বাবরি ধ্বংসের তিন দশক, দায় নিল না কেউ, সুযোগ নিল সবাই

0

অমল সরকার

আজ ৬ ডিসেম্বর। স্বাধীন ভারতের সবচেয়ে কলঙ্কময় দিনটি তিন দশক ছুঁতে চলেছে কাল। দেশভাগের পর উপমহাদেশে বাবরি সমজিদ ধ্বংসের মতো যন্ত্রণাময়, মাথা হেঁট করে দেওয়া ঘটনা আর একটিও নেই। ৪৫ বছরের ব্যবধানের সংঘঠিত ঘটনা দুটির প্রথমটি ছিল ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ। দ্বিতীয়টির লক্ষ্য ছিল ভারতকে হিন্দুরাষ্ট্র বানানো। বাবরি ধ্বংস পরবর্তী দিন দশকের মাথায় বলাই যায়, হিন্দু রাষ্ট্র হওয়ার আর বাকি কী আছে! এই তিন দশক বরং দেখতে, চিনতে শেখালো হিন্দুত্ববাদীরা শুধু গেরুয়া শিবিরে নয়, আছে রাজনীতির সব অঙ্গনেই।

১৯৯৩ থেকে ৬ ডিসেম্বর কালা দিবস হিসাবে পালিত হয়ে আসছে। সেই বিষয়েই দিন কয়েক আগে অযোধ্যার কয়েকজন পরিচিতর সঙ্গে ফোনে কথা হচ্ছিল। তাঁরা বলছিলেন, গত বছর করোনার কারণে প্রকাশ্য কর্মসূচির অনুমতি চাওয়ার প্রশ্নই ছিল না। এবার করোনা বিধির কড়াকড়ি তেমন একটা নেই বটে। কিন্তু কালা দিবস পালনের ডাক দেয়নি কোনও সংগঠন।

দিনটি পালনে বরাবর সক্রিয় একজন আক্ষেপে করে বললেন, ‘কী হবে প্রতিবাদ করে? কে শুনবে আমাদের কথা? প্রশাসন তো বলছে, আদালতে ফয়সালা হয়ে গিয়েছে। দু-পক্ষ মেনে নিয়েছে।’ তারপর যোগ করলেন, ‘আদালতের হস্তক্ষেপটাই সবচেয়ে বড় ষড়যন্ত্র।’

অযোধ্যায় মন্দির-মসজিদ বিবাদের সূচনা ১৮৮৫-তে। তারও আড়াইশো বছর আগে মসজিদের জায়গায় মন্দির ছিল কিনা সেই বিতর্কের ফয়সালায় ব্রিটিশ বিচারকেরা মামলা ফিরিয়ে দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছিলেন, তথ্য-প্রমাণ ছাড়া স্রেফ বিশ্বাসের ভিত্তিতে কীভাবে এই দাবির সুরাহা হতে পারে?

অথচ স্বাধীন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ‘বিশ্বাস’য়েই সিলমোহর দিল। বিতর্কিত জমিতে রামমন্দির তৈরির ব্যবস্থাও করে দিল আদালত। রব উঠল, সাধু সাধু। করোনা-লকডাউনের গোটা দেশ যখন ঘরবন্দি, প্রধানমন্ত্রীর তখন ঘটা করে মন্দিরের শিলান্যাস করা নিয়েও কেউ মুখে রা কাড়ল না। সেই অযোধ্যায় এখন সব দলের পলিটিক্যাল ট্যুরিজম শুরু হয়েছে।

কিন্তু কেউ কি মনে রাখল, আদালত অযোধ্যা নগরীতেই পাঁচ একর জমি মসজিদের জন্যও বরাদ্দ করতে বলেছিল। রায়দানের সময় অযোধ্যা ছিল ফৈজাবাদ শহরের অন্তর্গত। রায় ঘোষণার পর জেলার নামটাই বদলে দিয়ে করা হয় অযোধ্যা। তারপর মসজিদের জন্য অযোধ্যায় জমি বরাদ্দ হল বটে, তবে অযোধ্যা নগরীতে নয়, সেখান থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে। অর্থাৎ প্রাচীন শহরটির গা থেকেই বাবরির স্মৃতি মুছে ফেলার চেষ্টা হল। এমনও সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেই মসজিদের নাম আর যাই রাখা হোক, বাবরি রাখা হবে না। ‘বাবরি মসজিদ’ যেন আজ নিষিদ্ধ শব্দবন্ধ।

