বৈশাখী উপলক্ষে হাজারেরও বেশি শিখ পুণ্যার্থীকে ভিসা দিল পাকিস্তান, সম্প্রীতির আলো দেখছে দুই দেশ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’মাস কেটে গেছে। সেপিয়ানের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর গোলাগুলির আওয়াজ ভেসে আসে না। সীমান্ত সংঘর্ষে কেঁপে ওঠে না বানিহালও। দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার জেরে উপত্যকা এখন আগের চাইতে অনেক শান্ত। স্বীকার করেছেন খোদ সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নাভরানে।

কিন্তু এবার শুধু সীমান্ত নয়। শান্তি আর সম্প্রীতির বার্তাকে দু’দেশের আমজনতার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হাত বাড়াল পাকিস্তান। মুখ ফিরিয়ে নেই ভারতও। উপলক্ষ বৈশাখী পার্বণ। শিখদের পবিত্র উৎসব। আগামী ১২ থেকে ২২ এপ্রিলের মধ্যে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা অগণিত শিখ ধর্মাবলম্বী মানুষ মেতে ওঠেন নববর্ষের এই পরবে। পাকিস্তানেও বৈশাখী ধুমধাম করে পালিত হয়। কাঁটাতারের বেড়া ডিঙিয়ে এদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ পা বাড়ান ওদেশে।

এবছর পরিস্থিতি আলাদা। চোখ রাঙাচ্ছে করোনা। বাড়ছে সংক্রমণ। তবু উৎসবের ক’দিন মানুষকে কাছে টানতে সীমান্তের ভ্রূকুটি তুলে দিচ্ছে ইসলামাবাদ। প্রতি বছরের মতো এবছরও বিশেষ ‘পিলগ্রিম ভিসা’-র ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আবেদন করেছিলেন অনেকে। তাঁদের মধ্য থেকে ১ হাজার ১০০ জনের ভিসার অনুমোদন দিয়েছে তারা। গতকাল ঘোষণা করে পাক হাই কমিশনার।

এই ব্যবস্থার সূত্রপাত অবশ্য ১৯৭৪ সালে। দ্বিপাক্ষিক প্রোটোকল মেনে বছরের এই বিশেষ দিনে পড়শি দেশে পাড়ি দেন অনেক পুণ্যার্থী। দিন দশেক ধরে চলে নানান অনুষ্ঠান ও আয়োজন৷

শিখদের কাছে বৈশাখীর মাহাত্ম্য কোথায়? ইতিহাস বলছে, ১৬৯৯ সালে এই দিনেই শিখ সম্প্রদায়ের দশম গুরু গোবিন্দ সিং খালসা প্রতিষ্ঠা করেন। সাধারণত ১৩ এপ্রিল, বৈশাখী অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যেক গুরুদোয়ারাতে এদিন পবিত্র ‘গ্রন্থসাহেব’ পাঠ করা হয়। ইদানীং ব্যক্তিগত কিংবা কোনও সংস্থার উদ্যোগে গ্রন্থসাহেব নিয়ে আয়োজিত হয় শোভাযাত্রাও। তরোয়াল হাতে পাঁচ জন ধর্মীয় নেতা (‘পঞ্চ পেয়ারে’) তার নেতৃত্ব দেন। কীর্তন, তলোয়ার খেলা এবং ভাংরা নাচের মাধ্যমে দিনটি আনন্দময় হয়ে ওঠে।

পাকিস্তানেও হিন্দুদের কাছে ভীষণ আবেগের এই পরব। অবিভক্ত পাঞ্জাবে কাটাস রাজের মাজারে বসত বৈশাখীর মেলা। যোগ দিতেন ১০ হাজার ভক্ত৷ একইভাবে বৈরাগী বাবা রাম থামানের মাজারেও নতুন বছরের মেলায় ৬০ হাজারেরও বেশি পুণ্যার্থী পা বাড়াতেন বলে জানা গিয়েছে। দেশভাগের পর হিন্দু জনস্রোত এদেশে চলে এলেও পীঠস্থানগুলির অধিকাংশই রয়ে গিয়েছে। আগের মতো ততটা বর্ণোজ্জ্বল জমায়েত না হলেও ভক্তমহলে টান কিন্তু এতটুকু কমেনি৷ যার প্রমাণ দেশ পেরিয়ে বিভুঁইয়ে যাওয়ার এই হিড়িক!

‘শিখদের নতুন বছরকে স্বাগতম জানাতে প্রস্তুত পাকিস্তান। তারই ছোট উপহার এই ভিসার অনুমোদন।’ — সরকারি বিবৃতিতে পাক হাই কমিশনার একথা জানিয়েছে। পাশাপাশি পুণ্যার্থীরা যাতে নিরাপদে মাজারগুলি ঘুরে দেখতে পারেন, তার জন্য সমস্ত ধরনের সাহায্য করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে সীমান্ত-সংঘর্ষ বিরতি চুক্তিতে সম্মত হয় দু’দেশ। তারপর থেকে জম্মু-কাশ্মীরে পাক হামলার খবর মেলেনি৷ এই ঘটনা গত পাঁচ বছরের মধ্যে এই প্রথম৷ জানিয়েছে সেনা বাহিনী৷ বৈশাখীর সওগাত এই শান্তিবার্তাকে আরও খানিকটা এগিয়ে নিয়ে যাবে। আশাবাদী দুই দেশ।

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More