পরোয়া না করার মানসিকতাই মমতার আসল শক্তি

প্রবীর ঘোষাল

আটের দশকের গোড়াকার কথা।সাংবাদিকতায় আমার তখন সবেমাত্র হাতেখড়ি হয়েছে। খবরের কাগজে তখন ট্রেড ইউনিয়ন বিট ছিল। অর্থাৎ শ্রমিক, কর্মচারীদের দাবিদাওয়ার কথা ছাপা হত। আমি একটা ছোট কাগজে সবেমাত্র ঢুকেছি। আমাকে বলা হয়, ট্রেড ইউনিয়নের খবরাখবর করতে হবে। কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিইউসি–র তখন বড় মাপের নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়। এখন যিনি রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী। তাঁর অফিস ছিল রিপন স্ট্রিটের কাছে। এক বিকেলে সেই অফিসে গেলাম সুব্রতবাবুর সঙ্গে দেখা করতে। ট্রেড ইউনিয়ন, রাজনৈতিক দল ইত্যাদির অফিসে তখন একটা চল ছিল, নেতারা বিকেল সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সঙ্গে চা, চপ, মুড়ি খেতে খেতে আড্ডা দিতেন। আইএনটিইউসির অফিসে দোতলায় ওঠার সিঁড়ির মুখে দেখলাম, ডানদিকের একটি ঘরে একটি তরুণী আঙুল নাড়িয়ে গলা উঁচিয়ে কিছু বলছেন। তাঁর সামনে বসে বেশ কয়েকজন মহিলা। তাঁরা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে সেই তরুণীর কথা শুনছেন। তাঁর কিছু কথা আমার কানে বাজল। আমি দাঁড়িয়ে শুনলাম। ভাষণ শেষ হওয়ার পর সেই তরুণী এসে আমায় জিজ্ঞাসা করল, ‌আপনি কাউকে খুঁজছেন?‌ আমি বললাম, না, খুঁজছি না। আমি আপনার বক্তৃতা শুনছিলাম। তারপর বললাম, আপনি যদি অনুমতি দেন, তাহলে আপনার কথা নিয়ে আমি রিপোর্ট লিখব। সেকথা শুনে উনি বললেন, ‘আমার কথা কাগজে লিখবেন?‌ আমার দলে অনেক বড় বড় নেতা আছেন, তাঁদের কথা লিখুন। ওপরে অফিসে যান, নেতারা আছেন।’ আমি বললাম, ঠিক আছে। নেতাদের কথা লিখব। তবে অনুমতি পেলে আপনার কথাও লিখতে চাই। তরুণী বললেন, ‘বেশ আপনি যখন চাইছেন লিখুন।’

পরদিন সেই স্বল্প প্রচারিত দৈনিকের প্রথম পাতায় প্রকাশিত হল সিপিএমের বিরুদ্ধে এক তরুণীর জ্বালাময়ী ভাষণ। অন্য কাগজের সহকর্মীরা জানতে চাইলেন, কে এই তরুণী, সিপিএমের বিরুদ্ধে এত কড়া কড়া কথা বলেছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম হয়ত তার আগে খবরের কাগজে এক- দুবার ছাপা হয়েছে। কিন্তু তাঁর ভাষণ এবং তাঁকে নিয়ে একটা বড় কপি ছাপা হল সেই প্রথম।

এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়তে থাকে তিনি যাদবপুরের এমপি প্রার্থী হওয়ার পর। ১৯৮৪-র লোকসভা ভোটে যাদবপুরে তিনি সিপিএমের নামজাদা ব্যারিস্টার প্রার্থী সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলেন। ওইসময় রাজ্যে ব্যারাকপুরে দুই ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে তোলপাড় চলছিল। সেই ছাত্রদের নাম ছিল সম্ভবত সঞ্জীব ও তীর্থঙ্কর। ওঁদের দেহ পাওয়া গিয়েছিল ব্যারাকপুরের কাছে রেললাইনের ওপর। অভিযোগ ছিল, ওঁদের খুন করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ বলেছিল, ওটা আত্মহত্যার ঘটনা। এ নিয়ে বিবাদ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালতে পুলিশ তথা রাজ্য সরকারের আইনজীবী ছিলেন সোমনাথবাবু। মনে আছে তখন, কলকাতার একটি বহুল প্রচারিত বাংলা দৈনিকে নিয়মিত কুট্টির কার্টুন ছাপা হত। যাদবপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের পরাজয় এবং ব্যারাকপুরের ওই জোড়া মৃত্যুকে সমসাময়িক রাজনীতির সঙ্গে মিলিয়ে কুট্টির একটা কার্টুন ছাপা হয়েছিল। কার্টুনের বিষয় ছিল সিপিএমের ঝাণ্ডা হাতে একজন রেললাইনে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে এবং চারপাশে জড়ো হওয়া লোকজন বলছে, এটা নির্ঘাৎ আত্মহত্যা!‌