এ নিয়ে হিন্দুত্ববাদীদের দিকে আঙুল তোলার সময় খেয়াল রাখা জরুরি, আদালতের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ট দেখানো, মুসলিমদের প্রতি এই অবিচারের বিরুদ্ধে কোনও প্রতিবাদ নেই। যেমন, দিনের বেলায় পুলিশ-প্রশাসন- সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষী রেখে হাজার হাজার মানুষ সাড়ে পাঁচশো বছরের একটা নির্মাণকে ভেঙে গুড়িয়ে দিল, আদবাণী ও সম্প্রদায়ের উপস্থিতিতে স্লোগান ভেসে এল, ‘এক ধাক্কা আউর দো, বাবরি মসজিদ তোড় দো,’ অথচ, তিন দশকের মাথায় আদালত একজনকেও দোষী সাব্যস্ত করল না। সিবিআই নাকি কারও বিরুদ্ধেই তথ্য প্রমাণ হাজির করতে পারেনি।

অযোধ্যার সেই পরিচিতজন এ সব প্রসঙ্গ টেনেই বলছিলেন, ‘এই যখন পরিস্থিতি, তখন কী হবে প্রতিবাদ করে? জলে বাস করে কি কুমীরের সঙ্গে লড়াই করা চলে!’ কথাটা বারে বারে বলে ভদ্রলোক বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন কী পরিমান প্রতিবাদ জমা হয়ে আছে তাঁর বুকে।

বাবরি ধ্বংস পরবর্তী তিন দশক জুড়েই এমন অসংখ্য দীর্ঘশ্বাস। সেই রাতেই প্রধানমন্ত্রী নরসিংহ রাওয়ের প্রতিশ্রুতি ছিল, এক বছরের মধ্যে মসজিদ পুননির্মাণ করে দেওয়া হবে। অথচ দিন যত গড়াল, সরকারের উঠোন থেকে বিবাদ ততই ঠেলে দেওয়া হতে লাগল আদালতের আঙিনায়।

আদালত গোড়ায় একাধিকবার বলল, এ নিয়ে বিচার বিভাগের কী করার আছে? সংসদকেই এই বিতর্কের বিহীত করতে হবে। অর্থাৎ বল ফেরৎ পাঠাল সরকারের কোর্টে। গোড়ায় মন্দিরবাদীরাও আদালতের হস্তক্ষেপের বিরোধিতায় অনড়। ক্ষমতার অলিন্দে অধিষ্ঠানের পর আদালতের প্রতি তাদের অগাধ আস্থা সত্যিই বিস্ময়কর।

ততদিনে অবশ্য মন্দির-মসজিদ বিবাদ ঘিরে রাজনীতির সবটুকু সুবিধাই নিংড়ে নেওয়া হয়ে গিয়েছে। তিন দফা মিলিয়ে বাজপেয়ী ছয়-সাড়ে ছয় বছর প্রধানমন্ত্রী। নরেন্দ্র মোদীর দ্বিতীয় দফা চলছে। বাজপেয়ীর মতো তিনিও জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠ। রাজ্যে রাজ্যেও বাজপেয়ী-মোদীর দল ক্ষমতায়। অযোধ্যা বিবাদকে তাই আদালতের আঙিনায় ঠেলে দেওয়ার পাশাপাশি ধর্ম ও রাজনীতির নয়া নির্মাণ শুরু হয়েছে সেই উত্তরপ্রদেশেই।

৬ ডিসেম্বর, ১৯৯২। বছর কুড়ির তরুণ অজয় সিং বিস্ত তখন গাড়ওয়ালে হেমবতী নন্দন বহুগুণা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের ছাত্র। তিনিই আজকের যোগী আদিত্যনাথ, বিজেপির মোদী-নম্বর টু। বাবরি ধ্বংস কালে গৃহত্যাগী নরেন্দ্র মোদী একজন করসেবক এবং আরএসএসের প্রচারক। সবাই দেখল, বাবরি ধ্বংসের এক দশকের মাথায় গুজরাট দাঙ্গায় মুখ্যমন্ত্রী মোদীর বিতর্কিত ভূমিকাই রাজনীতিতে তাঁর পরবর্তী সফরকে কেমন নিষ্কণ্টক করে দিল। নইলে যে মানুষটি বাবরি ধ্বংসের আগেই অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের দাবিতে দেশব্যাপী রথ ছোটালেন, বিজেপি তাদের সেই ‘লৌহ পুরুষ’ লালকৃষ্ণ আডবাণীকে দূরে ঠেলে নরেন্দ্র মোদীকে বেছে নেবে কেন?

