এখনও বিভাজনের রাজনীতিই করে চলেছে বিজেপি

অনেকে ভেবেছিলেন ভোটে হেরে যাওয়ার পরে ঝিমিয়ে পড়বে বিজেপি। তাদের তৃণমূল বিরোধিতার ঝাঁঝ কমে আসবে। তাঁদের ধারণা ভুল প্রতিপন্ন হয়েছে। বিজেপি এমন একটি দল যে হার স্বীকার করতে চায় না। ভোটে জিততে না পারলে নানাভাবে বিরোধী সরকারকে উত্যক্ত করে। বিধায়ক কেনাবেচা করে সরকার ফেলে দিতে চায়। মধ্যপ্রদেশ ও কর্নাটকে সেরকমই দেখা গিয়েছে। শোনা যায়, রাজস্থানেও শচীন পাইলটকে দলে টেনে বিজেপি সরকার ফেলে দিতে চেয়েছিল। অশোক গহলৌত শেষ মুহূর্তে সামলে নিয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গে অবশ্য সরকার ফেলে দেওয়া অত সহজ হবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিপুল জনাদেশ নিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন। তাছাড়া এখানে ব্যাপক হারে বিধায়ক কেনাবেচাও হয় না।

ভোটে ফল বেরোনর পর থেকে গ্রামে-গঞ্জে বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা হামলার মুখে পড়ছেন। বিজেপির দেওয়া হিসাব অনুসারে তাদের ৭ হাজার কর্মীকে ঘরছাড়া হতে হয়েছে। উত্তরবঙ্গের অনেক বিজেপি সমর্থক নাকি পাশের রাজ্যে আশ্রয় নিয়েছেন। পিঠ বাঁচাতে অনেক বিজেপি সমর্থক তৃণমূলে যেতে চাইছেন। বিজেপির রাজ্যস্তরের নেতাদের মধ্যে শুরু হয়েছে বিরোধ। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসা নেতারা অনেকে পুরানো দলে ফেরার চেষ্টা করছেন। এককথায় একটা হেরে যাওয়া দলে যা যা হওয়ার কথা, সবই বিজেপিতে হচ্ছে।

এর মধ্যেই কিন্তু বিভাজনের রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে বিজেপি। দলের নেতারা ভোটের আগে যেমন চড়া সুরে মেরুকরণের রাজনীতি চালিয়েছিলেন, ভোটের পরেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। এবারের ভোট হয়েছিল অভুতপূর্ব বিভাজনের পরিস্থিতিতে। বিজেপি নেতাদের ধারণা, সংখ্যালঘুরা ঢালাও তৃণমূলকে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু হিন্দু ভোট ভাগ হয়ে গিয়েছে। তাঁরা সম্ভবত স্থির করেছেন, আগামী পাঁচ বছর বিভাজনের রাজনীতি চালিয়ে যাবেন। তাতে যদি হিন্দু ভোট ঐক্যবদ্ধ হয়, তাহলে গেরুয়া ব্রিগেডকে কেউ ঠেকাতে পারবে না।

বিভাজনের রাজনীতি মানে শুধু হিন্দু-মুসলিম নয়। আরও নানারকম আছে। সম্প্রতি বিজেপির সাংসদ জন বার্লা উত্তরবঙ্গকে আলাদা রাজ্য করার দাবি তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, উত্তরবঙ্গ অনুন্নয়নের শিকার। বাংলাদেশিরা ঢুকে চা-বলয় দখল করে নিচ্ছে। কথাগুলো একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কিন্তু বাংলা ভাগ করলেই কি উন্নয়ন হবে? অনুপ্রবেশকারীদের ঠেকানো যাবে?

জন বার্লার সঙ্গে সুর মিলিয়ে অপর সৌমিত্র খাঁ রাঢ় বাংলা তথা পশ্চিমাঞ্চলকে আলাদা রাজ্য করার কথা বলেছেন। কোথাও উন্নয়ন কম হলেই সেখানে আলাদা রাজ্য করতে হবে? একথাই কি বিজেপি বলতে চায়?

দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ অবশ্য বলছেন, তাঁদের দল রাজ্যের বিভাজন চায় না। পরক্ষণেই বলছেন, পশ্চিম পাকিস্তানের অত্যাচার থেকে বাঁচার জন্য পূর্ব পাকিস্তানকে আলাদা হতে হয়েছিল। এখনও সেইরকম অত্যাচার চলছে। এই মন্তব্য শুনলে তো মনে হয়, দিলীপবাবু রাজ্য ভাগের দাবিকে সমর্থনই করেছেন। তাছাড়া জন বার্লা বা সৌমিত্র খাঁয়ের মতো নেতারা আগেভাগে দিলীপবাবুকে কিছু না জানিয়ে রাজ্যভাগের দাবি তুলেছেন, একথাও বিশ্বাস করা মুশকিল।

যতদূর মনে হয়, বিজেপি আগামী দিনে বিভাজনের রাজনীতি চালাবেই। এতে তাদের ভোট বাড়বে কিনা ভবিষ্যৎ বলবে। কিন্তু এই ধরনের মতাদর্শ সমাজে প্রভাব বিস্তার করলে মানুষের ক্ষতি হয়। হিংসা বৃদ্ধি পায়। মূলত নারী, দলিত ও সংখ্যালঘুরা বিপদে পড়েন। উত্তরপ্রদেশে তার নমুনা দেখা যাচ্ছে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More