মমতা যখন এমপি, আমি ততদিনে কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি নতুন দৈনিকে যোগ দিয়েছি। নতুন অফিসে এক বিকেলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক কংগ্রেস নেতা একটি স্মারকলিপির কপি জমা করে দিয়ে চলে গেলেন। আমি সেটা মনোযোগ দিয়ে পড়ে দেখলাম একদম শেষদিকে লেখা আছে, ওই জেলার মগরাহাটের নেত্রা অঞ্চলের টেকপাজা গ্রামের এক ভয়ঙ্কর ঘটনার কথা। এক কংগ্রেস কর্মীকে খুন করার পর সিপিএমের লোকেরা কাটা মুণ্ডু নিয়ে নাকি ফুটবল খেলেছে। আমি কালক্ষেপ না করে ভদ্রলোককে খুঁজতে রাস্তায় নেমে আসি। দেখি তিনি বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছেন। পরিচয় হলে জানলাম, তাঁর নাম গোপাল দে। আরও জানলাম, তিনি প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির ঘনিষ্ঠ। প্রিয়বাবুকে গুরু মানেন। কংগ্রেস রাজনীতিতে এই গুরু–শিষ্যের একটা পরম্পরা আছে। আমি তাঁকে গিয়ে বললাম, এতবড় ঘটনার কথা সবচেয়ে শেষে লিখেছেন!‌ উনি বললেন, কী আর করব, আমাদের পার্টিটাই তো এইরকম। আমি বললাম, আপনাদের নেতারা কেউ যায়নি ওই গ্রামে? তিনি বললেন, আলিপুরের ডিএম, এসপিকে ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে।

আমি পরদিন প্রদেশ কংগ্রেস অফিসে গিয়ে নেতাদের কাছে জনে জনে জানতে চাইলাম, টেকপাজা গ্রামের ঘটনা কেউ জানেন কিনা। দেখলাম কেউই জানেন না। একমাত্র মমতা ছাড়া। আমি প্রসঙ্গ তুলতেই উনি বললেন, হ্যাঁ আমি শুনেছি। এরকম একটা বীভৎস ঘটনা ঘটেছে। আমি বললাম, আপনারা কেউ যাবেন না। এলাকাটা আপনার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। মমতা বললেন, আমি সেটা জানি। আমি কাল পরশুই ওখানে যাচ্ছি।

পরদিন সকালে একটা লড়ঝড়ে অ্যাম্বাস্যাডারে মমতা রওনা হলেন। আমিও তাঁর সঙ্গে গেলাম। নিরাপত্তা বলতে একজন কনস্টেবল। এখন হয়ত মগরাহাট ঢিল ছোড়া দূরত্ব। তখন কিন্তু তা ছিল না। গাড়িঘোড়া চলার মতো রাস্তাঘাট প্রায় ছিল না বললেই চলে। তার উপর মগরাহাট ছিল খুব গোলমেলে এলাকা। একটা জায়গায় পৌঁছনোর পর আমাদের প্রায় দু–আড়াই কিলোমিটার হাঁটতে হল। বেশ মনে আছে গ্রামের লোকজন উঁকিঝুঁকি মেরে আমাদের দেখছিলেন। কিন্তু কেউ সামনে এসে ঘটনা নিয়ে দু’কথা বলার সাহস পাননি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর নিহতের স্ত্রীর সন্ধান পাওয়া গেল।

সেখানে গিয়ে জানা গেল আর এক ভয়ঙ্কর ঘটনার কথা। ওই কংগ্রেস কর্মীকে খুনের পর তাঁর ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে সিপিএমের লোকেরা। নিহতের স্ত্রী ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে খোলা আকাশের নীচে বসেছিলেন। কেউ ত্রিসীমানা মাড়ায়নি। সেই দৃশ্য দেখে মমতা ওই মহিলাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেললেন। সামান্য কিছু টাকা তাঁর হাতে দিয়ে কলকাতায় ফিরে এলেন মমতা।

