করতে হয়। আরে না না আমি শীলাজিৎ এর কথা বলিনি! তার থেকে নচিকেতার ওই বিখ্যাত লাইনটা মনের ভিতরে ভীষণ ভাবে চুলকোচ্ছে… থুড়ি বাজছে… “ভালোবাসা, আসলে তা pituitary র খেলা… আমরা বোকারা বলি প্রেম!” উফ্ কি জ্বালা.. এখানেও আবার খেলা! “Its a game… Its a game… Its a game”… কেষ্ট দা… কি dialogue দিয়েছো মাইরি! আরে আমি কিন্তু গীতার কথা বলছিলাম। হ্যাঁ… হ্যাঁ… ধর্মগ্রন্থ গীতা, নয়তো কী? তবে এই খেলায় Retired Hurt হয়ে মাঠ থেকে বেরিয়ে গেলে একরকম… আর তা না হলেই কিন্তু sameside গোল এর সম্ভাবনাই সব থেকে বেশি। তাই হালকা চুলকানি… হ্যাঁ… ঠিক আছে। মানে acceptable, সবাই খেলতেই পারেন। ওই practice ম্যাচের মতো আর কি। তাতে শরীর মন দুইই তরতাজা থাকবে। শরীরে হরমোনের সমতাও বজায় রাখতে হবে তো। ব্লাড প্রেসার, ব্লাড সুগার সব normal range এ থাকবে। এতে সংসারের সুখ স্বাচ্ছন্দ্য বজায় থাকে। তবে ওই যে.. ব্যাপারটা খুবই পরিমিত হতে হবে। যেটা প্রয়োজনে আটকানোও যাবে। এই প্রসঙ্গে বলে রাখি চুলকানির কিন্তু কোনো উপসংহার হয় না, তাই চুলকানি চলতেই থাকবে। “চুলকৈবেতি…  চুলকৈবেতি..!” “পাগলা চুলকে নে!” না না, “পাগলা চুলকে যা!”

 

লেখিকা পিয়ালী দত্ত চক্রবর্তী পেশায় একজন বিজ্ঞানী যিনি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ কেমিক্যাল বায়োলজি (সি. এস. আই. আর, ইন্ডিয়া), যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োকেমিস্ট্রি ও ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সে পি. এইচ. ডি করে কলকাতার বুকেই এক ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থায় (অ্যালবার্ট ডেভিড লিমিটেড) রিসার্চ ও ডেভেলপমেন্ট উইং এ গবেষক বিজ্ঞানী হিসেবে কর্মরত।

এর বাইরেও সমকালীন সমাজ থেকে তুলে আনা বিভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে সরস ও প্রাঞ্জল ভাষায় লেখালেখির অভ্যাস। তাঁর বেশ কিছু লেখা আন্তর্জাতিক ওয়েবম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More