ওদিকে, গো-মাংস নিয়ে বিধিনিষেধ আরোপ, ঘর-ওয়াপসি, লাভ জিহাদ মোকাবিলার মতো একের পর এক বিতর্কিত পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় মেরুকরণকে রসদ জুগিয়ে চলেছে যোগীর সরকার। মঠের আসন থেকে যোগীর মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে উত্তরণেও সিঁড়ি সেই মন্দির রাজনীতিই। রাজনীতিতে যে সাধু-সন্তদের আমরা নেতার মাথায় হাত রেখে দোয়া, আশীর্বাদ করতে দেখেছি, এখন তারাই নেতা। রাজনীতির চালিকাশক্তি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক পার্টি বলে দাবি করা বিজেপি সাধু সমাজের নির্ভরযোগ্য পুনর্বাসন কেন্দ্র।

ওদিকে, দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে মোদী সজোরে ব্যাট চালাতে শুরু করেছেন। কাশ্মীরে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ, সংশোধিত আইন চালু করে নাগরিকত্বে হিন্দু-মুসলিম বিভাজন টেনে আনা, তারও আগে তিন তালাক বিরোধী আইন পাশ করিয়ে কার্যত দেশে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর গোড়াকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে বিজেপি। এরপর হিন্দু রাষ্ট্র ঘোষণার আর কী-ই বা বাকি আছে! বিজেপি নেতা সুব্রহ্মমণ্যম স্বামীকে ক’দিন আগে এক সাক্ষাৎকারে আনন্দের সঙ্গে বলতে শুনলাম, ‘এরপর আর সংবিধান বদলানোর প্রয়োজন দেখছি না।’

আজকের আলোকে বাবরি ধ্বংস পরবর্তী তিন দশকের রাজনীতিকে আর খানিকটা তলিয়ে দেখা দরকার। তার জন্য খানিক পিছনের দিকে তাকানো যাক। শাহ বানু মামলায় (বিবাহ বিচ্ছিন্না মুসলিম নারীর খোরপোসের দাবি) সুপ্রিম কোর্টের রায় পাল্টে দিয়ে হিন্দুদের রোষে পড়ে প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী আশ্রয় করলেন সেই অযোধ্যাকেই। হিন্দুদের দাবি মেনে বন্ধ বাবরি মসজিদের তালা খুলে দিয়ে পুজাপাঠের সুযোগ করে দিলেন।

রাম মন্দির নির্মাণের দাবিতে আন্দোলনরত বিশ্ব হিন্দু পরিষদ-সহ গোটা গেরুয়া শিবিরের কাছে কংগ্রেসি প্রধানমন্ত্রীর সেদিনের সিদ্ধান্তটি ছিল মেঘ না চাইতে বৃষ্টি। কালক্ষেপ করলেন না বাজপেয়ী-আডবাণীরা। ’৮৪-র ভোটে দুটি আসন পাওয়া বিজেপি ’৮৯-এ হয়ে গেল ৮৬। সংসদে, মাঠে ময়দানের সভায় অপ্রত্যাশিত সেই সাফল্য নিয়ে বাজপেয়ীকে তখন কাব্য করে বলতে শুনেছি, ‘ক্যায়সে ক্যায়সে অ্যায়সে অ্যায়সে হো গয়া, অ্যায়সে অ্যায়সে ক্যায়সে ক্যায়সে হো গয়া।’

অগ্রগতি ধরে রাখতে রাম রথ ছোটালেন আডবাণী। হিন্দুত্ববাদীদের রাস্তা আরও প্রশস্ত করে দিলেন আর এক কংগ্রেসি প্রধানমন্ত্রী—পিভি নরসিংহ রাও। বাবরি ধ্বংসের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত হাত গুটিয়ে বসে থাকলেন। যেন শেষ পিলারটি ধূলিসাৎ হওয়ার অপেক্ষা। রাতে দায় সারলেন উত্তরপ্রদেশের বিজেপির কল্যাণ সিং সরকারকে বরখাস্ত করে, যা দু’দিন আগে করলে হয়তো বাবরি মসজিদ অক্ষত রাখা যেত। বিভিন্ন সময় কেন্দ্রে আসীন কংগ্রেস সরকার ৪৯ বার নির্বাচিত রাজ্য সরকারগুলিকে তুচ্ছাতিতুচ্ছ কারণে বরখাস্ত (সংবিধানের ৩৫৬ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে) করেছে। উত্তরপ্রদেশে সেদিন সংবিধানের ওই অস্ত্রটি প্রয়োগ করলে অনুচ্ছেদটির একটি অন্তত সঠিক প্রয়োগের নজির স্থাপন করা যেত।