পরদিন কাগজে প্রথম পাতায় ছবি–সহ সেই খবর প্রকাশিত হল। আমার মনে আছে সেই খবর দেখে অনেক কংগ্রেস নেতাই হাসি ঠাট্টা করেছিলেন। আমি কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পেরেছিলাম, ভাত–ঘুম দিয়ে এসে পায়ের ওপর পা তুলে সাংবাদিকদের কাছে সিপিএমের বিরুদ্ধে বিপ্লবী ভাষণ দিয়ে রাজনীতি করার দিন শেষ হয়ে আসছে, কংগ্রেসের নেতারা মমতার কাজকর্ম দেখে বুঝতে পারছিলেন। কারণ মমতা বিরোধী রাজনীতির সংজ্ঞাটাই বদলে দিচ্ছিলেন। সেই খবরের খুব প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। মামলা মোকদ্দমা হয়। সরকারও চাপের মুখে পুলিশ–প্রশাসনের বেশ কয়েকজন অফিসারকে সরিয়ে দিতে বাধ্য হয়।

মমতা দমলেন না। যেখানেই সিপিএমের অত্যাচার সেখানেই মমতা, এটা যেন বঙ্গ রাজনীতিতে স্বতঃসিদ্ধ হয়ে উঠল। সেটা গতি পেল ১৯৯০ সালের ১৬ আগস্ট। কংগ্রেসের ডাকে সেদিন বাংলা বনধ চলছিল। বনধের সমর্থনে হাজরা মোড়ে মমতার নেতৃত্বে মিছিল বেরোয়। সেই মিছিলের ওপর হামলা চালায় সিপিএমের ক্যাডার বাহিনী। মমতার মাথায় লাঠির বাড়ি পড়ে। তিনি গুরুতর আহত হন।

একদিনের ঘটনার কথা বলি, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মমতার শারীরিক অবস্থা সেদিন খুব খারাপ। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের কর্তারা চাইছেন, কাগজে যেন সে খবর ছাপা না হয়। তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন, মমতার অবস্থা গুরুতর, ওইরকম খবরে আগুনে ঘি পড়বে। কারণ পরিস্থিতি তখন উত্তপ্ত। মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু উপলব্ধি করেছিলেন, কোথাকার জল কোথায় গড়াতে পারে। তাঁর নির্দেশে পুলিশ রাতারাতি লালু আলম–সহ হামলাবাজ সিপিএম কর্মীদের গ্রেফতার করে। রাজ্যের পরিস্থিতি তখন অগ্নিগর্ভ।

সেবার হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেই মমতা জেলা সফরের সিদ্ধান্ত নিলেন। চিকিৎসকেরা তাঁকে বার বার করে বললেন, এখন এত শারীরিক ধকল নেওয়া ঠিক হবে না। উনি শুনলেন না। প্রথম সভা হল ব্যারাকপুরে। এইভাবে উত্তরদিকে এগোতে এগোতে উত্তরমুখী ঝড় আছড়ে পড়ল বহরমপুরে। কোনও জেলা শহরে অতবড় সমাবেশ আমি আর দেখিনি। কাতারে কাতারে মানুষ মমতার ভাষণ শুনতে বহরমপুর শহরে জড়ো হয়েছিলেন। এর একটা কারণ হল, সাধারণ কংগ্রেসের কর্মী–সমর্থকেরা মনে করছিলেন, হাজরার ঘটনা পরিকল্পিত এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হত্যার চেষ্টাই হয়েছিল সেখানে। ফলে কংগ্রেসের মূল স্রোত মমতার দিকে ঢলে পড়ে।

এইভাবে জেলাসফর করতে করতে স্থানীয় নেতাদের অভিজ্ঞতা শুনে মমতা নিশ্চিত হন শুধু সন্ত্রাসের বিরোধিতা করলেই চলবে না, নির্বাচন নিয়েও মুখর হতে হবে। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, ভোটের কারচুপিটাই সিপিএমের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। তিনি দাবি তোলেন, সচিত্র পরিচয়পত্র ছাড়া ভোট হবে না। কারণ রামের ভোট শ্যাম, শ্যামের ভোট যদুর দিয়ে দেওয়াটা পশ্চিমবঙ্গে একটা নিয়মে পরিণত হয়েছিল। তিনি দাবি তুললেন, নো কার্ড নো ভোট। দেশের মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার তখন টিএন সেশন। তিনি সেশনের কাছে এই দাবি পেশ করে এসে রাইটার্স বিল্ডিং অভিযানের ডাক দিলেন। সেটাই ঐতিহাসিক ২১ জুলাই। বাংলার রাজনীতিতে একটা মাইলস্টোন।

