এই হিংসা থামানোর দায়িত্ব তৃণমূলকেই নিতে হবে

বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, ‘মড়ার ওপরে খাঁড়ার ঘা’। তার অর্থ হল, এমনিতেই যার দুর্দশার অন্ত নেই, তাকে আরও বিপদের মধ্যে ফেলা। আমাদের রাজ্যের অবস্থা হয়েছে তাই। এখানে দৈনিক ১৭ হাজারের বেশি মানুষ অতিমহামারীর কবলে পড়ছেন। মারাও যাচ্ছেন অনেকে। তার ওপরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক গোলমাল ও খুনোখুনি। ভোটের প্রচার পর্বেই বেশ অশান্তি হয়েছিল। ফলপ্রকাশের পরে দিন দু’য়েকের মধ্যে ১১ জনের প্রাণ গিয়েছে। অবিলম্বে এই হানাহানি বন্ধ না হলে ক্ষয়ক্ষতি তথা প্রাণহানি যে বাড়বে বলাই বাহুল্য।

রবিবার ভোটগণনা শেষ হওয়ার আগেই কাঁকুড়গাছিতে বিজেপির এক কর্মীকে পিটিয়ে মারা হয়। স্বাভাবিক কারণেই অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। রবিবার রাতেই সোনারপুরে প্রাণ হারিয়েছেন আর এক বিজেপি সমর্থক। ভোটগ্রহণপর্বে কোচবিহারের শীতলকুচিতে কয়েকজনের প্রাণ গিয়েছিল। ভোটের পরেও সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন মারা গিয়েছেন। যতদূর জানা যাচ্ছে, তিনি নিজে রাজনীতি করতেন না। দুই দলের গণ্ডগোলের মধ্যে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন। কোচবিহারের দিনহাটায় আরও এক বিজেপি কর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুর, হুগলির খানাকুল, নদিয়ার গাংনাপুর থেকেও খুনোখুনির খবর এসেছে। নন্দীগ্রামের কয়েকটি অঞ্চলে বিজেপি কর্মীদের বাড়িঘর-দোকানপাট ভাঙচুর হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে।

বিজেপির অভিযোগ, হাওড়া, বীরভূম, উত্তর দিনাজপুর, কলকাতার কাছে রাজারহাট-গোপালপুর, বিধাননগরেও তাদের কর্মী-সমর্থকরা আক্রান্ত হয়েছেন।

সব ক্ষেত্রেই যে তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠছে তা নয়। বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধেও বোমাবাজি, খুনখারাপির অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। এমনকি যে দলটি মাত্র একটি আসন পেয়েছে, সেই আইএসএফের বিরুদ্ধেও হামলা চালানোর অভিযোগ আছে। যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে আছেন বিজেপির পাঁচজন, তৃণমূলের চারজন এবং আইএসএফের একজন। মৃতের এই খতিয়ান দেখে মনে হয়, ভোটে জেতার পরে তৃণমূল কর্মীরা মারপিট করছে ঠিকই, কিন্তু ব্যাপারটা একতরফা হচ্ছে না। যে যেখানে পারছে, সেখানেই বিরোধীদের নিকেশ করে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

যাঁরা সিপিএমের আমল দেখেছেন, তাঁদের মনে আছে, তখনও ভোটের পরে এইরকম অশান্তি হত। সিপিএমের আক্রমণে কত মানুষ ঘরছাড়া হতেন। মাসের পর মাস বাড়ির বাইরে কাটানোর পরে মুচলেকা দিয়ে তাঁদের বাড়ি ফিরতে হত। সেইসব দেখে দেখে বিরক্ত হয়ে গিয়েছিল রাজ্যের মানুষ। তাই পরিবর্তন জরুরি হয়ে উঠেছিল। তৃণমূলের জমানাতেও সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হোক, মানুষ চায় না।

এবার ভোটে বিপুলভাবে জয়ী হয়েছে তৃণমূল। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বীকার করেছেন, এত বড় ব্যবধানে জয় আশাতীত ছিল। রাজ্যের বৃহত্তম দল হিসাবে তৃণমূলকে দায়িত্বশীল হতে হবে। হিংসা থামানোর জন্য তাদেরই উদ্যোগ নিতে হবে বেশি।

যে বড় তাকে বেশি সহ্য করতে হয়। তৃণমূলের নেতানেত্রীরা এই কথাটি মনে রাখলে রাজ্যের মঙ্গল। না হলে এই হানাহানি কোথায় শেষ হবে কে বলতে পারে।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More