ঋণে নুয়ে পড়া পাকিস্তান নগদ সাহায্য করতে চায় ভারতকে, প্রস্তুাব শুনে ইমরানকে কড়া জবাব

এমনিতেই পাকিস্তানের অর্থনীতির বেহাল অবস্থা। ঋণের ভারে নুয়ে পড়েছে পাক সরকার। করোনা মারে আরও বেহাল দশা। ক'দিন আগে দেশের লকডাউন তুলে নেওয়ার পরে নিজেই সেকথা বলেছেন ইমরান খান। কিন্তু তাতে কী হবে, ভারত বিরোধিতায় কোনও খামতি নেই। টাকা থাক বা না থাক অহং দেখিয়েছেন খান। সেই দর্প চূর্ণ করে দিল ভারত।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লক্ষ্যটা আদৌ সাহায্য করার নয়, কটাক্ষ করার। আর সেই উদ্দেশেই বৃহস্পতিবার এক টুইট করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বলেন, করোনা মোকাবিলায় ‘নগদ হস্তান্তর’ করে ভারতকে মদত করতে চান তিনি। জবাব দিতে কালবিলম্ব করেনি ভারত। বিদেশমন্ত্রক জানিয়ে দিল, শুধু করোনা মোকাবিলায় কেন্দ্র যে প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সেটাই পাকিস্তানের জিডিপি’র সমান।

এমনিতেই পাকিস্তানের অর্থনীতির বেহাল অবস্থা। ঋণের ভারে নুয়ে পড়েছে পাক সরকার। করোনা মারে আরও বেহাল দশা। ক’দিন আগে দেশের লকডাউন তুলে নেওয়ার পরে নিজেই সেকথা বলেছেন ইমরান খান। কিন্তু তাতে কী হবে, ভারত বিরোধিতায় কোনও খামতি নেই। টাকা থাক বা না থাক অহং দেখিয়েছেন খান। সেই দর্প চূর্ণ করে দিল ভারত।

নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে বৃহস্পতিবার ভরতের আর্থিক অবস্থা নিয়ে কটাক্ষ করেন ইমরান খান। তিনি নরেন্দ্র মোদী সরকারের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বলেন, ভারতের ৩৪ শতাংশ পরিবার অসহায়। তাই তিনি নগদ টাকা ট্রান্সফার করতে চান।

আরও পড়ুন

লকডাউনে যারা মাইনে দিতে পারেনি, জুলাই পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নয়: সুপ্রিম কোর্ট

ভারতের পক্ষে এর জবাবে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন, “আমরা সবাই জানি তাদের (পাকিস্তানের) ঋণের সমস্যা (জিডিপি-র প্রায় ৯০ শতাংশ) আর তা পরিশোধের জন্য চাপের কথা। আর এটা তাদের মনে রাখা উচিত যে ভারত সরকার করোনা মোকাবিলায় যে প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সেটা পাকিস্তানের জিডিপি-র সমান।”

অনুরাগ শ্রীবাস্তব সরাসরি না বললেও বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনকে আর্থিক সাহায্য পাঠানো নিয়েও কটাক্ষ করেন পাক সরকারকে। তিনি বলেন, “বিদেশের ব্যাংক অ্যাকউন্টে টাকা জমা করার জন্য পাকিস্তান বিশেষভাবে পরিচিত। তারা নিজেদের মানুষকে কখনও টাকা দেয় না। এটা স্পষ্ট যে ইমরানের খানের উচিত উপদেষ্টাদের পালটে আরও তথ্য সংগ্রহ করা।”

উল্লেখ্য, দেশে লকডাউন শুরু হওয়ার পরেই গরিবদের জন্য ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। এর পরে দেশের অর্থনৈতিক বিকাশের জন্যও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০ লাখ কোটি টাকা আর্থিক প্যাকেজর ঘোষণা করেছেন। অন্য দিকে, পাকিস্তান সরকারের দাবি মতো ইসলামাবাদ গরিবদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দিয়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা।

জুন মাসের গোড়াতেই পাকিস্তানে লকডাউন তুলে নেয় সরকার। সেই সময়ে ইমরান খান জানান, লকডাউনের ফলে পাকিস্তান সরকারের আয় ইতিমধ্যেই ৩০ শতাংশ কমেছে। তিনি বলেন, দেশের ফিসক্যাল ডেফিসিট ৯.৪ শতাংশে নামতে পারে। অন্যান্য দেশের মতো আর্থিক ক্ষতি মেনে নেওয়ার ক্ষমতা নেই পাকিস্তানের। তিনি বলেন, ১৩ থেকে ১৫ কোটি মানুষের ক্ষতি হয়েছে লকডাউনে। দেশে ৫ কোটি মানুষ দারিদ্রসীমার নীচে বাস করে, আড়াই কোটি দিন আনা দিন খাওয়া শ্রমিক। পাশে দাঁড়াতে তাঁদের হাতে নগদ টাকা দিয়েছে সরকার। কিন্তু সেটা চালিয়ে যাওয়া আর সম্ভব নয়। ইমরান বলেন, “আমাদের যা অবস্থা তাতে এটা আর সম্ভব নয়। কতদিনই বা টাকা দেওয়া যায়।” দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে সব কিছু খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “এই ভাইরাস আরও ছড়াবে। আমাকে দুঃখের সঙ্গেই বলতে হচ্ছে যে, আরও অনেক মৃত্যু হবে। যদি মানুষ নিজেকে নিয়ে সতর্ক থাকে তবে তাঁরা ভাইরাসকে সঙ্গে নিয়েই বাঁচবেন।”

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More