রাওয়ের কৃতকর্মের জন্য দল ক্ষমা চাইলেও কংগ্রেসের রাজনীতির ভীত, ভোটব্যাঙ্কের শিকড় ততদিনে অনেক অনেকটাই নড়ে গিয়েছে। রাজীবের মতো রাও-ও হয়তো ভেবেছিলেন, তাঁর বোবা-কালা অবস্থানে বাবরি ধ্বংস পরবর্তী রাজনীতিতে বাজপেয়ি-আদবানিদের হাত থেকে হিন্দুত্বের তাসটি খসে পড়বে। হিসাব মেলেনি।

বাবরি ধ্বংসের আগেই রাম রথে সওয়ার আডবাণীকে গ্রেফতার করে লালুপ্রসাদ যাদব বিহারে ধর্ম ও জাতপাতের নয়া সমীকরণ মজবুত করে নেন। কিন্তু রামরথ কেন বাম শাসিত বাংলার প্রান্ত (পুরুলিয়ার ঝালদা) ছুঁয়ে চলে গিয়েছিল, কেন বাংলার পুলিশ রথ থামায়নি, এ সব প্রশ্ন, সন্দেহ, সংশয় মান্যতা পেয়েছিল বিশ্বনাথপ্রতাপ সিংয়ের সরকারকে বাম-বিজেপির সমর্থন এবং জ্যোতি বসুর সঙ্গে আডবাণী-বাজপেয়ীদের ব্যক্তিগত সখ্য।

রাজনীতির রূপ বদল ঘটল আরও অনেক রাজ্যে। কংগ্রেসের ভ্রান্ত রাজনীতি, দুর্বল নেতৃত্বের সুযোগ নিয়ে, তাদের উচ্চবর্ণের ভোটে ভাগ বসিয়ে নয়ের দশকের শুরুতেই উত্তরপ্রদেশে জোট করে ক্ষমতায় চলে এল বিজেপি। অন্যদিকে, হাত চিহ্নের সমর্থক দলিত, হরিজন, মুসলিম ভোটে থাবা বসিয়ে সমাজবাদী পার্টি গড়লেন মুলায়ম সিং যাদব। পাদপ্রদীপের আলোয় এলেন দলিত নেত্রী মায়াবতী। অল্পদিনের ব্যবধানে সরকারও গড়ে ফেললেন তাঁরা। বাবরি পরবর্তী মুম্বই দাঙ্গার আবহে মহারাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো রাজ্য সরকার গঠন করল শিবসেনা। ওড়িশায় শেষ কথা হয়ে উঠলেন বিজু পট্টনায়ক। বিহারে লালুপ্রসাদ গডে় নিলেন নিজের পার্টি রাষ্ট্রীয় জনতা দল। কর্নাটক, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশে অকংগ্রেসি শক্তি আরও শক্তিশালী হল।

সেই পর্বেই রাজ্যে রাজ্যে কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধরা বিদ্রোহ শুরু করলেন। বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তামিলনাড়ুতে জিকে মুপানাররা নিজেদের দল গড়লেন। তাঁদের পাশে পেতে ঝাঁপিয়ে পড়ল বিজেপি। বাবরি পরবর্তী রাজনীতির অঙ্ক মেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও নতুন দল নিয়ে আডবাণী-বাজপেয়ীদের হাত ধরেলন। তার আগেই বিহারে লালুপ্রসাদকে ত্যাগ করে সমতা পার্টি গড়ে বিজেপির হাত ধরেন নীতীশ কুমার।

বাংলায় তৃণমূলের জন্ম কংগ্রেসের কবর খোঁড়ার পাশাপাশি বামফ্রন্ট সরকারের আয়ুও বাড়িয়ে দিল। নইলে ভোট ভাগাভাগির সুবিধা ছাড়া বামফ্রন্ট সরকারের ৩৪ বছর টিকে যাওয়ার আর বিশেষ কোনও কারণ ছিল না। এমনকী সাচার কমিটির রিপোর্টে স্পষ্ট হয়েছিল, বাম ভোট ব্যাঙ্কের সবচেয়ে শক্তিশালী পিলার সংখ্যালঘুরাই বঞ্চিত বেশি। বিজেপি-জুজুর নিখুঁত প্রয়োগ।

মন্দির-মসজিদ রাজনীতির তিন দশক আসলে এমনই সব ষড়যন্ত্র আর সুবিধাবাদের আখ্যান। আডবাণী হয়তো এই ভেবে অনুশোচনা করেন, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে রামরথ ছুটিয়ে, দাঙ্গা, মৃত্যুর অপবাদ নিয়ে আমি কী পেলাম। আর অযোধ্যার সেই মানুষটির কথাই বুঝি তামাম হিন্দুস্থানের মুসলিমদের মনের কথা, প্রতিবাদ করে কী হবে? জলে বাস করে কি কুমিরের সঙ্গে লড়াই করা চলে?

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.