সেদিন কেউ কল্পনা করতে পারেননি, মমতার ডাকে অত মানুষ জড়ো হবেন। দিশাহারা অবস্থা হয়েছিল পুলিশের। রাইটার্স বিল্ডিংয়ের চারপাশে যুব কংগ্রেস কর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। মমতা বাড়ি থেকে বেরিয়ে সবগুলি জায়গায় যান। তারপর ব্রেবোর্ন রোডে টি–বোর্ডের সামনে উপস্থিত হন। সেখানেই পুলিশের লাঠি ও টিয়ারগ্যাসে গুরুতর অসুস্থ হন তিনি। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মমতার কোমরে যে ব্যথা, তার সূত্রপাত হয়েছিল সেদিন। লাঠির বারি, টিয়ার গ্যাস, ধাক্কাধাক্কিতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। একটা অ্যাম্বাসাডরের পিছনের সিটে তাঁকে শুইয়ে দেওয়া হয়। পা দুটো বাইরে বেরিয়ে ছিল। ফলে অ্যাম্বাসেডর একটা দরজা খোলা ছিল। দরজার পাল্লাটা পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটা পুলিশ ভ্যানের গায়ে ধাক্কা খায়। তাতে পাল্লাটা সজোরে এসে পায়ে ধাক্কা দেয়। তাতেই কোমরে চোট লাগে তাঁর। সেই থেকে ব্যথা। এখনও সরেনি।

হাসপাতালে বসেই তিনি নিহতদের পরিবার এবং আহতদের নিয়ে কী করা যায়, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করে দেন। একটা তহবিল গঠন করা হয়, আক্রান্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর জন্য। মমতা সেই থেকে এখনও ওই পরিবারগুলির সঙ্গে আছেন।

১৯৯০ সালের ১৬ আগস্ট যেমন মমতার রাজনৈতিক জীবনের একটা মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল, তেমনই ছিল ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই। একদিকে সিপিএম ও প্রশাসন তাঁর ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত। অন্যদিকে ঘুম ছুটেছে কংগ্রেস নেতাদের। তাঁরা বুঝতে পারছিলেন মমতাকে ঠেকিয়ে রাখা অসম্ভব। তাঁদের নেতৃত্ব ক্রমশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে শুরু করল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতিতে এই গ্রহণযোগ্যতার মূলে আছে, তাঁর অর্ডিনারি লাইফ। দিল্লির প্যালেস রাজনীতিতেও তিনি সাদামাটা ঘরের মেয়ে হিসেবেই নিজেকে তুলে ধরেছেন। বিরোধী দলেরও অনেক মানুষের তিনি শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন তাঁর এই অর্ডিনারি জীবনের জন্যই। সাধারণ কর্মীদের চোখেও তিনি যে দিদি, বোন, মা হতে পেরেছেন, তার কারণ তিনি সবার সঙ্গে মিশতে পারেন। সবাইকে কাছে টেনে নিতে জানেন।

২৮ বছর আগে, ২১ জুলাই ময়দানে যে কর্মীরা এসেছিলেন, তাঁদের অনেকের মধ্যেই এই ধারণা ছিল, সত্যি সত্যিই মহাকরণ দখল করে নেওয়া সম্ভব। সেই বিশ্বাস এবং সংকল্প নিয়েই তাঁরা পুলিশের লাঠি–গ্যাস উপেক্ষা করে এগোচ্ছিলেন। শেষে পুলিশের গুলিতে প্রাণ দেন ১৩ জন।

ওই ঘটনার পর, সিপিএম মমতাকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী নেত্রী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা শুরু করে। কিন্তু যেটা আশ্চর্যের তা হল, ওইসব দিনে রাজ্য কংগ্রেসে ওই একজনই ছিলেন, যার কথা সাধারণ কর্মীরা বিশ্বাস করতেন। সেই ধারা আজও বহমান। আর একটা দিক হল মমতার পরোয়া না করার মানসিকতা। এটার জোরেই তিনি বিগত তিন দশক রাজ্য রাজনীতির শিখরে বিরাজ করছেন।

(লেখক বিজেপি নেতা, তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক ও সাংবাদিক)

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More