মমতা ও দিলীপ, দু’জনেরই সংযত হওয়া দরকার

0

প্রতিবারের মতো এবারও ভোটে খুচখাচ গন্ডগোল হচ্ছিল, মনে হচ্ছিল এভাবেই কেটে যাবে ভোটপর্ব, আচমকা শীতলকুচিতে একটা বড় ঘটনা হয়ে গেল। শনিবার চতুর্থ দফার ভোটে কোচবিহারের শীতলকুচিতে পাঁচজন নিহত হলেন। তারপর থেকে দোষারোপ, পাল্টা দোষারোপে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজ্য। মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করা নতুন কিছু নয়। এবারও তাই হচ্ছে।

শনিবার সকালে শীতলকুচিতে দু’টি পৃথক ঘটনায় পাঁচজন মারা যান। প্রথমে গোলেনাওহাটির পাঠানটুলির বুথে দুষ্কৃতীদের গুলিতে আনন্দ বর্মণ নামে একজনের মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স ছিল ১৮। জীবনে প্রথমার ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন।

তার একটু পরেই জোড়পাটকি অঞ্চলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে মারা যান চারজন। তাঁরা হলেন হামিদুল মিয়াঁ, ছামিউল হক, মনিরুজ্জামান মিয়াঁ এবং নুর আলম হোসেন। তাঁরা কেরলে কাজ করতেন। ভোট দেবেন বলে বাড়ি এসেছিলেন।

ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে মৃত্যুর কথা আগে বিশেষ শোনা যায়নি। নির্বাচন কমিশন তড়িঘড়ি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, উত্তেজিত জনতা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আক্রমণ করেছিল। আত্মরক্ষার্থেই বাহিনী গুলি চালিয়েছে। এক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেছে, গুলি চালানোর আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী কি লাঠিচার্জ করেছিল? কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছিল? জনতাকে হটানোর জন্য গুলি চালানোর আগে যা যা করা যেতে পারত, তা কি করা হয়েছিল?

এই নিয়ে বিতর্ক আপাতত চলতেই থাকবে। কিন্তু একটা কথা পরিষ্কার। জনতা নিশ্চয় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘিরে ফেলেছিল। উত্তেজনার বশে খারাপ কিছু ঘটাতে যাচ্ছিল। নাহলে জওয়ানরা গুলি চালাবেন কেন?

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছুদিন আগেই জনতার উদ্দেশে আহ্বান জানিয়েছিলেন, প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘিরে ফেলুন। শীতলকুচির জনতা তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়েছিল। তাই চারটি প্রাণ অকালে ঝরে গেল।

আমাদের রাজনীতিকরা কোনওদিনই খুব একটা দায়িত্বশীল নন। তাঁদের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের মূল্য দেয় সাধারণ মানুষ। শীতলকুচিতেও তাই হয়েছে।

কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে তৃণমূলের এত আপত্তির কারণ কি? কংগ্রেস বা সিপিএমের মতো দলও তো ভোটে লড়ছে। কয়েকটা আসন নিশ্চয় তারাও পাবে। তাঁদের দলের নেতা-নেত্রীরা তো কেউ কেন্দ্রীয় বাহিনীকে শত্রু মনে করছেন না?

যে কোনও মৃত্যুই দুঃখজনক। শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁরা কেউ দাগি অপরাধী নন। হয়তো উত্তেজনার বশে কিছু একটা করে ফেলেছিলেন। তাঁদের মৃত্যুতে দুঃখপ্রকাশ করাই স্বাভাবিক। কিন্তু দিলীপ ঘোষরা শীতলকুচি নিয়ে যা বলছেন, তাও খুবই আপত্তিকর।

দিলীপবাবু বলছেন, জায়গায় জায়গায় শীতলকুচি হবে। তাঁর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সরব হয়েছেন বিজেপির অন্যান্য নেতা। শুভেন্দু অধিকারী বিদ্রুপের সুরে বলছেন, শীতলকুচিতে মৃত চারজনের বাড়িতে ফোন করে খবর নেওয়া হয়েছে। তারা দুধেল গাই। রাহুল সিনহা আস্ফালন করে বলছেন, কেন আটজনকে মারা হল না? সায়ন্তন বসু বলছেন, একজনকে মারলে চারজনকে মারব।

এসব কী ধরনের কথা? বিজেপি নেতারা কি বদলার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন? সবচেয়ে বড় কথা, দিলীপ ঘোষ বা অপর বিজেপি নেতারা কি কেন্দ্রীয় বাহিনীর কর্তা? বাহিনী কোথায় গুলি চালাবে না চালাবে, তা কি তাঁরা ঠিক করে দেবেন?

ভোট একটি শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। এক্ষেত্রে নেতা-নেত্রীদের সংযত থাকা উচিত। ভোট মানে গৃহযুদ্ধ নয়। কেউ যদি কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে উস্কানি দেন অথবা আরও মানুষ মারা হবে বলে আস্ফালন করেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে তাঁদের স্থান হতে পারে না।

You might also like
Leave A Reply

Your email address will not be published.